সাক্ষাৎকার : ক্যাপ্টেন মো. আলাউদ্দিন আল আজাদ
সুবল বড়ুয়া
প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ১০:৪৪ এএম
আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ১০:৪৭ এএম
মার্স শিপিং অ্যান্ড লজিস্টিকসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্যাপ্টেন মো. আলাউদ্দিন আল আজাদ
চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ জেটিতে ভিড়ানো এবং জলপথের গভীরতা বাড়াতে ড্রেজিংয়ের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে মনে করছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা। এমন পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম বন্দরের সার্বিক অবস্থা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা বলেছেন মার্স শিপিং অ্যান্ড লজিস্টিকসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্যাপ্টেন মো. আলাউদ্দিন আল আজাদ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সুবল বড়ুয়া
প্রশ্ন : বন্দরে জাহাজের টার্ন অ্যারাউন্ড টাইম নিয়ে জাহাজ ব্যবসায়ীরা সন্তুষ্ট কি?
উত্তর : জাহাজের টার্ন অ্যারাউন্ড টাইম সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখা এখন সময়ের দাবি। বন্দরে জাহাজ ভিড়াতে বর্তমানে যেই সময়টা অপেক্ষা করতে হয়; সেটা জিরোতে নামিয়ে আনা প্রয়োজন। অর্থাৎ একটি জাহাজ বন্দরে ঢোকা থেকে পণ্য খালাস/বোঝাই করে বেরিয়ে যেতে যত কম সময় লাগে, ততই ভালো। এতে ব্যবসায়ীদের খরচ কমবে। পাশাপাশি বাল্ক কার্গো ও কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা বাড়িয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এক্সপোর্ট কন্টেইনারবাহী জাহাজ লোড করার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
প্রশ্ন : বন্দরের বর্তমান সক্ষমতার চেয়ে আরও বড় জাহাজ ভিড়ানোর ক্ষেত্রে আপনার পরামর্শ কী?
উত্তর : বেশি গভীরতার বড় জাহাজগুলো যাতে সহজেই নোঙর করতে পারে; সেজন্য কুতুবদিয়া থেকে গহিরা হয়ে আলফা বহির্নোঙর পর্যন্ত কয়েক জায়গায় ড্রেজিং করা প্রয়োজন। আধুনিক বিশ্বে ২০০ থেকে ৩০০ মিটার লম্বা জাহাজ নির্মাণ করা হচ্ছে। তাই আমাদের আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে জলপথের গভীরতা ১২-১৩ মিটার পর্যন্ত বাড়ানো প্রয়োজন। তাহলে কোনো কার্গো জাহাজকে কুতুবদিয়ায় পণ্য খালাস করতে হবে না। এতে আমদানিকারকের প্রতি টনে অন্তত ১০০ টাকা সাশ্রয় হবে। তাই কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা বা কার্যকারিতা বাড়ানোর জন্য আমাদের দ্রুত বে-টার্মিনাল নির্মাণ করা প্রয়োজন।
প্রশ্ন : কর্ণফুলী নদী ড্রেজিংয়ের প্রয়োজন আছে কি?
উত্তর : অবশ্যই প্রয়োজন রয়েছে। প্রবহমান প্রাকৃতিক স্রোতের কারণে কর্ণফুলী নদীর সুবিধা ও সুফলগুলো আমরা যথাযথভাবে ব্যবহার করতে পারছি না। খরস্রোতা হওয়ায় কর্ণফুলী নদীতে সহজেই ক্যাপিটেল ড্রেজিং করা যায়। এতে ভিয়েতনামের সাইগন নদীর মতো এবং থাইল্যাণ্ডের ব্যাংকক নদীর আদলে নদীর দুই পাড়ে জাহাজ ভিড়িয়ে মালামাল খালাস করা যেত।
প্রশ্ন : বন্দরের ট্যারিফ বৃদ্ধি নিয়ে আপনার মতামত কী?
উত্তর : বন্দরে যে ৪১ শতাংশ ট্যারিফ বাড়ানো হয়েছে তা সমস্ত স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা সাপেক্ষে সহনীয় পর্যায়ে বৃদ্ধি করা উচিত ছিল।
প্রশ্ন : নতুন টার্মিনাল নির্মাণ প্রসঙ্গে আপনার পরামর্শ কী?
উত্তর : বাণিজ্যের বাজারকে কেন্দ্রবিন্দু করে যেন র্টামিনালগুলো নির্মাণ করা হয় সেদিকে নজর রাখা উচিত। আমরা যদি ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, ভুটানের মতো করে আমাদের পরিকাঠামো নির্মাণ করি; তাহলে এটা ভুল হবে। ভারতের সেভেন সিস্টারকে টার্গেট করে আমাদের পরিকাঠামোর উন্নতি করতে হবে। সেই সাথে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ বাড়াতে হবে। আমাদের ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়েকে ১০ লেনের এলিভেটেড এক্সপেসওয়েতে উন্নীত করতে হবে। সড়কের ধারণক্ষমতা করতে হবে ৫০ টনের অধিক। বন্দরের সাথে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের রেল ও অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ আরও উন্নত ও ডেডিকেটেড করা দরকার, যাতে কন্টেইনার পরিবহনের চাপ শুধু সড়কপথের ওপর না পড়ে। ঢাকার কাছাকাছি কমলাপুর আইসিডির পাশাপাশি অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আরও নতুন ও আধুনিক আইসিডি স্থাপনের প্রয়োজন রয়েছে।
প্রশ্ন : বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো প্রসঙ্গে কোনো মতামত থাকলে বলুন।
উত্তর : বন্দরের সক্ষমতা ও আয় আরও বাড়াতে চাইলে বন্দরে পেশাদার ব্যক্তি নিয়োগ করতে হবে। প্রয়োজনে চুক্তিভিত্তিক লোক নিয়োগ করতে হবে। অনসুরণ করতে হবে নিত্যনতুন প্রযুক্তি। নাইট নেভিগেশান চালু রাখার পাশাপাশি পর্যাপ্ত টাগবোটের ব্যবস্থা করতে হবে। বন্দর ব্যবহারকারীদের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে আমলাতান্ত্রিক ও বার্থ এলোকেশানের জটিলতাগুলো কমিয়ে আরও সহজ করা প্রয়োজন। কাস্টম, শিপিং এজেন্ট, সিঅ্যান্ডএফ এবং বন্দরের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানকে ব্লকচেইন বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স-নির্ভর করে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় করতে হবে। এতে আমদানিকৃত পণ্য দ্রুত বন্দর থেকে বেরিয়ে যেতে পারবে। ফলে বন্দরের আয় আরও বাড়বে।