প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ নভেম্বর ২০২৫ ১৪:৫৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
দেশে এতদিন জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ছাড়া মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব (এমএফএস) খোলার সুযোগ ছিল না। ফলে ১৮ বছরের কম বয়সি কেউ বিকাশ, রকেট বা নগদের মতো মোবাইল ব্যাংকিংয়ে হিসাব খুলতে পারতেন না। তবে সেই বাধ্যবাধকতা আর থাকছে না। এখন ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সি যে কেউ চাইলেই জন্মসনদ দিয়ে মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব খুলতে পারবেন। তবে অ্যাকাউন্ট খুলতে আগ্রহী ব্যক্তি ও বাবা-মা সবাইকেই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস্ বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত একটি নীতিমালা জারি করা হয়েছে। নীতিমালাটি নির্দেশনা আকারে দেশে কার্যরত মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের প্রোভাইডার প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সি হিসাব খুলতে আগ্রহী ব্যক্তি এবং অভিভাবককে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। হিসাব খুলতে আগ্রহী ব্যক্তির জন্মসনদ এবং তার অভিভাবকের জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর এন্ট্রি করতে হবে। অভিভাবকের মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব বাধ্যতামূলকভাবে ১৮ বছরের কম বয়সিদের হিসাবের সঙ্গে লিঙ্কড করতে হবে। এজন্য প্রমাণ হিসেবে অভিভাবকের মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবে ব্যবহৃত নম্বরে ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড বা ওটিপি পাঠিয়ে সম্মতি নিতে হবে।
এ ছাড়া এসব হিসাবে লেনদেনের ক্ষেত্রে হিসাবধারীর মোবাইল নম্বরে মেসেজ পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে লেনদেনের তথ্য অভিভাবককে জানাতে হবে এবং নিয়মিত মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
নির্দেশনায় বলা হয়, ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আর্থিক অন্তর্ভুক্তির প্রসারে ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সি কিশোর-কিশোরীদের এমএফএস অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ দিয়ে নতুন নীতিমালা জারি করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, এসব হিসাবধারী দৈনিক সর্বোচ্চ পাঁচটা লেনদেনের মাধ্যমে পাঁচ হাজার টাকা এবং মাসে ১০ বারে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা লেনদেন করা যাবে। ক্যাশ আউট করা যাবে দৈনিক সর্বোচ্চ পাঁচটা, লেনদেনের মাধ্যমে পাঁচ হাজার টাকা এবং মাসে ১০ বারে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা।
এদিকে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির (পিটুপি) হিসাবে দৈনিক সর্বোচ্চ পাঁচটা লেনদেনের মাধ্যমে পাঁচ হাজার টাকা এবং মাসে ১০ বার লেনদেনে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা করা যাবে। পরিষেবা ও এডুকেশন ফি দেওয়া যাবে দৈনিক সর্বোচ্চ তিনটা লেনদেনের মাধ্যমে পাঁচ হাজার টাকা এবং মাসে ১০ বার লেনদেনে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা। এ ছাড়া এসব হিসাবে স্থিতি হবে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা।