× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সাক্ষাৎকার : ফজলে ইকরাম চৌধুরী

সচেতন হতে হবে দেশি অপারেটর টিকিয়ে রাখতে

আবু রায়হান তানিন

প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ১০:৫১ এএম

আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ১০:৫২ এএম

বার্থ অপারেটরস, শিপহ্যান্ডলিং অপারেটরস অ্যান্ড টার্মিনাল অপারেটরস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফজলে ইকরাম চৌধুরী

বার্থ অপারেটরস, শিপহ্যান্ডলিং অপারেটরস অ্যান্ড টার্মিনাল অপারেটরস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফজলে ইকরাম চৌধুরী

বন্দরে টার্মিনাল পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর নিয়োগের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে নানা আলোচনা। বিদেশি অপারেটর আসার ফলে প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে যাচ্ছে দেশি প্রতিষ্ঠান। বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন বার্থ অপারেটরস, শিপহ্যান্ডলিং অপারেটরস অ্যান্ড টার্মিনাল অপারেটরস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফজলে ইকরাম চৌধুরী। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আবু রায়হান তানিন 

প্রশ্ন : বন্দরে বিদেশি অপারেটরকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি আপনারা কীভাবে দেখছেন?

উত্তর : যেহেতু জিটুজি (সরকার থেকে সরকার) প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এখানে আমাদের তো আর কিছু বলার অবকাশ নেই। তবে শিপিং সেক্টরে দেশের যারা এক্সপার্ট অর্থাৎ আমরা যারা দীর্ঘদিন বন্দরের অপারেশন চালিয়ে আসছি- সবার সঙ্গে একটু আলাপ আলোচনা করলে আরও ভালো হতো।

প্রশ্ন : বিদেশি অপারেটর এলে অনেক কিছুই পরিবর্তন হবে বলা হচ্ছে, এ বিষয়ে আপনার কী ধারণা?

উত্তর : অবশ্যই কিছু পরিবর্তন হবে। তবে যেভাবে ব্যাপক পরিবর্তনের আশা করা হচ্ছে, অভিজ্ঞতা আর পরিস্থিতির আলোকে মনে হচ্ছে না সেই রকম পরিবর্তন হবে। বিদেশি অপারেটরদের মাধ্যমে যে পরিবর্তন হবে, সেটার সঙ্গে ব্যাকাপ ফ্যাসিলিটি উন্নত না করলে খুব বেশি সুফল পাওয়া যাবে না।

প্রশ্ন : ব্যাকাপ ফ্যাসিলিটি বলতে কী বুঝাচ্ছেন?

উত্তর : যেমন ধরেন অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বন্দরের সঙ্গে সংযুক্ত রাস্তা যেগুলো আছে, অন্যান্য অঞ্চলের ডগগুলো, অফডগগুলোÑ এগুলো এখন যা আছে তা যথেষ্ট না। এগুলো সামগ্রিকভাবে উন্নয়ন করতে হবে।

প্রশ্ন : বন্দর পরিচালনার পদ্ধতির পরিবর্তন কী এবারই প্রথম?

উত্তর : একসময় বন্দরের অপারেশন পরিচালনা করত স্টিভেটর দিয়ে। ওই সময় ৫৫টা স্টিভেটর কোম্পানি ছিল। ২২টা সংগঠন ছিল। নানা ঝামেলা আর দ্বন্দ্বে বন্দরের অপারেশন অত্যান্ত নাজুক ছিল। পরে ওয়ান ইলেভেনের সময় তখনকার সরকার বন্দর ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিল। তারা সবাইকে বললো লাইসেন্স স্যারেন্ডার করতে। তারপর অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা বিবেচনা করে ১২ জেটিতে ১২টা প্রতিষ্ঠানকে বার্থ অপারেটিংয়ের দায়িত্ব দিল। এর সুফল পাওয়ায় পরবর্তী সরকারও এটাকে বহাল রাখল।

প্রশ্ন : এ সময়ে আপনারা বার্থ অপারেটর থেকে টার্মিনাল অপারেটর হিসেবে গড়ে উঠার চেষ্টা করেননি?

উত্তর : মৌখিকভাবে তারা অনেক কথা বলেছে। কিন্তু সুস্পষ্ট কোনো নির্দেশনা ছিল না। সাইফ পাওয়ার টেককে কীভাবে করেছে সেটারও কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা নেই। তারা বন্দরের যন্ত্রপাতি চালাত নিজের লোক দিয়ে। আমরা বন্দরের মানুষ দিয়ে বন্দরের যন্ত্রপাতি চালাই। এর বাইরে কোনো পার্থক্য নেই। কিন্তু বন্দর মৌখিকভাবে অনেক কথাই বলত। আমরা চেয়েছিলাম নিজেরা যন্ত্রপাতি আনতে, ম্যানপাওয়ার তৈরি করতে। কিন্তু সেই সুযোগও দেওয়া হয়নি। তারা শুধু বলত, যে আগে টার্মিনাল চালিয়েছে, সে টার্মিনাল অপারেটর আর যে বার্থ চালিয়েছে, সে বার্থ অপারেটর। আমরা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে গিয়েছি, কিন্তু কোনো সমাধান পাইনি।

প্রশ্ন : বিদেশি অপারেটর আসাকে কোন চোখে দেখছেন, চ্যালেঞ্জ নাকি দক্ষতা ও প্রযুক্তির বিনিময়ের সুযোগ?

উত্তর : বিদেশি অপারেটর এলে কাজের একটা বড় অংশ তো চলে যাবে এটা নিশ্চিত। এখানে নলেজ শেয়ারিংয়ের কোনো সুযোগ দেখি না। এটা করতে হলে তাদের সঙ্গে আমাদের কাজ করার সুযোগ দিতে হবে, সেটা তো নেই।

প্রশ্ন : এই পরিস্থিতিতে বার্থ অপারেটরদের ভাবনা কী?

উত্তর : এখন আমাদের কাজ কমার পর যদি আমরা সরে যাই। ২০-২৫ বছর পর যখন বিদেশি অপারেটররা চলে যাবে তখন টেক ওভার করার মতো কে থাকবে? সেক্ষেত্রে আমাদের পুরোপুরি বিদেশি অপারেটরের ওপর নির্ভরশীল হয়ে যেতে হবে। কাজেই দেশীয় অপারেটরদের টিকিয়ে রাখতে সরকার বা বন্দর কর্তৃপক্ষকে সচেতন হতে হবে। বিদেশিরা আসছে আসুক, কাজ করুক। কিন্তু আমাদের দেশের যেসব অপারেটর আছে তাদেরও টিকিয়ে রাখতে হবে। তাদের ক্যাপাসিটি বাড়ানোর সুযোগ করে দিতে হবে। আমরা জিসিবির বার্থ অপারেটররা একটা প্রস্তাব দিয়েছি বন্দর কর্তৃপক্ষকে। আমাদের অভিজ্ঞতা আছে ইনভেস্ট করতে চাই। আমরা আত্মবিশ্বাসী যে আমরা জিসিবি দিয়েই বিদেশি অপারেটরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারব।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা