সাক্ষাৎকার : মুহাম্মাদ মুনীম
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ এপ্রিল ২০২৬ ১১:৩৩ এএম
মুহাম্মাদ মুনীম, হেড অব প্রোডাক্ট, এয়ার কন্ডিশনিং, হায়ার বাংলাদেশ লিমিটেড
বাংলাদেশে এসির বাজার দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে। প্রতিদিনের বাংলাদেশকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দেশে এসির বর্তমান বাজার, পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ ও বিক্রয়োত্তর সেবার বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেছেন হায়ার বাংলাদেশ লিমিটেডের হেড অব প্রোডাক্ট (এয়ার কন্ডিশনিং) মুহাম্মাদ মুনীম
প্রশ্ন : বাংলাদেশে Haier-এর এসির বর্তমান বাজার অবস্থান কী?
উত্তর : বাংলাদেশে হায়ার দ্রুত বর্ধনশীল প্রিমিয়াম এসি ব্র্যান্ড হিসেবে এখন সুপ্রতিষ্ঠিত। গ্লোবাল ব্র্যান্ড হায়ার হিসেবে আমরা দেশে সবচেয়ে ওয়াইড প্রোডাক্ট রেঞ্জ অফার করছি। এটির প্রতিটি মডেলেই রয়েছে ইউনিক ও ব্যবহার উপযোগী ফিচার। যে কারণে আমরা খুব অল্প সময়ের মধ্যেই গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করতে পেরেছি। উন্নত প্রযুক্তি, নির্ভরযোগ্য পারফরম্যান্স এবং গ্রাহককেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে হায়ার ধীরে ধীরে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় তিনটি এসি ব্র্যান্ডের মধ্যে একটি হয়ে উঠেছে।
প্রশ্ন : স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগীদের মধ্যে নিজেদের কীভাবে আলাদা করে তুলছেন?
উত্তর : হায়ার মূলত ইনোভেশন, এনার্জি এফিশিয়েন্সি এবং স্মার্ট টেকনোলজির মাধ্যমে নিজেদের আলাদা করে তুলছে। আমরা বিশ্বসেরা প্রযুক্তি, স্মার্ট ডিজাইন এবং আনম্যাচড কমফোর্ট লেভেল নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিই। গ্লোবাল ব্র্যান্ড হিসেবে হায়ার গ্রাহকদের জন্য শুধু একটি পণ্য নয়, বরং একটি নির্ভরযোগ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান দিয়ে থাকে। এই প্রতিশ্রুতিই আমাদের স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগীদের থেকে আলাদা করে।
প্রশ্ন : Haier-এর এসির নতুন মডেলগুলোতে কী কী আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত হয়েছে?
উত্তর : হায়ার-এর নতুন মডেলগুলোতে আধুনিক প্রযুক্তির একটি শক্তিশালী সমন্বয় দেখা যায়। ২০২৬ সালে আমাদের অন্যতম প্রধান সংযোজন গ্র্যাভিটি এআই সিরিজ। এটিতে রয়েছে প্রিসাইস হিউমিডিটি কন্ট্রোল টেকনোলজিÑ যা রুমের ময়েশ্চার লেভেল শনাক্ত করে একটি পারফেক্টলি ব্যালান্সড ও কমফোর্টেবল পরিবেশ তৈরি করে। পাশাপাশি এতে রয়েছে প্রিমিয়াম ফ্যাব্রিক ফিনিশ ডিজাইন এবং এআই ফিচার যেমন এআই ক্লাইমেট কন্ট্রোল, এআই ইকো এবং এআই ইলেকট্রিসিটি মনিটরিং। এ ছাড়াও আমরা বাজারে এনেছি শক্তিশালী আল্টিমেটকুল টি-থ্রি সিরিজ, যা উন্নত টি-থ্রি কমপ্রেসর দ্বারা পরিচালিত। এর ফলে ৫৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাতেও ফুল বিটিইউ ক্যাপাসিটিতে কুলিং দিতে সক্ষম এবং ৭০ ডিগ্রি তাপমাত্রাতেও নন-স্টপ কুলিং নিশ্চিত করে। এই সিরিজে হট অ্যান্ড কুলÑ উভয় মোড থাকায় গ্রাহকরা ১২ মাসই কমফোর্ট এয়ার উপভোগ করতে পারেন। পাশাপাশি পিউরিকুল সিরিজ-এ রয়েছে সুপার আইএফডি ফিল্টার (সিএডিআর ৩০০ ঘনমিটার/ঘণ্টা), যা পিউরিফায়েড এয়ার নিশ্চিত করে। এ ছাড়া হায়ার-এর বেশ কিছু মডেলে ইউভিসি প্রো স্টেরিলাইজেশন টেকনোলজি রয়েছে, যা ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ামুক্ত বাতাস নিশ্চিত করে একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি করে।
প্রশ্ন : বিক্রয়োত্তর সেবা উন্নত করতে কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে?
উত্তর : হায়ার গ্রাহকদের জন্য দ্রুত এবং নির্ভরযোগ্য আফটার-সেলস সার্ভিস নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে গ্রাহকরা ইনভার্টার এসিতে পাচ্ছেন ১২ বছর কমপ্রেসর ওয়ারেন্টি এবং নন-ইনভার্টার মডেলে ৫ বছর কমপ্রেসর ওয়ারেন্টি। এর পাশাপাশি সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো ৫ বছর ফুল ইউনিট ওয়ারেন্টি, যেখানে পার্টস ও সার্ভিসÑ উভয়ই অন্তর্ভুক্ত। এই সুবিধার আওতায় গ্রাহকরা পাচ্ছেন জিরো লেবার চার্জ, জিরো হিডেন কস্ট এবং আনলিমিটেড রিপ্লেসমেন্ট সুবিধা- যা বাংলাদেশের বাজারে একটি ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ। এই দীর্ঘমেয়াদি ও স্বচ্ছ সার্ভিস প্রতিশ্রুতি গ্রাহকদের জন্য সর্বোচ্চ নিশ্চয়তা ও সন্তুষ্টি নিশ্চিত করছে।
প্রশ্ন : গ্রাহকদের অভিযোগ বা ফিডব্যাক কীভাবে পরিচালনা করেন?
উত্তর : গ্রাহকদের ফিডব্যাক আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করি। হটলাইনের পাশাপাশি টোল-ফ্রি কাস্টমার কেয়ার, হোয়াটসঅ্যাপ সার্ভিস এবং ফেসবুকের মাধ্যমে হায়ার বাংলাদেশ ২৪/৭ গ্রাহকসেবা দিচ্ছেÑ এমনকি সরকারি ছুটির দিনেও। একটি ডেডিকেটেড কাস্টমার সার্ভিস টিম নিরলসভাবে কাজ করছে, যাতে প্রতিটি অভিযোগ দ্রুত এবং কার্যকরভাবে সমাধান করা যায়। এই ফিডব্যাকগুলো আমাদের ভবিষ্যৎ উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রশ্ন : পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণে কী ধরনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়?
উত্তর : হায়ার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী কঠোর কোয়ালিটি কন্ট্রোল প্রসেস অনুসরণ করে। এসির বিভিন্ন ফিচার এবং পারফরম্যান্স যাচাইয়ের জন্য আমরা এসজিএস, টিইউভি এবং টেক্সসেলের মতো গ্লোবাল টেস্টিং ও সার্টিফিকেশন সংস্থার সঙ্গে কাজ করি। প্রতিটি পণ্য বাজারে ছাড়ার আগে একাধিক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যায়, যাতে এর ডিউরেবিলিটি, এফিশিয়েন্সি এবং সেফটি নিশ্চিত করা যায়। হায়ার এসি বিএসটিআই অনুমোদন ও আইএসও স্বীকৃতির আওতায় রয়েছে। এদেশের হাতে গোনা কয়েকটি সাইক্রোমেট্রিক টেস্টিং ল্যাবের মধ্যে হায়ার বাংলাদেশের ল্যাবটি অন্যতম। এই সমন্বিত কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স সিস্টেমই হায়ারকে আরও নির্ভরযোগ্য ও আস্থাশীল ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
প্রশ্ন : উৎসব (যেমন ঈদ) উপলক্ষে কী ধরনের অফার বা ক্যাম্পেইন চালু থাকে?
উত্তর : হায়ার সব সময় গ্রাহকদের আকর্ষণীয় ক্যাম্পেইন ও অফার দিয়ে থাকে। বর্তমানে ডিলার চ্যানেলে চলছে ‘প্লে উইথ দ্য নাম্বার ওয়ান’ ক্যাম্পেইন, যেখানে গ্রাহকরা এসি কিনে ক্যাশ ডিসকাউন্টের পাশাপাশি স্ক্র্যাচ কার্ডের মাধ্যমে থাইল্যান্ড ভ্রমণ, ৩২ ইঞ্চি এলইডি টিভিসহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় উপহার জিততে পারেন। রিটেইল চেইনে রয়েছে বিভিন্ন কম্বো অফার, যেখানে বড় ডিসকাউন্টে হায়ার এসির সঙ্গে পাওয়া যাচ্ছে টপ লোড বা ফ্রন্ট লোড ওয়াশিং মেশিন, ড্রায়ার ইত্যাদি। এ ছাড়া অনলাইন ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে হায়ারের জেনগ্লো মডেল কিনলে গ্রাহকরা পাচ্ছেন স্পেশাল ডিসকাউন্ট এবং ৪ হাজার টাকার আড়ং গিফট কার্ড। হায়ার সব সময় গ্রাহকদের জন্য ভ্যালু-অ্যাডেড অফার নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।
প্রশ্ন : গরমে পণ্যের চাহিদা কেমন?
উত্তর : বাংলাদেশে গরমের মৌসুমে এসির চাহিদা প্রতিবছরই বাড়ে। বর্তমানে এসি আর লাক্সারি প্রোডাক্ট নয়, বরং একটি প্রয়োজনীয় পণ্য হয়ে উঠেছে। আগে এটি উচ্চবিত্ত গ্রাহকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এখন তা মধ্যবিত্ত গ্রাহকদের মধ্যেও দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ফলে সামগ্রিকভাবে এসির বাজার ক্রমাগত সম্প্রসারিত হচ্ছে, যা হায়ার-এর জন্য একটি বড় সম্ভাবনা তৈরি করছে।