হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ মে ২০২৬ ২২:১৫ পিএম
আপডেট : ০৯ মে ২০২৬ ২২:১৫ পিএম
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের মুজাখালী গ্রামের শ্রী শ্রী কামাক্ষ্যা মাতার মন্দির। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী কামাক্ষ্যা মাতার বার্ষিক বড় পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উপজেলার সদর ইউনিয়নের মুজাখালী গ্রামে শনিবার শ্রী শ্রী কামাক্ষ্যা মাতার মন্দির প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশে এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়।
পূজাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই মন্দির প্রাঙ্গণে হাজারো ভক্তের সমাগম ঘটে। দিনভর পূজা, অর্চনা ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পুরো এলাকা সনাতন ধর্মালম্বীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়। ভক্তদের ভক্তি ও প্রার্থনায় মুখরিত হয়ে ওঠে মন্দির চত্বর।
আয়োজকরা জানান, পুরাণ মতে দক্ষযজ্ঞে সতীর আত্মহুতি এবং পরবর্তী সময়ে তার দেহাংশ পতনের মধ্য দিয়ে ভারতবর্ষের বিভিন্ন স্থানে ৫১টি শক্তিপীঠের সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে আসামের কামরূপ জেলার নীলাচল পাহাড়ে অবস্থিত কামাক্ষ্যা মাতার মন্দির অন্যতম। জনশ্রুতি রয়েছে, ওই কামাক্ষ্যা মন্দিরের এক পান্ডা বা ভক্তের স্বপ্নাদেশে প্রায় এক শতাব্দী আগে হালুয়াঘাটের মুজাখালী গ্রামে শ্রী শ্রী কামাক্ষ্যা মাতার মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়।
সেই ধারাবাহিকতায় প্রতিবছর এখানে বড় পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে, যা সময়ের সঙ্গে একটি বৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় আয়োজনে রূপ নিয়েছে।
পূজা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শ্রী শ্রী কামাক্ষ্যা মাতার মন্দির কমিটির আহ্বায়ক ও হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সল আহমেদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ-১ আসনের সংসদ সদস্য সালমান ওমর রুবেল, সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাকিয়া সুলতানা রোজি, হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আলম, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি শ্রীমতি মন্টি রানী সরকার, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম মিয়া বাবুল, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক হানিফ মো. শাকের উল্লাহ, হালুয়াঘাট উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দেবতোষ সরকার ও সাধারণ সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র সাহা।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সনাতন যুব সংঘের সাবেক সভাপতি সঞ্জয় সরকার। এ সময় হালুয়াঘাটসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত সনাতন ধর্মালম্বী সম্প্রদায়ের ব্যক্তিবর্গ ও বিপুলসংখ্যক ভক্ত অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশ প্রশাসন ও মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।