× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

নাজাতের অষ্টম দিন

ফিতরা আদায়ে কার্পণ্য নয়

মুফতি মাহফুজ আবেদ

প্রকাশ : ১৮ মার্চ ২০২৬ ১২:২৬ পিএম

ফিতরা আদায়ে কার্পণ্য নয়

রমজান মাসের রোজা রাখতে গিয়ে যে টুকটাক ভুল হয়ে যায়, তার কাফফারা স্বরূপ সদকাতুল ফিতরের বিধান দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে রমজান শেষে ঈদের দিন দরিদ্রদের মুখেও যেন ফুটে ওঠে আনন্দের রেখা, তাদের ঘরেও যেন উত্তম খাবারের ব্যবস্থা হয়, সেজন্য বিত্তবানদের ওপর ওয়াজিব করা হয়েছে সদকাতুল ফিতর।

হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) সদকাতুল ফিতরের বিধান দান করেছেন রোজাদারকে অর্থহীন ও অশ্লীল কথা-কাজ থেকে পবিত্র করার জন্য এবং মিসকিনদের খাবারের ব্যবস্থা হিসেবে। যে ব্যক্তি তা (ঈদের) নামাজের আগে আদায় করবে সেটা গ্রহণযোগ্য সদকা হিসেবে পরিগণিত হবে। আর যে নামাজের পর আদায় করবে সেটা সাধারণ সদকা হিসেবে বিবেচিত হবে। Ñসুনানে আবু দাউদ : ১৬০৯

প্রত্যেক মুসলিম নর-নারী, যার মালিকানায় মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার মূল্য সমপরিমাণ সম্পদ রয়েছে, তার ওপর সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব। প্রত্যেকে তার নিজের পক্ষ থেকে এবং নাবালেগ সন্তানের পক্ষ থেকে ফিতরা আদায় করবে। এ বছর বাংলাদেশে জনপ্রতি ফিতরার সর্বনিম্ন হার ১১০ টাকা নির্ধারণ করেছে জাতীয় ফিতরা নির্ধারণ কমিটি। আর সর্বোচ্চ ফিতরা হলো ২ হাজার ৮০৫ টাকা।

ইসলামের বিধানে মুসলমানরা সামর্থ্য অনুযায়ী গম, আটা, খেজুর, কিশমিশ, পনির ও যবের যেকোনো একটি পণ্যের নির্দিষ্ট পরিমাণ বা এর বাজারমূল্য ফিতরা হিসেবে গরিবদের মধ্যে বিতরণ করতে পারবেন। আটার ক্ষেত্রে এর পরিমাণ এক কেজি ৬৫০ গ্রাম। খেজুর, কিশমিশ, পনির ও যবের ক্ষেত্রে ৩ কেজি ৩০০ গ্রামের মাধ্যমে ফিতরা আদায় করতে হয়। উল্লিখিত পণ্যের বাজারমূল্য হিসেব করে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন ফিতরা নির্ধারণ করা হয়।

ফিতরা সংক্রান্ত হাদিসে ৫টি পণ্যের যেকোনোটি দ্বারা আদায়ের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। যেন মুসলমানরা নিজ নিজ সামর্থ্য ও সুবিধা অনুযায়ী এর যেকোনো একটি দ্বারা তা আদায় করতে পারেন। কালপরিক্রমায়, হাদিসে বর্ণিত পাঁচ প্রকারের খাদ্যদ্রব্যের মধ্যে বর্তমানে গমের মূল্য সবচেয়ে কম। আর সেটা ধরেই বর্তমানে ন্যূনতম ফিতরার হার নির্ধারণ করা হয়। এখন প্রশ্ন হলোÑ তাহলে এ যুগে সর্বশ্রেণির জন্য এমনকি সম্পদশালীদের জন্যও শুধু গম বা তার মূল্য দ্বারা সদকা ফিতর আদায় করা কী করে সমীচীন?

যদিও প্রায় মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তই ফিতরা আদায় করছেন এক হিসাবে। সব শ্রেণির মানুষ যদি সবচেয়ে নিম্ন মূল্যমানের দ্রব্য দিয়ে ফিতরা আদায় করেন, তবে হাদিসে বর্ণিত অন্য চারটি পণ্যের হিসেবে ফিতরা আদায়ের ওপর আমল করবে কে?

উচিত ছিল, যে ব্যক্তি উন্নতমানের আজওয়া খেজুরের হিসাবে ফিতরা আদায়ের সামর্থ্য রাখে সে তা দিয়ে আদায় করবে। যার সাধ্য পনিরের হিসাবে দেওয়ার সে তাই দেবে। এর চেয়ে কম আয়ের লোকেরা খেজুর বা কিশমিশের হিসাব গ্রহণ করতে পারে। আর যার জন্য এগুলোর হিসাবে দেওয়া কঠিন সে আদায় করবে গম দ্বারা। এটাই উত্তম নিয়ম। এ নিয়মই ছিল নবী, সাহাবা-তাবেঈন ও তাবে তাবেঈনের স্বর্ণযুগে। আর আমরা পালন করছি সুবিধামতো!

এমতাবস্থায় এদেশের ফিতরা আদায়কারীদের প্রতি বিনীত আহ্বান, তারা যেন যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী হাদিসে বর্ণিত পণ্যগুলোর মধ্যে তুলনামূলক উচ্চমূল্যের পণ্যটির হিসাবে ফিতরা আদায় করেন।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা