× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

নারী অধিকারের সংগ্রাম

শুধু দিবস পালন নয়, প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ

কামরুন নাহার

প্রকাশ : ০৮ মার্চ ২০২৬ ১৫:০৫ পিএম

আপডেট : ১১ মার্চ ২০২৬ ১৫:০১ পিএম

দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমাদের কার্যক্রম যেন শুধু দিবস পালনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমাদের কার্যক্রম যেন শুধু দিবস পালনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

নারী দিবস প্রথম ঘোষণা করা হয় সেই ১৮৫৭ সালে। তখন থেকে এ পর্যন্ত অধিকার আদায়ের এই যাত্রাপথ কখনোই মসৃণ ছিল না। বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথে তাল মিলিয়ে নারীর সমঅধিকার আদায়ের প্রত্যয়টি যাতে আমরা বারবার ব্যক্ত করতে পারি, সেজন্যই এই দিবসটি পালন করে আসছি।

এই দিবসের মাধ্যমে সমাজের কিছু মানুষের কাছেও যদি আমরা আমাদের বার্তাগুলো পৌঁছে দিতে পারি, সেটি আমাদের জন্য একটি বড় অর্জন। তবে এই বার্তাটি একটি গণজাগরণ বা ‘ মাস ক্যাম্পেইন’  তৈরি করার মতো করে ছড়ানো দরকার। নারীর প্রতি মানুষের যে বিদ্বেষমূলক বা নেতিবাচক মনোভাব রয়েছেÑ বিশেষ করে ইদানীং যার মাত্রা অনেক বেড়ে গেছে তা বদলাতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। দিবসটিকে আমরা সেই উদ্যোগেরই একটি মাধ্যম হিসেবে নিয়ে থাকি।

এই দিবসে আমরা যেসব অঙ্গীকার করি, তা যদি প্রতি মাসে পর্যালোচনা করি এবং বার্তাগুলো নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে বারবার যাই, তবেই দিবসটির প্রকৃত তাৎপর্য ফুটে ওঠে। এক-দেড় দশক আগেও দিবসটি কেবল কয়েকটি নারী সংগঠন পালন করত; আর এখন এটি রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও পালিত হচ্ছে। নারীর অধিকার বাস্তবায়নের সীমাবদ্ধতাগুলো চিহ্নিত করতে, সেগুলো আলোচনায় আনতে এবং মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিতে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটাতে এই দিবসটি বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমাদের কার্যক্রম যেন শুধু দিবস পালনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে। এর জন্য সমন্বিত উদ্যোগ দরকার, যেখানে সরকারকেই অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে; আমরা কেবল সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারি। ‘নারীর ওপর সহিংসতা কোথাও ঘটতে দেওয়া যাবে না’Ñ এই অঙ্গীকার সবার আগে সরকারকেই করতে হবে। সরকার এই অঙ্গীকার করলে, তা বাস্তবায়নে কার কী করণীয়, তা আমরা অনেকটাই চিহ্নিত করে ফেলেছি। যেমনÑ নারীর ওপর সহিংসতা প্রতিরোধে ‘ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার’  তৈরি করা হয়েছিল, কিন্তু সেই সেন্টারগুলোই এখন বন্ধ হতে বসেছে। সরকারের উচিত এই বিষয়গুলোতে সর্বোচ্চ মনোযোগ ও প্রাধান্য দেওয়া।

নতুন নির্বাচিত সরকারের কাছে আমাদের অন্যতম দাবি হলো, তারা এই বিষয়গুলোকে তাদের মূল কার্যবিবরণীতে (এজেন্ডায়) আনবেন এবং দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি হিসেবে নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবেন। এই দিবসের মাধ্যমে আমরা সরকারকে সেটি মনে করিয়ে দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছি। অতীতে আমরা দেখেছি, ৮ মার্চ এলেই নানা আইন ও নীতির ঘোষণা দেওয়া হয়, অনেক অঙ্গীকার করা হয়; কিন্তু বাস্তবে তার অনেক কিছুই রূপ পায় না। আমরা প্রত্যাশা করি, বর্তমান সরকার সেই ধারাবাহিকতা থেকে বেরিয়ে আসবে এবং নারীর জন্য যা যা করণীয়, তা বাস্তবায়নে আন্তরিক হবে। এবারের নারী দিবসের প্রতিপাদ্যের মতো ‘নারীর জন্য বিনিয়োগ করুন’Ñ নারীকে সত্যিকার অর্থে বৈষম্যহীন ও মর্যাদাপূর্ণ নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে এটি সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

সম্প্রতি বেশ কয়েকটি শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটে গেল। এ বিষয়ে আসলে একটি বড় ধরনের সামাজিক আলোড়ন প্রয়োজন। মানুষ যে এতটা নৃশংসভাবে আক্রমণ করতে পারে, এই বিষয়টিকে আমরা যেন খুব সহজ ও সাধারণ একটি ঘটনায় পরিণত করেছি। এই পরিস্থিতি থেকে সমাজকে কীভাবে বের করে আনা যায়, সেটি ভাবতে হবে। একজন মানুষের মননে কীভাবে আসে যে, আরেকজনকে এভাবে নির্যাতন করা যায় এবং তারপরও সে নির্লিপ্ত থাকতে পারে! 

এর প্রমাণ আমরা বারবার দেখেছি। বিচারব্যবস্থা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দুর্বলতার কারণে নির্যাতন করেও পার পেয়ে যাওয়ার অসংখ্য উদাহরণ তৈরি হয়েছে। এতে এমন একটি সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, যেখানে অপরাধীরা ভাবেÑ ‘কারও তো আর বিচার হয় না!’  আইন যদি অপরাধীদের শাস্তির দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারত এবং মানুষ যদি বুঝতে পারত যে এ দেশে অপরাধ করে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই, তবে এই অপরাধগুলো দমনে তা বড় ধরনের ভূমিকা রাখতে পারত।

আর শিশু নির্যাতনের ক্ষেত্রে সবার আগে শিশুর চারপাশের পরিবেশটাকে নিরাপদ করতে হবে। শিশুর সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য পরিবার, পাড়া-প্রতিবেশীসহ সমাজের সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে, যাতে শিশুরা কোনোভাবেই ঝুঁকির মুখে না পড়ে।


কামরুন নাহার

সদস্য, নারীপক্ষ
আইনজীবী

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা