প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৭:৪২ পিএম
আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ ২১:৪৯ পিএম
ধূমপানের কারণে অকাল বার্ধক্য ঘটতে পারে, এমন সতর্কবার্তা আগেই দিয়েছিলেন গবেষকরা। এবার অসময়ে বয়স বাড়ার জন্য দায়ী এর চেয়ে বিপজ্জনক কারণের কথা জানা গেল। গবেষকরা বলছেন, ধূমপানের চেয়েও হতাশাগ্রস্ত থাকা বা একাকিত্ব বার্ধক্য প্রক্রিয়াকে বেশি ত্বরান্বিত করতে পারে।
মঙ্গলবার
যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দি গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো
হয়েছে।
গবেষকরা
বলছেন, প্রত্যেকের জন্মতারিখের ওপর ভিত্তি করে একটি বয়স থাকে। এ ছাড়াও শরীরের
অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কার্যকারিতা, জিনগত প্রভাব, জীবনযাপন মিলিয়ে আরেক ধরনের বয়স রয়েছে। এটি জৈবিক
বয়স হিসেবে পরিচিত। মানুষের জৈবিক
বয়স যত বাড়ে, বিভিন্ন রোগ ও মৃত্যুঝুঁকিও
তত বাড়ে।
যুক্তরাষ্ট্রের
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও হংকংয়ের চাইনিজ
বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা মিলে বার্ধক্য প্রক্রিয়ার ওপর মানসিক স্বাস্থ্যের প্রভাব বুঝতে একটি ডিজিটাল মডেল তৈরি করেছেন। স্বাস্থ্যবিষয়ক সাময়িকী এজিং জার্নালে এ সংক্রান্ত একটি
গবেষণাপত্রও প্রকাশ করেছেন তারা।
হংকংভিত্তিক
প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ডিপ লংজিভিটির প্রধান বিজ্ঞানী ফেডর গালকিন বলেন, ‘আমাদের প্রধান বার্তা হলো, আপনার শরীর ও আত্মা পরস্পরের
সঙ্গে যুক্ত। অসুখী বোধ
করা বা একা থাকার মতো অনুভূতি মানুষের জৈবিক বয়স এক দশমিক ৬৫ বছর পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে। নিজের মানসিক
স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া আপনার অকাল বার্ধক্য ঠেকাতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।’
গবেষকরা
জানিয়েছেন, একই বয়সি অধূমপায়ীদের চেয়ে ধূমপায়ীদের জৈবিক বয়স অন্তত ১৫ মাস পর্যন্ত বাড়তে
পারে। অন্যদিকে বিয়ে করলে জৈবিক বয়স প্রায় সাত মাস কমতে পারে। শহরে বাস করাদের চেয়ে
গ্রামের বাসিন্দাদের জৈবিক বয়স প্রায় ১৫ মাস পর্যন্ত বেশি হতে পারে।
ইউনিভার্সিটি
কলেজ লন্ডনের মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক
অ্যান্ড্রু স্টেপটো বলেন, ‘সাম্প্রতিক এই গবেষণার ফল বেশ চমকপ্রদ।
উত্তর আমেরিকা
এবং ইউরোপ থেকে পাওয়া কিছু তথ্য-উপাত্তও
প্রমাণ করে যে মানসিক চাপ এবং
নিম্ন আর্থ-সামাজিক অবস্থানের সঙ্গে অকাল বার্ধক্যের সম্পর্ক রয়েছে।’
প্রবা/এমআর/জেআই