মুফতি মাহফুজ আবেদ
প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০২৬ ০৮:৩৯ এএম
আপডেট : ১৫ মার্চ ২০২৬ ০৮:৪৬ এএম
রমজান মূলত আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের মাস। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
রমজান মূলত আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের মাস। এই মাসের শেষ দশক বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ। কারণ এই সময়ের মধ্যেই রয়েছে লাইলাতুল কদরের মতো মহিমান্বিত রাত। যে রাতে ইবাদত করলে হাজার মাসের চেয়েও বেশি সওয়াব মেলে। অর্থাৎ এই রাত হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। তাই হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) এই দশকে ইবাদতে অধিক মনোনিবেশ করতেন। হাদিসে এসেছে, হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘যখন রমজানের শেষ দশক আসত তখন নবী কারিম (সা.) তার লুঙ্গি কষে নিতেন (বেশি বেশি ইবাদতের প্রস্তুতি নিতেন) এবং রাত জেগে থাকতেন ও পরিবার-পরিজনকে জাগিয়ে দিতেন। -সহিহ বোখারি : ২০২৪
এই দশকে ইবাদতের প্রকৃত সৌন্দর্য শুধু বাহ্যিক আমলে সীমাবদ্ধ নয় বরং অন্তরের গভীর ইবাদতের মধ্যেই এর প্রকৃত রূপ ফুটে ওঠে। আল্লাহ তায়ালার সামনে ভাঙা হৃদয়, বিনয়ী আত্মা, অশ্রুসিক্ত দোয়াÑ এসবই বান্দাকে তার নৈকট্যের দিকে টেনে নেয়। তাই রমজানে মহান আল্লাহর বিশেষ রহমতের ছায়ায় আশ্রয় পেতে অন্তরকে দুনিয়ার মোহ ও আত্মকেন্দ্রিকতা থেকে বিচ্ছিন্ন করে একান্তভাবে আল্লাহর দিকে ফিরে যেতে হবে।
এটি এমন এক অবস্থা, যখন বান্দার হৃদয় সবকিছু থেকে সরে গিয়ে শুধু আল্লাহর সান্নিধ্য কামনা করে। তার ভয়, আশা, ভালোবাসা ও নির্ভরতাÑ সবই আল্লাহকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর তুমি তোমার রবের নাম স্মরণ করো এবং একাগ্রচিত্তে তার প্রতি নিমগ্ন হও।’ -সূরা মুজ্জাম্মিল : ৮
মহান আল্লাহর রহমত ছাড়া বান্দা সম্পূর্ণ অসহায়। বান্দা যখন তার এই দুর্বলতা উপলব্ধি করে আল্লাহর দরবারে কাকুতি-মিনতি করে, নিজের সব অক্ষমতা প্রকাশ করে আত্মসমর্পণ করে, তখন আল্লাহর বিশেষ রহমতের আশা করতে পারে। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তুমি নিজ মনে আপন রবকে স্মরণ করো সকাল-সন্ধ্যায় অনুনয়-বিনয় ও ভীতিসহকারে এবং অনুচ্চ স্বরে। আর গাফেলদের অন্তর্ভুক্ত হয়েও না।’ -সূরা আরাফ : ২০৫
পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তার বান্দাদের গাফেলদের অন্তর্ভুক্ত হতে নিষেধ করেছেন। তাই কখনও শয়তানের প্ররোচনায় ভুল হয়ে গেলেও গাফেল থেকে যাওয়ার সুযোগ নেই। মুমিনের দায়িত্ব হলো দ্রুত তওবা করে মহান আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করা। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর তোমরা তোমাদের রবের অভিমুখী হও এবং তোমাদের ওপর আজাব আসার আগেই তার কাছে আত্মসমর্পণ করো।’ -সূরা জুমার : ৫৪
তাই পবিত্র রমজানের এই গুরুত্বপূর্ণ দশকে ইবাদতে পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়, রোজা পালনের পাশাপাশি নফল ইবাদতেও মনোনিবেশ করা সময়ের দাবি। রমজানে প্রত্যেক রোজাদারকেই শেষ রাতে জাগ্রত হতে হয়, তারা যদি তখন কিছু সময় তাহাজ্জুদে ব্যয় করতে পারে, তাহলে তা তাদের মর্যাদাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। কারণ মহান আল্লাহর কাছে রাতের ইবাদতের বিশেষ ফজিলত রয়েছে। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘কে রাত্রির বিভিন্ন প্রহরে সিজদা ও দণ্ডায়মান অবস্থায় বিনয় ও শ্রদ্ধা-ভক্তি প্রকাশ করে, আখিরাতকে ভয় করে, আর তার প্রতিপালকের অনুগ্রহ প্রত্যাশা করে? বলোÑ যারা জানে আর যারা জানে না, তারা কি সমান? বিবেক-বুদ্ধিসম্পন্ন লোকেরাই কেবল উপদেশ গ্রহণ করে থাকে।’ -সূরা জুমার : ৯