প্রাচীন স্থাপত্য
চঞ্চল মাহমুদ
প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল ২০২৩ ০০:১১ এএম
ছবি : সংগৃহীত
গাজী পীরপাল শাহ জামে মসজিদ রংপুর জেলায় প্রাচীন ইসলামি স্থাপত্যের নিদর্শন হিসেবে দাঁড়িয়ে রয়েছে। মসজিদটির অবস্থান পীরগাছা উপজেলার পীরগাছা ইউনিয়ন থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার পশ্চিমে এবং রংপুর শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার পুবে, মহানগরীর সাতমাথা-পীরগাছা রাস্তার চণ্ডীপুর দিঘির দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে। মসজিদের গায়ে কোনো শিলালিপি না থাকলেও এর নির্মাণশৈলী, কারুকাজ ও নির্মাণসামগ্রী দেখে বিশেষজ্ঞরা মসজিদটি সুলতানি আমলে নির্মিত বলে মনে করেন। মসজিদের (ভেতরে) দৈর্ঘ্য ২৪ ফুট, প্রস্থ ৬ ফুট এবং উচ্চতা (গম্বুজ পর্যন্ত) প্রায় ১৬ ফুট। আড়াই ফুট পুরু দেয়ালবিশিষ্ট এ মসজিদের পশ্চিম দেয়ালে অবতল (অগভীর) তিনটি মেহরাব রয়েছে। মাঝের মেহরাবটি অপেক্ষাকৃত বড়। মসজিদে প্রবেশের জন্য রয়েছে ৩ ফুট চওড়া ও ৬ ফুট উঁচু তিনটি দরজা। মাঝের দরজার ওপর ও দুই পাশে আঁকা ছিল ফুল ও লতাপাতা। ইটের গাঁথুনি দ্বারা নির্মিত মসজিদটির চার কোণে রয়েছে অষ্টকোণ আকৃতির চারটি পিলার। এগুলোর চূড়া ছিল কলসাকৃতির।
সংস্কারের অভাবে মূল গম্বুজের চূড়াসহ অন্যান্য চূড়াও ভেঙে
গেছে। মসজিদের ফ্লোরটি শ্যাওলা জমে পিচ্ছিল হয়ে আছে। ভেতরে নামাজের জন্য তিন কাতার
পরিমাণ জায়গা আছে। প্রতি কাতারে ১৫-১৬ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে সক্ষম। মসজিদের
৫-৭
ফুট উত্তরে রয়েছে একটি ইমামবাড়ার (তাজিয়া) ধ্বংসাবশেষ। এর উচ্চতা ছিল প্রায় ১৫ ফুট। ভাঙতে ভাঙতে
বর্তমানে এটির দৃশ্যমান অংশ মাত্র ৩ ফুট। ইমামবাড়াটি এ
কথা স্পষ্ট করে যে,
এককালে এখানে শিয়া
মতাবলম্বী মুসলমানের বাস ছিল। বর্তমানে মসজিদটি কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেও সংস্কারের
অভাবে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। নিশ্চিহ্ন হতে চলেছে ইমামবাড়াটিও। মসজিদের অনেক
স্থানে ও গম্বুজে তৈরি হয়েছে ফাটল। মসজিদ কেন্দ্র করে এখনও মসজিদের উত্তর
পাশের ফাঁকা মাঠে প্রতি বছর বৈশাখ মাসের বৃহস্পতিবার মেলা বসে। কখন থেকে এবং কী কারণে এ মেলা,
সে ইতিহাস জানা যায়
না। মেলা উপলক্ষে প্রতি বছর মসজিদের ছাদে গজিয়ে ওঠা বৃক্ষলতাসমূহ পরিষ্কার
করা হলেও বছরের বাকি সময় অরক্ষিতই থাকে মসজিদটি। বৈশাখ মাসে মেলা চলাকালে
ধর্মবর্ণনির্বিশেষে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাদের মানতের টাকাপয়সা,
হাঁসমুরগি,
ছাগল-ভেড়া ইত্যাদি মসজিদে দিলেও তা মসজিদের
সংস্কারে ব্যয় হয় না।
প্রায় ৪০০ বছরের প্রাচীন এ মসজিদে কত যুগ নামাজ আদায় হয় না
জানা দুষ্কর। এলাকাবাসী একবার মসজিদটি সংস্কারের মাধ্যমে নামাজ শুরু করলেও
মসজিদের তৎকালীন জিম্মাদারদের বাধার মুখে বন্ধ হয়ে যায়। ঐতিহ্যবাহী এ মসজিদটি সংস্কারের
সঙ্গে সঙ্গে স্থানটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের জিম্মায় নেওয়ার দাবি এলাকাবাসীর।