× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ফ্রিজ ব্যবহারে যা জানা জরুরি

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২২ এপ্রিল ২০২৬ ১১:২২ এএম

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২৬ ১১:২৪ এএম

ছবি: হায়ার বাংলাদেশ লিমিটেড

ছবি: হায়ার বাংলাদেশ লিমিটেড

গরম বাড়ছে। ওদিকে ঈদুল আজহা হাতছানি দিচ্ছে। কোরবানির পর বড় চিন্তা হয়ে ওঠে, যার যা প্রাপ্য তা বিলিয়ে দেওয়ার পর নিজেদের কাছে থাকা মাংসটুকু কোথায় রাখা হবে। ফ্রিজে রাখলে কত তাপমাত্রায় রাখবেন? স্বস্তির ব্যাপার হলো, দেশের সব প্রান্তে ফ্রিজের ব্যবহার বাড়ছে। কিন্তু সেটি কীভাবে ব্যবহার করতে হবে, তাও তো জানতে হবে। তেমন জরুরি কিছু তথ্য তুলে ধরা হলো এ প্রতিবেদনে।

ফ্রিজে বিদ্যুৎ খরচ কমানোর কোনো উপায় আছে কি?

রেফ্রিজারেটরে ইনভার্টার ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়। এ ছাড়া বেশিক্ষণ ফ্রিজ খুলে রাখা যাবে না। কারণ এতে কমপ্রেসরের ওপর চাপ পড়ে। ফলে ফ্রিজ আবার ঠান্ডা হতে গেলে বিদ্যুৎ খরচ বেশি হয়। যারা পুরোনো রেফ্রিজারেটর ব্যবহার করছেন, তাদের রেফ্রিজারেটরের কনডেনসার নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে। কনডেনসারের কয়েলে ময়লা জমলে সেটি সঠিকভাবে তাপ বিকিরণ করতে পারে না। এতেও বিদ্যুৎ খরচ বেশি হতে পারে। তাই সেটি নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।

ডিপ ফ্রিজে অতিরিক্ত বরফ জমছে?

ফ্রস্ট ফ্রিজে বরফ জমা স্বাভাবিক। কোনো কারণে অতিরিক্ত বরফ তৈরি হলে তা পরিষ্কার করতে হবে। অনেক সময় থার্মোস্টেট সঠিক তাপমাত্রায় না থাকলেও তা জমতে পারে। অতিরিক্ত বরফ চামচ দিয়ে পরিষ্কার করতে পারেন। বরফ বেশি জমলে ফ্রিজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

তাপমাত্রা সর্বনিম্ন রাখলে কী সমস্যা হতে পারে?

ফ্রিজে কী ধরনের এবং কতটা খাবার সংরক্ষণ করছেন, তার ওপর নির্ভর করে তাপমাত্রা ঠিক করতে হবে। ইলেক্ট্রো মার্টের গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগের প্রধান আরিফুর রহমান জানিয়েছেন, ফ্রিজের ‘নরমাল’ অংশের তাপমাত্রা প্রয়োজন বুঝে ১ থেকে ৫ ডিগ্রি রাখুন। তবে গড়পড়তা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখা ভালো। আর ডিপ ফ্রিজের ক্ষেত্রে মাইনাস ১৮ থেকে মাইনাস ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রাখতে হবে। সাধারণত মাইনাস ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখলে জিনিসপত্র ভালো থাকে।

ফ্রিজের ভেতর দুর্গন্ধ হলে দূর করার উপায় কী?

দুর্গন্ধ হলে ফ্রিজের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে সব খাবার বের করে কুসুম গরমপানিতে ডিটারজেন্ট দিয়ে পরিষ্কার করে নিন। মাঝেমধ্যে পানিতে সামান্য বেকিং সোডা মিশিয়ে তাতে কাপড় ভিজিয়ে নিয়েও ফ্রিজের ভেতরটা মুছতে পারেন। ঢাকনাবিহীন বাটিতে সামান্য পানিতে বেকিং সোডা গুলিয়ে ফ্রিজে রাখলে দুর্গন্ধ চলে যায়। এ ছাড়া কমলালেবুর খোসা, লেবু বা টি-ব্যাগ, ডিমের খোসা ফ্রিজে রাখলে দুর্গন্ধ চলে যায়। ফ্রিজের জন্য আলাদা সুগন্ধিও পাওয়া যায়, যা দুর্গন্ধ দূর করে। ফ্রিজে যখন গন্ধ হয়, তখন তাপমাত্রা ঠিক রাখা গুরুত্বপূর্ণ। অস্বাভাবিক তাপমাত্রায় ব্যাকটেরিয়া তৈরি হয়। ফলে ফ্রিজের ভেতরের খাবার নষ্ট হয়। লেবুর সাইট্রিক অ্যাসিড দুর্গন্ধ দূর করতে পারে।

ফ্রিজের সঙ্গে স্ট্যাবিলাইজার রাখা কি জরুরি?

স্ট্যাবিলাইজার ব্যবহারের মাধ্যমে বিদ্যুতের ভোল্টেজ ওঠানামা থেকে রেফ্রিজারেটরকে সুরক্ষিত রাখা যায়। তবে রেজাউল হায়দার জানান, এখনকার বেশিরভাগ আধুনিক ফ্রিজেই বিল্ট ইন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। যা সহজেই ভোল্টেজ ওঠানামা থেকে রেফ্রিজারেটরকে সুরক্ষা দেয়।

মাংস বা মাছ কীভাবে ফ্রিজে সংরক্ষণ করলে দীর্ঘদিন ভালো থাকবে?

ভুল পদ্ধতিতে মাংস সংরক্ষণ করলে খাদ্যে বিষক্রিয়া তৈরি হয়। মাংস বাড়িতে আনার পর পানি দিয়ে মাংসে লেগে থাকা রক্ত ও ময়লা পরিষ্কার করে নিতে হবে। রক্তসহ মাংস ফ্রিজে রাখলে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঘটে, দুর্গন্ধও তৈরি হতে পারে। খোলা পলিব্যাগ বা পাত্রে মাংস না রেখে ঢাকনাওয়ালা পাত্রে বা এয়ারটাইট ব্যাগে মাংস সংরক্ষণ করুন। ব্যবহারের মাত্রা অনুযায়ী মাংস ছোট ছোট প্যাকেটে রাখতে পারেন। দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করতে চাইলে একটু লবণ ছিটিয়ে নিন। এতে মাংসের স্বাদ, গুণাগুণ ও ঘ্রাণ অটুট থাকবে।

ডিপ ফ্রিজে সতর্কতার সঙ্গে মাছ কেটে সংরক্ষণ করতে হবে। মাছ বাজার থেকে কিনে এনেই ফ্রিজে রাখা উচিত নয়Ñকেটে ছোট টুকরো করে পরিষ্কার করে নিতে হবে। পানি ঝরিয়ে বেশি করে লেবুর রস, হলুদগুঁড়া ও লবণ মাখিয়ে রান্নার উপযোগী করে ছোট ছোট প্যাকেটে ডিপ ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে পারেন। তবে এই গরমে যারা ইলিশ মাছ কিনবেন, তারা আস্ত মাছই রাখতে চেষ্টা করুন।

ফ্রিজ পরিষ্কার করার সময় কী কী খেয়াল রাখতে হবে?

বিদ্যুতের সংযোগ বন্ধ করে ফ্রিজ পরিষ্কার শুরু করতে হবে। প্রথমে কিছুটা সময় এটির দরজা খুলে রাখুন, যেন বরফ গলে যায়। তাক, ড্রয়ার ও সেলফ খুলে আলাদা আলাদা করে পরিষ্কার করতে হবে। ডিটারজেন্ট মেশানো হালকা গরমপানিতে স্পঞ্জ ভিজিয়ে ধোয়ামোছার কাজ করতে পারেন। ব্রাশ দিয়ে ফ্রিজের বিভিন্ন রবার, দরজা, ড্রয়ার হোল্ডার ভালো করে পরিষ্কার করুন। একেবারে শেষে তোয়ালে দিয়ে ভালো করে মুছে শুকিয়ে নিন। ফ্রিজ পরিষ্কারের পরপরই বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া যাবে না। খানিকক্ষণ পর সংযোগ দিন।

ফ্রিজ থেকে পানি পড়ছে, কী করা যায়?

খুব সাধারণভাবে ফ্রিজে বৈদ্যুতিক বিভ্রাট তৈরি হলে পানি পড়তে পারে বা ফ্রিজের বডিতে পানি জমতে পারে। অনেক সময় ফ্রিজ সমতল স্থানে না রাখলে পানি পড়তে পারে। ফ্রিজের নিচে জমে থাকা বরফের কারণেও অনেক সময় পানি পড়ে। এ রকম সমস্যা হলে ফ্রিজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যোগাযোগ করে কারিগরি সেবা নিন।

কেনার আগে কী কী দেখে নিতে হবে?

পরিবারের প্রয়োজন ও ব্যবহারের ধরন বুঝে কত লিটারের ফ্রিজ কিনবেন, সিদ্ধান্ত নিন। ফ্রিজ কোনভাবে ঠান্ডা হয়, ইনভার্টার আছে কি না, জেনে নিন। কেনার সময় বিক্রয়-পরবর্তী সেবা, যেমন বিভিন্ন যন্ত্রাংশের গ্যারান্টি, ওয়ারেন্টি ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কেও পরিষ্কার ধারণা নিতে হবে। যে ব্র্যান্ডের ফ্রিজ কিনছেন, তার সার্ভিস সেন্টার আপনার এলাকায় আছে কি না, জেনে নিনÑ যেন কোনো সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত সেবা পাওয়ার সুযোগ থাকে। বিল্ট ইন স্ট্যাবিলাইজার, ডোর অ্যালার্ম ও ডিওডোরাইজিং ফিল্টারের মতো সুবিধা থাকে অনেক ফ্রিজে, কেনার সময় এ বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে।

ফ্রস্ট, ডি-ফ্রস্ট, নন-ফ্রস্টের মধ্যে পার্থক্য কী? 

সাধারণত ফ্রস্ট ফ্রিজে দ্রুত ঠান্ডা হয়। এ ধরনের ফ্রিজে বরফ জমে বলে বেশি সময় বিদ্যুৎ না থাকলেও খাবার সংরক্ষণের ওপর খুব বেশি প্রভাব পড়ে না। ডি-ফ্রস্ট ফ্রিজে মিহি বরফ তৈরি হয়। নন-ফ্রস্ট ফ্রিজে সাধারণত কোনো বরফ জমে না। খাবার ভালো রাখতে এ ধরনের ফ্রিজের কমপ্রেসর সব সময় চালু রাখা ভালো।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা