× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

রোজা ফিদইয়া কী, কেন দিতে হয়?

মুফতি মাহফুজ আবেদ

প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০২৬ ০৯:৩৩ এএম

গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

দয়াময় আল্লাহতায়ালা বান্দাদের ওপর যেসব ফরজ বিধান দিয়েছেন তা পালনে অবহেলার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বান্দাদের ওপর সাধ্যের বাইরে কিছু চাপিয়ে দেননি। কুরআনে কারিমে বর্ণিত হয়েছে, ‘আল্লাহ কোনো ব্যক্তিকে তার সামর্থ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না। সে যা অর্জন করে তা তার জন্যই এবং সে যা কামাই করে তা তার ওপরই বর্তাবে।’ -সূরা বাকারা : ২৮৬

তবে বার্ধক্য, অসুস্থতা বা অপারগতার কারণে কেউ নামাজ বা রোজার মতো মৌলিক বিধানগুলো পালন করতে না পারলে তার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা ও বিধান রয়েছে ইসলামে। এমনই একটি বিধান হলোÑ ফিদইয়া (বিনিময় বা মুক্তিপণ)। ফিদইয়া হচ্ছে এক ধরনের কাফফারা।

যদি কোনো ব্যক্তির অসুস্থতার কারণে অভিজ্ঞ কোনো ডাক্তারের পরামর্শে রোজা রাখতে অক্ষম হন এবং পরে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা না থাকে এবং যদি ওই অসুস্থ ব্যক্তি কাজা করার আগেই ইন্তেকাল করেন, তাহলে তার পক্ষ থেকে আত্মীয়-স্বজন ফিদইয়া আদায় করবে। কেননা মারা যাওয়ার দরুন তার আর কাজা করার সুযোগ নেই। -হেদায়া : ২/১২০

একইভাবে যদি কোনো ব্যক্তি নামাজের কাজা আদায় না করেই মুমূর্ষু অসুস্থ হয়ে পড়ে, কিংবা মারা যায়, তাহলে তার অসুস্থ অবস্থায় কাজা হওয়া নামাজের জন্য ফিদইয়া দিতে হবে। এ বিষয়ে ইসলামী শরিয়তে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে নামাজের ফিদইয়ার ক্ষেত্রে শরিয়তের বিধান হলো, যদি ওই ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বা বসে অথবা ইশারার মাধ্যমে নামাজ আদায় করতে সক্ষম হয়, তাহলে বিগত দিনের নামাজ কাজা আদায় করে নেবে। বসে-ইশারায় যেভাবে সম্ভব। এমতাবস্থায় শুধু ফিদইয়া আদায় করে দায়িত্বমুক্ত হতে পারবে না। তবে উল্লিখিত কোনো অবস্থায়ই যদি মৃত্যু পর্যন্ত আর নামাজ আদায়ে সক্ষম না হয়, তাহলে ফিদইয়া আদায় করবে।

আলেমদের মতে পরবর্তী সময়ে ওই ব্যক্তি যদি সুস্থ হয়ে রোজা রাখা ও নামাজ পড়ার মতো শক্তি ও সাহস পায়, তাহলে তার আগের রোজার কাজা আদায় করতে হবে। তখন আগে আদায়কৃত ফিদইয়া সদকা হিসেবে গণ্য হবে। কারও নামাজের ফিদইয়া দেওয়া আবশ্যক হলে এ ক্ষেত্রে প্রত্যেক দিনের পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ বিতিরসহ ছয় ওয়াক্ত হিসাব করে প্রত্যেক ওয়াক্তের জন্য পৌনে দুই সের গম বা আটা অথবা এর বাজার মূল্য গরিব-মিসকিনকে মালিক বানিয়ে দান করে দিতে হবে। অথবা প্রতি ওয়াক্তের বদলে একজন গরিবকে দুই বেলা তৃপ্তি সহকারে খাবার খাওয়াতে হবে। -ফাতাওয়া শামী : ২/৭২

একটি রোজার ফিদইয়া এক ওয়াক্ত নামাজের ফিদইয়ার সমপরিমাণ। অর্থাৎ প্রতিটি রোজার জন্য গরিবকে দুই বেলা খাবার খাওয়াতে হবে বা এর সমমূল্য দান করতে হবে। -হিদায়া : ১:২২২

পবিত্র কুরআনে আল্লাহতায়ালা এক দিনের রোজার ফিদইয়া হিসেবে একজন অভাবগ্রস্ত মানুষকে দুই বেলা খাবার খাওয়ানোর কথা উল্লেখ করেছেন। প্রয়োজনে তার সমমূল্য সদকা করা যাবে। তবে ফিদইয়া আদায়ের ক্ষেত্রে প্রত্যেক ব্যক্তি তার আর্থিক সামর্থ্য ও মান অনুযায়ী তা প্রদান করবেন। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি আনন্দের সঙ্গে নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে বেশি ফিদইয়া দেয়, তা তার জন্য আরও উত্তম।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা