প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৫ ডিসেম্বর ২০২২ ১৩:৫৯ পিএম
আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০২২ ১৪:১৭ পিএম
যুক্তরাষ্ট্র একাই নয়; যুক্তরাজ্য, চীন, কোরিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশ ফিউশন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা ফিউশন প্রযুক্তিতে নতুন অগ্রগতির ঘোষণা করেছেন। যা একদিন জলবায়ু পরিবর্তন রোধে ভূমিকা রাখতে পারে। এর সঙ্গে জড়িতরা আশা করছেন, আগামী দশকগুলোয় প্রযুক্তিটিকে বাণিজ্যিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারবেন তারা।
ক্যালিফোর্নিয়ার লরেন্স লিভারমোর ন্যাশনাল ল্যাবের গবেষকরা ৫ ডিসেম্বর প্রথমবারের মতো লেজার ব্যবহার করে একটি ফিউশন পরীক্ষায় নেট এনার্জি তৈরি করতে পেরেছেন। পরীক্ষাটি সংক্ষিপ্তভাবে ৩.১৫ মেগাজুল শক্তি উৎপাদন করতে সক্ষম হয়। যদিও পরীক্ষায় পরমাণুতে লেজাররশ্মি নিক্ষেপের জন্যও ২.০৫ মেগাজুল শক্তি খরচ করতে হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি বিভাগ মঙ্গলবার (১৩ ডিসেম্বর) সাংবাদিকদের এমনটাই জানিয়েছেন। তবে এটিকে বাণিজ্যিকভাবে পেতে আরও ৫০-৬০ বছর অপেক্ষা করতে হবে বলে জানিয়েছেন লরেন্স লিভারমোরের পরিচালক কিম্বার্লি বুডিল।
তবে যুক্তরাষ্ট্র একাই নয়; যুক্তরাজ্য, চীন, কোরিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশ ফিউশন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে।
এর আগে যুক্তরাজ্যের অ্যাটমিক এনার্জি অথরিটি জানিয়েছিল, ২০২১ সালের জুনে জেইটির ফিউশন রিঅ্যাক্টরে এক পরীক্ষা চলার সময় রিঅ্যাক্টর থেকে ৫৯ মেগাজুল শক্তি উৎপন্ন করতে সক্ষম হয়েছিল।
বর্তমানে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ফিশন প্রক্রিয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। যেখানে একটি ভারী নিউক্লিয়াসকে নিউট্রন দ্বারা আঘাত করলে দুটি হালকা নিউক্লিয়াসে পরিণত হয়। এ সময় এটি শক্তি নির্গত করে। কিন্তু ফিউশন প্রক্রিয়ায় দুটি হালকা নিউক্লিয়াস একত্র হয়ে একটি ততোধিক ভারী নিউক্লিয়াস গঠন করে এবং শক্তি নির্গত করে।
ফিউশন প্রক্রিয়ায় আমাদের সূর্য তাপ উৎপন্ন করে থাকে। ধারণা করা হয়, এ প্রকল্পের মাধ্যমে একদিন বিশ্বব্যাপী দূষণমুক্ত ও নিরাপদ শক্তি সরবরাহ করা হবে, যার ফলে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা সহজ হবে।
ফসিল ফুয়েলকেন্দ্রিক (জ্বালানি তেল, কয়লা ও গ্যাসকেন্দ্রিক) বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্যও দায়ী। পৃথিবীর অনেক দেশই শক্তির জন্য ফসিল ফুয়েলের বিকল্প ভাবছে। কিন্তু নবায়নযোগ্য জ্বালানিও অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও পর্যাপ্ত পরিমাণ শক্তি উৎপাদন করতে পারে না।
এ ছাড়া প্রচলিত নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টরে সৃষ্ট নিউক্লীয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজও ব্যয়বহুল ও দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকিপূর্ণ। সে হিসেবে ফিউশন রিঅ্যাক্টরে পরিবেশ দূষণ কিংবা নিউক্লীয় বর্জ্যের কোনো ঝামেলা নেই। তাই এটিকেই ভাবা হচ্ছে ভবিষ্যৎ শক্তির উৎস।