× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

যদি একটি গরিলাও ইবোলা আক্রান্ত হয়, পরিস্থিতি হবে ভয়াবহ

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ২৮ এপ্রিল ২০২৩ ১৭:১৪ পিএম

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২৩ ১৭:৪৪ পিএম

কঙ্গোর ভিরুঙ্গা ন্যাশনাল পার্কের রেঞ্জার ও কেয়ারটেকার ম্যাথিউ সামাভুর সেলফিতে পর্বত গরিলা। ছবি : সংগৃহীত

কঙ্গোর ভিরুঙ্গা ন্যাশনাল পার্কের রেঞ্জার ও কেয়ারটেকার ম্যাথিউ সামাভুর সেলফিতে পর্বত গরিলা। ছবি : সংগৃহীত

আমরা সব সময় বন্যপ্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি শুনতে অভ্যস্ত। যেমন মুরগি থেকে মানবদেহে বার্ডফ্লুর সংক্রমণ বা বাদুর থেকে মানুষের মধ্যে ইবোলা ছড়িয়ে পড়া। অথচ আমরা শুনতে অভ্যস্ত না হলেও এর উল্টোটাও আসলে ঘটতে পারে। অর্থাৎ মানব প্রজাতি থেকে প্রাণঘাতি ভাইরাস অন্য প্রাণীর দেহে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং তা সেই প্রাণীর জন্য ভয়াবহ বিপজ্জনকও হতে পারে।

পৃথিবীতে মাত্র ১ হাজারটি পর্বত গরিলা অবশিষ্ট রয়েছে। যদি মানুষের দেহে প্রাণঘাতি ভাইরাস তাদের মধ্যে ছড়ায়, তবে তা প্রজাতিটিকে বিলুপ্তির দিকে ঠেলে দিতে পারে। বিজ্ঞানীরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, তাদের শঙ্কা যদি প্রাণঘাতি ইবোলা ভাইরাস মানুষের থেকে গরিলায় ছড়িয়ে পড়ে, তবে বিশ্বব্যাপী গরিলার সংখ্যা এক তৃতীয়াংশ কমে যাবে। সংখ্যা বিবেচনা করলে এটি বড় উদ্বেগের কারণ।

যুক্তরাষ্ট্র ও কঙ্গোর বিজ্ঞানীদের একটি দল এ-সংক্রান্ত একটি গবেষণা এরই মধ্যে সম্পন্ন করেছেন; যা সায়েন্টিফিক রিপোর্টে এরই মধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। যদি একটি মাত্র গরিলা ইবোলা আক্রান্ত হয়, তবে তা প্রজাতির জন্য হবে ভয়াবহ। মডেলটি বলছে, যে এলাকায় একটি গরিলাও আক্রান্ত হবে, তার ১০০ দিন পর সেখানে কেবল ২০ শতাংশ গরিলা বেঁচে থাকবে। তবে আশার কথা এই যে, দীর্ঘ গবেষণায় এখন পর্যন্ত কোনো গরিলা ইবোলায় আক্রান্ত হওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটির প্রাইমেট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও এই গবেষণার সহলেখক কাস্টেন গিলার্ডি বলেছেন, ‘আমরা খুব ভাগ্যবান যে এ পর্যন্ত এই ভাইরাস (ইবোলা) পর্বত গরিলাদের প্রভাবিত করেনি। আমরা রুয়ান্ডা, উগান্ডা ও কঙ্গোর বন্যপ্রাণী কর্তৃপক্ষ থেকে পাওয়া তথ্যের আলোকে এই গবেষণা ফলাফলগুলো তৈরি করতে সক্ষম হয়েছি। যা এই দুর্দান্ত প্রাণীগুলোকে রক্ষায় আমাদের প্রতিশ্রুতি প্রদর্শন করে।’

মহামারি পরিস্থিতির একটি পরিসীমা অনুকরণ করতে দলটি ওপেন-সোর্স সফ্টওয়্যার আউটব্রেক ব্যবহার করেছে, যা সংক্রামক রোগের বিস্তারের মডেল করার জন্য বন্যপ্রাণী গবেষকদের জন্য ডিজাইন করা একটি টুল বা অ্যাপ্লিকেশন। তবে সংরক্ষণ বিজ্ঞানী ও গবেষণার জ্যেষ্ঠ লেখক রবার্ট লেসি জানিয়েছেন, তার ব্যবহৃত এই কম্পিউটার মডেলের সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। এর কারণ হিসেবে বন্যপ্রাণীর ডেটার দুষ্প্রাপ্যতার কথা বলেছেন তিনি। এরপরও প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি বোঝার ক্ষেত্রে মডেলটিকে কার্যকরই মনে করেন লেসি।

রুয়ান্ডা, উগান্ডা ও কঙ্গোর সীমান্তবর্তী যেসব অঞ্চলে ইবোলার প্রাদুর্ভাব রয়েছে, তার ঠিক ৮০ কিলোমিটারের মধ্যে কঙ্গোর বিরুঙ্গা জাতীয় উদ্যানে গরিলার বাস। ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত কঙ্গোতে ইবোলায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২ হাজার ২৮৭ জন। আর এই নৈকট্যের কারণে প্রাণী সংরক্ষণবাদীরা উদ্বিগ্ন যে ইবোলা একদিন মানব প্রজাতি থেকে গরিলায় ছড়িয়ে পড়তে পারে।   

স্মিথসোনিয়ান ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রির প্রধান লেখক ও প্রাণিবিদ ডন জিমারম্যানও মনে করেন, মানুষ থেকে গরিলাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি একটি উল্লেখযোগ্য হুমকি।  

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা