প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ মে ২০২৬ ০৯:১৯ এএম
অহিংসবাদের প্রবর্তক গৌতম বুদ্ধ বলেছিলেন, বৈরিতা দিয়ে বৈরিতা, হিংসা দিয়ে হিংসা কখনও প্রশমিত হয় না। অহিংসা দিয়ে হিংসাকে প্রশমিত করতে হবে। ছবি: রয়টার্স
আজ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ‘বুদ্ধপূর্ণিমা’। বৌদ্ধধর্ম মতে, প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে এই দিনে মহামতি গৌতম বুদ্ধ আবির্ভূত হন। গৌতম বুদ্ধের শুভজন্ম, বোধিজ্ঞান ও মহাপরিনির্বাণ লাভÑ বুদ্ধের জীবনের এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের কারণে প্রতিবছর বৈশাখ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা এই উৎসব পালন করে থাকে। আজ শুক্রবার, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সেই মহাকাঙ্ক্ষিত উৎসবের দিন ‘বুদ্ধপূর্ণিমা’। শুভ বুদ্ধপূর্ণিমা।
এ উপলক্ষে ঢাকাসহ দেশজুড়ে বৌদ্ধ বিহারগুলোতে বুদ্ধ পূজা ও শীল গ্রহণ, পিণ্ডদান, প্রদীপ প্রজ্বালন, শান্তি শোভাযাত্রা, ধর্মীয় আলোচনা, প্রভাতফেরি, সমবেত প্রার্থনা, ভিক্ষু সংঘের প্রাতঃরাশসহ নানা আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। দিনটি শুরু হয় পবিত্র স্নানের মাধ্যমে। এরপর গৌতম বুদ্ধের চরণে শ্রদ্ধা নিবেদন , পরে দান ও সেবাসহ নানা বিশেষ আচার অনুষ্ঠান পালন করা হবে। এ ছাড়াও মানবজাতির সর্বাঙ্গীণ শান্তি ও মঙ্গল কামনায় বিশেষ প্রার্থনাসভার আয়োজন করা হয়েছে। সাধারণত দেশজুড়ে বিহারগুলোর চূড়ায় জাতীয় ও ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন এবং ভোরবেলায় ত্রিপিটকের পবিত্র শ্লোক পাঠের মাধ্যমে এই উৎসব শুরু হয়।
‘জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক’ এই অহিংস বাণীর প্রচারক গৌতম বুদ্ধের মূল জীবনদর্শন হচ্ছেÑ অহিংসা, সাম্য, মৈত্রী ও প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সহাবস্থান। অহিংসবাদের প্রবর্তক গৌতম বুদ্ধ বলেছিলেন, বৈরিতা দিয়ে বৈরিতা, হিংসা দিয়ে হিংসা কখনও প্রশমিত হয় না। অহিংসা দিয়ে হিংসাকে প্রশমিত করতে হবে।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা
বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, “মহামতি বুদ্ধ আজীবন একটি সৌহার্দ্যময় ও শান্তিপূর্ণ বিশ্ব প্রতিষ্ঠার জন্য নিরন্তর প্রয়াস চালিয়েছেন। আজকের এই অশান্ত ও সংঘাতময় বিশ্বে যুদ্ধ-বিগ্রহ, ধর্ম-বর্ণ-জাতিগত হানাহানি রোধসহ সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় মহামতি বুদ্ধের দর্শন ও জীবনাদর্শ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে আমি মনে করি।”
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মহামতি গৌতম বুদ্ধ আজীবন মানুষের কল্যাণে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় অহিংসা, সাম্য ও মৈত্রীর বাণী প্রচার করেছেন। গৌতম বুদ্ধের শিক্ষা শান্তি, সহনশীলতা, মৈত্রী, করুণা ও অহিংসার চিরন্তন বাণী বহন করে। বর্তমান বিশ্বে যখন সংঘাত, বিদ্বেষ ও অসহিষ্ণুতা নানা সংকট সৃষ্টি করছে, তখন গৌতম বুদ্ধের সহমর্মিতা, মানবিকতা ও শান্তির বাণী আমাদের জন্য গভীর প্রেরণা হয়ে উঠতে পারে।”
শান্তি আর আত্মদর্শনের বার্তা নিয়ে আসে বুদ্ধপূর্ণিমা। গৌতম বুদ্ধের জীবন ও দর্শনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই দিনটি ভক্তদের কাছে কেবল উদযাপনের নয়, বরং তার দেখানো পথে চলার সংকল্প নেওয়ার দিন। দৈনন্দিন জীবনের কোলাহলে আমরা যে মানবিক মূল্যবোধগুলো হারিয়ে ফেলি, বুদ্ধপূর্ণিমা আমাদের সেই ধৈর্য, সচেতনতা এবং করুণার কথা মনে করিয়ে দেয়। যে জন্য প্রতিবছরের মতো এবারও ‘বুদ্ধপূর্ণিমা’ উপলক্ষে বাংলাদেশ বৌদ্ধ ফেডারেশন (বিবিএফ) মেরুল বাড্ডার আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারে আলোচনা সভাসহ দিনব্যাপী কর্মসূচির আয়োজন করেছে। আলোচনা সভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধান অতিথি থাকবেন। এ ছাড়া চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার, কুমিল্লা, বরগুনা, রংপুর ও সিলেটের বৌদ্ধ অধ্যুষিত অঞ্চলেও বুদ্ধপূর্ণিমা পালিত হবে।
বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে আজ দেশে সরকারি ছুটি। উৎসব ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।