প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৮ ডিসেম্বর ২০২২ ২০:২২ পিএম
আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০২২ ২০:৫৩ পিএম
জিন-এডিটেড ছানারা বড় হলে এমন ডিম দেবে যেখান থেকে কেবল মুরগি জন্ম নেবে। ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলের একদল বিজ্ঞানী মুরগির জিন এডিট করে বিশেষ সাফল্য পেয়েছেন। ডিএনএ এডিট করে তারা এমন এক ধরনের মুরগি ‘উদ্ভাবন’ করেছেন, যারা শুধু এমন ডিম দেবে যেখান থেকে কোনো মোরগ জন্ম নেবে না। শুধু মুরগি জন্ম নেবে। পোলট্রিশিল্পের ইতিহাসে এটাকে বিপ্লব হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন জাতের এ মুরগির নাম ‘গোল্ডা হেন’ বা সোনার মুরগি।
আল-মনিটর ও বিবিসিরর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বজুড়ে পোলট্রিশিল্পে বছরে প্রায় ৭০০ কোটি মোরগের ছানা মেরে ফেলা হয়। কারণ প্রথমত, তারা ডিম দিতে পারে না। দ্বিতীয়ত, একটি মোরগকে বিক্রি উপযোগি করতে একটি মুরগির চেয়ে বেশি ব্যয় হয়। তাই একসঙ্গে শত শত মোরগের ছানাকে কোনো কক্ষে আটকে বাতাস বন্ধ করে বা অন্য পদ্ধতি মেরে ফেলা হয়। এ বর্বরতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনামুখর পশুকর্মীরা। এ অবস্থায় ইসরায়েলের কৃষিবিষয়ক গবেষণা সংস্থা ভোলকানি সেন্টারের উদ্ভাবনটি পোলট্রিশিল্পের ইতিহাসে একটি বিপ্লব।
ভোলকানি সেন্টারকে সার্বিক সহায়তা দিয়েছে ইসরায়েল-মার্কিন প্রতিষ্ঠান হুমিন ফার্ম ও যুক্তরাজ্যের পশু কল্যাণবিষয়ক সংগঠন কমপ্যাশন ইন ওয়ার্ল্ড ফার্মিং। ইসরায়েলের সাবেক রাজধানী তেল-আবিবের শহরতলীর ভোলকানি সেন্টারে সাত বছর গবেষণা করে সোনার মুরগি উদ্ভাবনে সক্ষম হয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
ভোলকানি সেন্টারের গবেষক ড. ইউভাল কিনামন বিবিসিকে বলেন, ‘আমাদের উদ্ভাবন নিয়ে আমি বেশ খুশি। পোলট্রিশিল্পের ইতিহাসে এটাকে সত্যিকারের বিপ্লব বলা যায়। এ উদ্ভাবন থেকে পোলট্রিশিল্প থেকে শুরু করে সমাজের সবস্তরের মানুষ উপকৃত হবে। কারণ এ উদ্ভাবন ইতিবাচকভাবে সমাজের সবস্তরে প্রভাব ফেলবে।’
গোল্ডা মুরগির উৎপাদন প্রক্রিয়ার বৈশিষ্ট্য হলো, ডিম মা-মুরগির পেটে ভ্রুণ আকারে থাকাবস্থায় তাতে এক ধরনের নীল আলো ফেলা হয়। এতে করে পুরুষ বা মোরগ ভ্রুণগুলোর মৃত্যু ঘটে। প্রজনন প্রক্রিয়ায় এ ধরনের হস্তক্ষেপের পর যে ডিম ও ডিম থেকে জন্ম নেওয়া মুরগি পাওয়া যাবে, তাদের স্বাদে কোনো পরিবর্তন আসবে না বলে দাবি করেন ড. ইউভাল কিনামন।

হুমিন ফার্মের এক গবেষণায় বলা হয়, একটি মোরগছানাকে হত্যা করতে পোলট্রিশিল্পগুলোর গড়ে এক ডলার ব্যয় হয়। ফলে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করলে অন্য সুবিধাগুলোর মধ্যে নগদে ৭০০ কোটি ডলার রক্ষা পাবে। সংস্থাটির ধারণা, আগামী দুই বছরের মধ্যে এ প্রযুক্তি বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আনা সম্ভব হবে।
ইউরোপের অনেক দেশ মোরগছানা নির্বিচবারে হত্যা নিষিদ্ধ করছে। জার্মানি চলতি বছরের শুরুতে পোলট্রিশিল্পে মোরগছানা হত্যা নিষিদ্ধ করেছে। ফ্রান্সও একই ধরনের একটি আইন করেছে, যা আগামী বছর থেকে কার্যকর হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্মকর্তারা গত অক্টোবরে মোরগছানা হত্যা নিষিদ্ধ নিয়ে আলোচনা করেন। কিন্তু কয়েকটি দেশের আপত্তির কারণে কোনো আইন পাস করা সম্ভব হয়নি।