সাক্ষাৎকার : মো. জুয়েল রানা
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ এপ্রিল ২০২৬ ১২:১৫ পিএম
আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২৬ ১২:১৭ পিএম
মো. জুয়েল রানা, ম্যানেজার, ব্র্যান্ড মার্কেটিং ও কমিউনিকেশন, মিনিস্টার মাইওয়ান গ্রুপ
গরমের তীব্রতা থেকে রেহাই পেতে এয়ার কন্ডিশনারের (এসি) প্রতি মানুষের নির্ভরতা ক্রমশই বাড়ছে। প্রতিদিনের বাংলাদেশকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশে এই এসিবাজারের চাহিদা, এসি শিল্পের রপ্তানি সম্ভাবনা ও বিক্রয়োত্তর সেবার বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেছেন মিনিস্টার মাইওয়ান গ্ৰুপের ব্র্যান্ড মার্কেটিং ও কমিউনিকেশন ম্যানেজার মো. জুয়েল রানা
প্রশ্ন : চলতি বছর দেশে গ্রাহকদের এসি কেনার প্রবণতা ও চাহিদার ধরন কেমন দেখছেন? আপনার ব্র্যান্ড তাদের কাছ থেকে কেমন সাড়া পাচ্ছে?
উত্তর : চলতি বছরে দেশের এসির বাজারে গ্রাহকদের অংশগ্রহণ, তাদের চাহিদা ও কেনার প্রবণতা বেশ ইতিবাচক। তাপমাত্রা বৃদ্ধির লক্ষণের পাশাপাশি মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতাও বেড়ে যাওয়ায় এবং এসিকে এখন আর ‘লাক্সারি’ নয়, বরং প্রয়োজনীয় হোম অ্যাপ্লায়েন্স হিসেবে দেখার মানসিকতার কারণে সব মিলিয়ে বাজারে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এ বছর বিশেষ করে ইনভার্টার এসি, এনার্জি এফিশিয়েন্ট মডেল এবং স্মার্ট ফিচারসমৃদ্ধ ইউনিটের চাহিদা বেশি। গ্রাহকেরা এখন শুধু কুলিং পারফরম্যান্স নয়, বিদ্যুৎ সাশ্রয়, দীর্ঘমেয়াদি টেকসই ব্যবহার এবং বিক্রয়োত্তর সেবাকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন। আমাদের ব্র্যান্ডের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের সাড়া অত্যন্ত উৎসাহপ্রবণ। বিশেষ করে এই গরম মৌসুমে মিনিস্টারের শোরুম ও ডিলার নেটওয়ার্কে ক্রেতাদের উপস্থিতির হার বেড়েছে। ইনভার্টার সিরিজ, দ্রুত কুলিং, কম বিদ্যুৎ খরচ এবং আকর্ষণীয় কিস্তি সুবিধা গ্রাহকদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছে। একই সঙ্গে বিক্রয়োত্তর সেবা ও দ্রুত ইনস্টলেশন সুবিধা ব্র্যান্ডের প্রতি আস্থা আরও বাড়িয়েছে।
প্রশ্ন : ঈদুল আজহা তো বলতে গেলে চলে এসেছে। এ উপলক্ষে গ্রাহকদের জন্য কী ধরনের বিশেষ অফার বা ক্যাম্পেইন চালু করেছেন?
উত্তর : আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে আমাদের গ্রাহকদের জন্য বিশেষ ক্যাম্পেইন চালু করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সকল মডেলের এসিতে বিশাল মূল্যছাড়, এসির সাথে আকর্ষণীয় নিশ্চিত উপহার ও সহজ কিস্তি সুবিধা। পাশাপাশি আপনার ব্যবহৃত পুরাতন এসি এক্সচেঞ্জ করে বিশাল ডিসকাউন্টে মিনিস্টার এসি ক্রয়ের সুযোগ। শুধু অফার নয়, আমরা দ্রুত ডেলিভারি, ইনস্টলেশন সাপোর্ট এবং বিক্রয়োত্তর সেবা সুবিধাও যুক্ত করেছি, যাতে ঈদের আগে গ্রাহকেরা নিশ্চিন্তে তাদের পছন্দের এসি কিনতে পারেন।
প্রশ্ন : আপনার কোম্পানির এসির কী কী বৈশিষ্ট্য এবং সুযোগ-সুবিধা রয়েছে?
উত্তর : মিনিস্টার সব সময় আধুনিক প্রযুক্তি, বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং দীর্ঘস্থায়ী পারফরম্যান্সের ওপর গুরুত্ব দিয়ে থাকে। আমাদের এসিগুলো আধুনিক ইনভার্টার প্রযুক্তি, দ্রুত কুলিং পারফরম্যান্স এবং এনার্জি-এফিশিয়েন্ট অপারেশন সমৃদ্ধ, যা বাংলাদেশের আবহাওয়া ও ভোক্তার চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হয়েছে। আমাদের বিভিন্ন ইনভার্টার মডেলে স্মার্ট ওয়াইফাই কন্ট্রোল সুবিধাও রয়েছেÑ যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা স্মার্টফোনের মাধ্যমে সহজেই তাপমাত্রা ও অপারেশন নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। এ ছাড়া মিনিস্টার এসিতে রয়েছে টার্বো কুলিং, সেলফ ক্লিনিং সিস্টেম, ইকো মোড এবং এনার্জি সেভার সিস্টেমÑ যা ৭৫%পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পাশাপাশি ব্যবহারকারীর আরামকে আরও উন্নত করে। আমাদের বেশ কিছু মডেলে কোল্ড প্লাজমা পিউরিফায়ার এবং অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এয়ার ফিল্টার প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে, যা বাতাসকে আরও স্বাস্থ্যসম্মত রাখতে সহায়তা করে। টেকসই পারফরম্যান্স নিশ্চিত করতে আমরা ১০০% কপার টিউব, উন্নতমানের স্মার্ট ডুয়াল ইনভার্টার কম্প্রেসর এবং পরিবেশবান্ধব R410A গ্যাস ব্যবহার করছি। এর ফলে কম বিদ্যুৎ খরচে দীর্ঘ সময় নিরবচ্ছিন্ন কুলিং পাওয়া সম্ভব। গ্রাহক সুবিধার ক্ষেত্রে মিনিস্টার দিচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ড ওয়ারেন্টি, নির্দিষ্ট মডেলে ১২ বছর পর্যন্ত কম্প্রেসর ওয়ারেন্টি, দ্রুত ইনস্টলেশন সাপোর্ট এবং দেশব্যাপী শক্তিশালী বিক্রয়োত্তর সেবা নেটওয়ার্ক। সব মিলিয়ে মিনিস্টারের লক্ষ্য শুধু একটি এসি সরবরাহ করা নয়, বরং গ্রাহকের জন্য সাশ্রয়ী, স্মার্ট এবং নির্ভরযোগ্য কুলিং সল্যুশন নিশ্চিত করা।
প্রশ্ন : বাংলাদেশে এসির মোট চাহিদার কত শতাংশ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্য দিয়ে পূরণ হচ্ছে? আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা কতটুকু?
উত্তর : বর্তমানে বাংলাদেশে এসির মোট চাহিদার আনুমানিক ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বা সংযোজিত পণ্য দিয়ে পূরণ হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় আমদানিনির্ভরতা অনেকটাই কমেছে।
প্রশ্ন : স্থানীয় ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন খাতকে শক্তিশালী করতে সরকার কী ধরনের নীতিগত সহায়তা দিচ্ছে? আসন্ন বাজেটে আরও কী ধরনের উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করেন?
উত্তর : সরকারের সময়োপযোগী নানা পদক্ষেপের কারণে বাংলাদেশের ইলেকট্রনিক শিল্প এখন এক শক্তিশালী অবস্থানে দাঁড়িয়েছে। কাঁচামাল আমদানিতে শুল্কছাড় এবং উৎপাদনের ক্ষেত্রে কর সুবিধা পাওয়ায় দেশি কোম্পানিগুলো বড় পরিসরে বিনিয়োগে উৎসাহিত হচ্ছে। ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ স্লোগানকে বাস্তবে রূপ দিতে সরকার যে সুরক্ষা দিয়েছে, তার ফলেই আজ এসি, ফ্রিজ ও টিভির বাজারে দেশি ব্র্যান্ডগুলোর আধিপত্য তৈরি হয়েছে। এতে আমদানিনির্ভরতা কমেছে এবং স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদন কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আমার মতে, আসন্ন বাজেটে স্থানীয় উৎপাদনকে আরও এগিয়ে নিতে কাঁচামাল, কম্প্রেসর, পিসিবি ও গুরুত্বপূর্ণ কম্পোনেন্ট আমদানিতে শুল্ক-ভ্যাট সুবিধা অব্যাহত রাখা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D), প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং রপ্তানিমুখী উৎপাদনে বিশেষ প্রণোদনা থাকা প্রয়োজন। যাতে দেশীয় শিল্প বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং রপ্তানি সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পায়।
প্রশ্ন : বাংলাদেশের এসি শিল্পের রপ্তানি সম্ভাবনা কতটা উজ্জ্বল? আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়াতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি?
উত্তর : বাংলাদেশের এসি শিল্পের রপ্তানি সম্ভাবনা নিঃসন্দেহে অত্যন্ত উজ্জ্বল। গত কয়েক বছরে স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা, কম্পোনেন্ট ম্যানুফ্যাকচারিং এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে দেশীয় শিল্প এখন বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতার উপযোগী হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা আরও শক্তিশালী করতে কয়েকটি কৌশলগত পদক্ষেপ জরুরি। প্রথমত, উৎপাদন ব্যয় আরও প্রতিযোগিতামূলক পর্যায়ে আনতে কাঁচামাল ও গুরুত্বপূর্ণ কম্পোনেন্টের স্থানীয় উৎপাদন বাড়াতে হবে। দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেশন, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং ইনোভেশনভিত্তিক পণ্য উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। এর পাশাপাশি বন্দর ও লজিস্টিকস অবকাঠামো উন্নয়ন, দ্রুত কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স, রপ্তানি প্রণোদনা এবং নতুন বাজারে বাণিজ্যিক প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে সরকার ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্ন : বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী (এনার্জি-এফিশিয়েন্ট) এসির প্রতি গ্রাহকদের আগ্রহ কি বাড়ছে? এ ক্ষেত্রে আপনারা কী উদ্যোগ নিচ্ছেন?
উত্তর : আমি বিশ্বাস করি, বর্তমানে একজন গ্রাহক যখন এসি কেনার সিদ্ধান্ত নেন, তখন তার প্রধান বিবেচ্য বিষয় থাকে পণ্যটি কতটুকু বিদ্যুৎ সাশ্রয় করবে। দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের উচ্চমূল্য এবং গ্রাহকদের সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী বা এনার্জি এফিশিয়েন্ট এসির চাহিদা এখন তুঙ্গে। এই চাহিদা মেটাতে আমরা বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছি :
● ইনভার্টার প্রযুক্তির আধুনিকায়ন : আমরা আমাদের এসিতে সর্বাধুনিক ‘ডুয়েল স্মার্ট ইনভার্টার’ প্রযুক্তি ব্যবহার করছি। প্রকৃত প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল প্রায় ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনতে পেরেছি।
● পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী রেফ্রিজারেন্ট : আমাদের প্রতিটি এসিতে আমরা পরিবেশবান্ধব R410a গ্যাস ব্যবহার করছি। এটি যেমন ওজোন স্তরের ক্ষতি করে না, তেমনি দ্রুত ঘর ঠান্ডা করার মাধ্যমে এসির কম্প্রেসরের ওপর চাপ কমায়, যা পরোক্ষভাবে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে।
● স্মার্ট কন্ট্রোল : গ্রাহকদের জন্য আমরা স্মার্ট কানেক্টিভিটি সুবিধা নিয়ে আসছি। এর ফলে ব্যবহারকারী মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমেই তার এসি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন।
● সাশ্রয়ী মূল্যে উদ্ভাবন : আমরা বিশ্বাস করি, উন্নত প্রযুক্তি কেবল উচ্চবিত্তের জন্য নয়। সরকারের দেওয়া শুল্ক ও ভ্যাট সুবিধার প্রতিটি অংশ আমরা গ্রাহকদের পৌঁছে দিতে চাই। তাই আমরা সাশ্রয়ী মূল্যে হাই অ্যান্ড এনার্জি সেভিং এসি বাজারে নিয়ে আসছি, যেন সাধারণ মানুষও বিদ্যুৎ বিলের চিন্তা ছাড়াই এসি ব্যবহারের স্বাচ্ছন্দ্য উপভোগ করতে পারে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী পণ্য উৎপাদন কেবল আমাদের ব্যবসার অংশ নয়, বরং এটি দেশের জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমিয়ে জ্বালানি নিরাপত্তায় অবদান রাখার একটি বড় সুযোগ।
প্রশ্ন : গ্রাহকদের ক্রয় সিদ্ধান্তে এখন কোন বিষয়টি বেশি প্রভাব ফেলছেÑ দাম, ডিজাইন, নাকি প্রযুক্তি?
উত্তর : আমি বিশ্বাস করি, বর্তমানে গ্রাহকদের ক্রয় সিদ্ধান্তে কোনো একটি একক বিষয় নয়, বরং ‘ভ্যালু ফর মানি’ সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে। আমার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী প্রভাবকগুলো হলো :
● প্রযুক্তি এখন প্রধান চালিকাশক্তি : কয়েক বছর আগেও মানুষ শুধু দাম দেখে পণ্য কিনত। কিন্তু এখন সচেতন গ্রাহক প্রথমেই জানতে চান, এসিতে ইনভার্টার প্রযুক্তি আছে কি না বা এটি কতটুকু বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী। বিশেষ করে প্রিপেইড মিটারের এই যুগে গ্রাহকের কাছে প্রযুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সাশ্রয়ই এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।
● দামের সঙ্গে আস্থার সমন্বয় : সস্তায় কেনা মানেই জয়ী হওয়া নয়। গ্রাহক এমন একটি দাম খোঁজেন যা তার বাজেটের মধ্যে থাকবে, আবার পণ্যের মান এবং স্থায়িত্বও নিশ্চিত হবে। আমরা বিশ্বাস করি, সবার হাতে উন্নত প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে আস্থার সঙ্গে সমন্বয় ঘটিয়ে সঠিক মূল্য নির্ধারণই আমাদের সফলতার চাবিকাঠি।
● আধুনিক ডিজাইন ও নান্দনিকতা : এ সময়ের গ্রাহকরা, বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের দম্পতিরা এসিতে শুধু শীতলতা খোঁজেন না, বরং এটি তাদের ঘরের ড্রয়িংরুমের আভিজাত্য বাড়াবে কি না সেটিও দেখেন। তাই আমরা এখন মার্জিত ও স্লিম ডিজাইনের ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছি।
● বিক্রয়োত্তর সেবা বা আফটার সেলস সার্ভিস : এটি একটি অলিখিত কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক। গ্রাহক এখন কেনার আগেই নিশ্চিত হতে চান, পণ্যটিতে কোনো সমস্যা হলে তিনি দ্রুত সেবা পাবেন কি না। আমরা বিশ্বাস করি, মিনিস্টারের দেশব্যাপী শক্তিশালী সার্ভিস নেটওয়ার্কই আমাদের প্রতি গ্রাহকদের এই আস্থার প্রধান কারণ।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, গ্রাহক এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি স্মার্ট। তারা এমন একটি এসি চান যা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী, প্রযুক্তিতে সেরা এবং দামে নাগালের মধ্যে এবং দেখতে সুন্দর। আমরা আমাদের সকল এসিতে উপরের বিষয়গুলোর ভারসাম্য বজায় রাখার লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি।
প্রশ্ন : বিক্রয়োত্তর সেবা (after-sales service) নিয়ে আপনারা কী ধরনের সুবিধা দিচ্ছেন?
উত্তর : মিনিস্টারের কাছে বিক্রয়-পরবর্তী সেবা শুধু একটি সার্ভিস নয়, বরং গ্রাহকের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি আস্থা ও সম্পর্ক গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। আমরা বিশ্বাস করি, একটি পণ্যের প্রকৃত মূল্যায়ন শুরু হয় বিক্রয়ের পর থেকে। তাই দেশব্যাপী আমাদের শক্তিশালী after-sales service network গড়ে তোলা হয়েছে, যাতে গ্রাহকরা দ্রুত, নির্ভরযোগ্য এবং মানসম্মত সেবা পান।
আমাদের এসি গ্রাহকদের জন্য রয়েছে দ্রুত ইনস্টলেশন সাপোর্ট, রুটিন সার্ভিসিং, রিপেয়ার ও মেইনটেন্যান্স, ওয়ারেন্টি সেবা এবং জেনুইন স্পেয়ার পার্টস সাপোর্ট। প্রশিক্ষিত ও অনুমোদিত টেকনিশিয়ান টিম গ্রাহকের বাসা বা অফিসে গিয়ে দ্রুত সমস্যার সমাধান নিশ্চিত করে। এ ছাড়া আমাদের এসিতে দীর্ঘমেয়াদি কম্প্রেসর ওয়ারেন্টি, স্পেয়ার পার্টসে আলাদা ওয়ারেন্টি সুবিধা এবং নিরবচ্ছিন্ন কাস্টমার কেয়ার সাপোর্ট রয়েছে। মিনিস্টারের লক্ষ্য শুধু একটি এসি বিক্রি করা নয়; বরং গ্রাহককে দীর্ঘমেয়াদে স্বস্তি, নির্ভরতা এবং দ্রুত সেবার নিশ্চয়তা দেওয়া।
প্রশ্ন : গ্রামীণ ও শহুরে বাজারে এসির চাহিদার মধ্যে কী ধরনের পার্থক্য লক্ষ করছেন?
উত্তর : গ্রামীণ ও শহুরে বাজারে এসির চাহিদার মধ্যে এখনও কিছু স্পষ্ট পার্থক্য লক্ষ করা যায়, তবে সেই ব্যবধান ধীরে ধীরে কমে আসছে। শহুরে বাজারে বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বড় শহরগুলোতে এসির চাহিদা মূলত লাইফস্টাইল, ঘনবসতিপূর্ণ আবাসন, অফিস ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের কারণে তুলনামূলকভাবে বেশি এবং নিয়মিত। এখানে গ্রাহকেরা সাধারণত ইনভার্টার, এনার্জি-এফিশিয়েন্ট এবং স্মার্ট ফিচারসমৃদ্ধ মডেল বেশি পছন্দ করেন। অন্যদিকে গ্রামীণ বাজারে চাহিদা এখন দ্রুত বাড়ছে, তবে তা মূলত আবহাওয়াজনিত তীব্র গরম, আয় বৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ সুবিধার সম্প্রসারণের কারণে নতুনভাবে তৈরি হওয়া চাহিদা। এখানে এখনও দামের সংবেদনশীলতা বেশি। গ্রাহকদের ঝোঁক তুলনামূলকভাবে সুলভ বাজেট ও মিড-রেঞ্জ মডেলের দিকে। তবে নতুন মধ্যবিত্ত শ্রেণির সম্প্রসারণের কারণে গ্রামীণ বাজারেও এসি এখন ধীরে ধীরে ‘লাক্সারি’ থেকে ‘কমফোর্ট প্রোডাক্ট’ হয়ে উঠছে।
প্রশ্ন : কিস্তি সুবিধা বা সহজ ফাইন্যান্সিং কি এসি বিক্রিতে বড় ভূমিকা রাখছে?
উত্তর : কিস্তি সুবিধা বা সহজ ফাইন্যান্সিং বর্তমানে এসি বিক্রিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারক ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশে এসি এখন আর শুধু উচ্চবিত্তের পণ্য নয়, বরং সহজ কিস্তি ব্যবস্থার কারণে এটি মধ্যবিত্ত এবং নতুন ক্রেতা শ্রেণির কাছেও সহজলভ্য হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ০% EMI সুবিধা গ্রাহকের ক্রয় সিদ্ধান্তকে দ্রুত প্রভাবিত করছে। আমরা দেখছি, অনেক গ্রাহক এককালীন অর্থ ব্যয়ের পরিবর্তে মাসিক কিস্তিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। কারণ এতে বাজেট ব্যবস্থাপনা সহজ হয় এবং একই সঙ্গে উন্নত মডেল কেনার সুযোগও তৈরি হয়।
প্রশ্ন : আগামী ২-৩ বছরে দেশের এসি শিল্প কোন দিকে এগোবে বলে আপনি মনে করেন?
উত্তর : আগামী ২-৩ বছরে বাংলাদেশের এসি শিল্পে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হবে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন। ইনভার্টার ও স্মার্ট এসির চাহিদা আরও বাড়বে, একই সঙ্গে এনার্জি-এফিশিয়েন্সি প্রযুক্তি বাজারের মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে। স্থানীয় উৎপাদন কেবল দেশীয় চাহিদা পূরণেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং ধীরে ধীরে রপ্তানিমুখী সক্ষমতাও তৈরি করবে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা এবং দক্ষিণ এশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের এসি ব্র্যান্ডগুলোর জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে। এ ছাড়া বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ার ফলে কাস্টমার এক্সপেরিয়েন্স, আফটার-সেলস সার্ভিসÑ এই বিষয়গুলো ব্র্যান্ড পার্থক্য নির্ধারণে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সার্বিকভাবে বলা যায়, আগামী ২-৩ বছরে বাংলাদেশের এসি শিল্প শুধু আকারে নয়- মান, প্রযুক্তি এবং রপ্তানি সক্ষমতায়ও একটি নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করবে, যেখানে দেশীয় ব্র্যান্ডগুলো প্রতিযোগিতায় আরও দৃঢ় অবস্থান তৈরি করবে।