বিবিসি
প্রকাশ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:১৮ এএম
আপডেট : ০১ মার্চ ২০২৬ ১৪:২৩ পিএম
ম্যামথ মূর্তির গায়ে খোদাই করা ৪৫ হাজার বছর পুরোনো সুক্ষ্ম সংকেত। ছবি: বিবিসি
মানুষের মনের ভাব লিখে প্রকাশের ইতিহাস বা লিখন পদ্ধতির সূচনা অন্তত ৪০ হাজার বছর আগে হয়েছিল বলে দাবি করেছেন একদল প্রত্নতাত্ত্বিক। জার্মানির কয়েকটি গুহায় পাওয়া প্রায় ৪৫ হাজার বছর পুরোনো কিছু নিদর্শনের পাঠোদ্ধার করে তারা এই তথ্য সামনে এনেছেন। এই আবিষ্কার ইতিহাসবিদদের দীর্ঘদিনের প্রচলিত ধারণাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে।
পিএনএএস জার্নালের বরাতে বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।
এতদিন পর্যন্ত ইতিহাসবিদরা মনে করতেন, লিখন পদ্ধতির সূচনা হয়েছিল প্রায় ৫ হাজার বছর আগে প্রাচীন মেসোপটেমিয়ায় (বর্তমান ইরাক), যা ‘প্রোটো-কিউনিফর্ম’ নামে পরিচিত। এরপর পর্যায়ক্রমে মিসর, চীন এবং মেসোআমেরিকায় লিপির উদ্ভব ঘটে। তবে জার্মানির গুহায় ম্যামথের দাঁত ও হাড়ের ওপর পাওয়া বিভিন্ন রেখা, বিন্দু, খাঁজ এবং ক্রসের চিহ্ন এই ধারণাকে বদলে দিচ্ছে।
গবেষকরা জার্মানির লোনেটাল এবং আখটাল উপত্যকার গুহা থেকে ২৬০টি প্রাচীন নিদর্শনের ওপর প্রায় ৩ হাজার চিহ্নের বিন্যাস বিশ্লেষণ করেছেন। এর মধ্যে ম্যামথের দাঁতে খোদাই করা একটি ছোট ম্যামথ মূর্তি এবং ‘অ্যাডোরেন্ট’ নামক একটি গজদন্তের ফলক উল্লেখযোগ্য। এই ফলকে সিংহ-মানবের মূর্তির পাশে সারি সারি বিন্দু ও খাঁজকাটা দাগ পাওয়া গেছে।

মানুষের মতো অবয়ববিশিষ্ট এই প্রাচীন ফলকটিতে সারি সারি বিন্দু ও খাঁজকাটা দাগ দেখা যাচ্ছে, যা গবেষকদের মতে আদিম মানুষের তথ্য বিনিময়ের একটি মাধ্যম। ছবি: বিবিসি
গবেষকদের মতে, এই প্রতীকগুলো কোনো এলোমেলো দাগ নয়, বরং এগুলো ছিল সুনির্দিষ্ট তথ্য বা বার্তা আদান-প্রদানের একটি মাধ্যম।
সারল্যান্ড ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ক্রিশ্চিয়ান বেনজ, যিনি এই গবেষণার অন্যতম লেখক। তিনি বলেন, “প্রস্তর যুগের এই প্রতীকগুলো ছিল লেখার এক প্রাথমিক বিকল্প মাধ্যম”।
তিনি জানান, এই প্রতীকগুলোর বিন্যাস এবং তথ্যের ঘনত্ব ৫ হাজার বছর আগের মেসোপটেমীয় আদি-লিপি বা কিউনিফর্মের মতোই সুশৃঙ্খল।
বার্লিনের মিউজিয়াম অব প্রিহিস্টোরি অ্যান্ড আর্লি হিস্টোরির গবেষক ইভা ডুটকিউইচ বলেন, “এ পর্যন্ত আমরা বিভিন্ন নিদর্শনে যে প্রতীকধারা পেয়েছি, তা হয়তো সম্ভাবনার সামান্য অংশ। আরও অনুসন্ধানে নতুন তথ্য মিলতে পারে”। তার মতে, পাথরযুগের মানুষ আধুনিক মানুষের মতোই দক্ষ ও সৃজনশীল ছিলেন।