পবিত্র হজ
গোলাম কিবরিয়া
প্রকাশ : ০৪ মে ২০২৬ ১২:২৫ পিএম
অলংকরণ : জয়ন্ত সরকার
বাংলাদেশ থেকে এ বছর ৭৮ হাজার ৫০০ জন পবিত্র হজ পালন করবেন। গত ১৭ এপ্রিল রাত ১১টা ৫৭ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৪১৮ জন হজযাত্রী নিয়ে প্রথম হজ ফ্লাইট (বিজি৩০০১) জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করে। ফ্লাইটটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এবার ৪ হাজার ৫৬৫ জন সরকারি ব্যবস্থাপনায় এবং ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যাবেন। হজ কার্যক্রম ব্যবস্থাপনায় ৩০টি প্রধান সংস্থা এবং ৬৩০টি সমন্বয়কারী সংস্থাসহ প্রায় ৬৬০টি সংস্থা জড়িত রয়েছে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সঙ্গে যা রাখবেন
পুরুষদের মক্কায় অজু-গোসল সেরে সেলাইবিহীন দুই টুকরা কাপড়ে ইহরামের নিয়ত করতে হবে। ইহরামের জন্য আড়াই হাত বহরের আড়াই গজ কাপড় বা রিদা এবং তিন গজ কাপড় বা ইজার একসেট পরতে হবে। অতিরিক্ত একসেট ইহরামের কাপড়, একসেট সাধারণ পোশাক, যেমন- শার্ট-প্যান্ট বা পাঞ্জাবি-পাজামা; পেস্ট, ব্রাশ, সাবান, মোবাইল ফোন ও চার্জার, নুসুক কার্ড, কোরবানির কুপন এবং মুজদালিফায় রাতে ঘুমানোর জন্য হালকা বিছানা একটি ছোট ব্যাগে নেবেন। হাজীদের নিজের ব্যাগ নিজেকে বহন করতে হয়। তবে খাবারের ব্যবস্থা মোয়াল্লেমরা করবেন। প্রত্যেক হাজীকে নুসুক কার্ড, মিনার তাঁবু নম্বর সংবলিত কার্ড দেওয়া হয়েছে, যা সব সময় গলায় ঝুলিয়ে রাখবেন।
মিনার অমূল্য রজনী
মিনায় পৌঁছলে চোখে পড়বে সারি সারি সুসজ্জিত তাঁবু। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এসব চৌচালা তাঁবুতে নারী ও পুরুষদের জন্য আলাদা থাকার ব্যবস্থা রাখা হয়। প্রত্যেকের জন্য বরাদ্দ থাকে ফোম, বালিশ ও কম্বল। ফোমের নিচে বালু থাকায় অনেকে নিজের সঙ্গে আনা চাদর বিছিয়ে তাতে ব্যাগ বা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রাখেন।
তাঁবুর ভেতরেই নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রয়েছে। জামাতের সময় সবাই নিজ নিজ ফোমের ওপর জায়নামাজ বিছিয়ে কাতারে দাঁড়ান। যারা দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করতে পারেন না, তাদের জন্য বসে নামাজ পড়ার সুযোগও থাকে। খাবারের ব্যবস্থাও সুসংগঠিত- বাইরে থেকে রান্না করে খাবার আনা হয়, পাশাপাশি আশপাশে বিভিন্ন খাবারের দোকানও পাওয়া যায়। মিনায় রাতযাপন হাজীদের জন্য একটি অমূল্য আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা। কারণ তখন তারা তাঁবুতে থেকে নামাজ, জিকির ও দোয়ার মাধ্যমে ইবাদতে মগ্ন থাকেন।
আবহাওয়া বার্তা অনুসরণ করুন
মিনা, মুজদালিফা ও আরাফাতে কখন কীভাবে যাত্রা করতে হবে, তা আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়। প্রতিবছর হজের সময় আবহাওয়া বার্তা প্রচার করা হয়। প্রতিদিনের স্থানীয় আবহাওয়া বার্তা দেখে নিতে পারেন।
মিনায় চলাচলে মানচিত্রের গুরুত্ব
মিনার বিশাল এলাকাজুড়ে নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য একটি মানচিত্র সঙ্গে রাখা অত্যন্ত সহায়ক। আগে থেকেই গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো সম্পর্কে ধারণা থাকলে পথ হারানোর আশঙ্কা অনেকটাই কমে যায়। মিনার উল্লেখযোগ্য স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে জামারা- যেখানে শয়তানকে প্রতীকীভাবে কঙ্কর নিক্ষেপ করা হয়। এ ছাড়া ঐতিহাসিক মসজিদে খায়েফ হাজীদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। চলাচলের সুবিধার্থে রয়েছে তিনটি প্রধান ব্রিজ- বাদশাহ খালেদ ব্রিজ (১৫ নম্বর), বাদশাহ আবদুল্লাহ ব্রিজ (২৫ নম্বর) এবং বাদশাহ ফয়সাল ব্রিজ (৩৫ নম্বর)।
এ ছাড়া টিনশেডে তৈরি নির্দিষ্ট হাঁটার পথ, মিনার রেলস্টেশন (মিনা ও মুজদালিফায় তিনটি করে) এবং বিভিন্ন সুড়ঙ্গপথ হাজীদের চলাচলকে আরও সহজ করে তোলে। প্রয়োজনীয় সেবার জন্য রয়েছে হাসপাতাল, পোস্ট অফিস, বাদশাহ বাড়ি, রাজকীয় অতিথি ভবন এবং মোয়াচ্ছাসা কার্যালয়। মিনার বড় সড়কগুলোর নাম ও নম্বর জানা থাকলে দিকনির্দেশনা বোঝা অনেক সহজ হয়। যেমন- বাদশাহ ফয়সাল ৫০ নম্বর সড়ক, আল-জাওহারাত ৫৬ নম্বর সড়ক, সুক্কল আরব ৬২ নম্বর সড়ক এবং বাদশাহ ফাহাদ ৬৮ নম্বর সড়ক। এসব তথ্য জানা থাকলে মিনার ভিড়ের মাঝেও নিজের গন্তব্য খুঁজে পাওয়া সহজ হয়ে ওঠে।
কোন কোন দোয়া মুখস্থ করবেন
কাবা শরিফকে কেন্দ্র করে সাতবার প্রদক্ষিণ করার ইবাদতকে তাওয়াফ বলা হয়। এটি হজ ও উমরাহর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আর সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মধ্যবর্তী পথে যাতায়াত করাকে বলা হয় সাঈ, যা হাজেরার (আ.) স্মৃতিবিজড়িত একটি তাৎপর্যপূর্ণ আমল। হজের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে যে বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া উচিত, তা হলো তালবিয়া। শুধু শব্দগুলো মুখস্থ করলেই যথেষ্ট নয়Ñ এর অর্থ ও তাৎপর্য বোঝাও জরুরি। কারণ, অর্থ বুঝে পাঠ করলে ইবাদতের গভীরতা অনুভব করা যায় এবং নিজের মন-প্রাণ আরও বেশি করে আল্লাহর প্রতি নিবেদিত হয়।
তালবিয়া
লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নি’ মাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারিকা লাক।
অর্থ : আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির; এই যে আমি। আর তোমার কোনো শরিক নেই। আমি হাজির। সব প্রশংসা ও কর্তৃত্ব শুধু তোমারই। আর তোমার কোনো শরিক নেই।