মুফতি মাহফুজ আবেদ
প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০২৬ ০৮:৩৭ এএম
আপডেট : ১০ মার্চ ২০২৬ ০৮:৪২ এএম
পবিত্র রমজান মাসের শেষ দশকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতÑ ইতিকাফ। দুনিয়ার যাবতীয় ব্যস্ততা ত্যাগ করে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের বিশেষ সুযোগ এটি। রমজানের শেষ ১০ দিন ইতিকাফ করা সুন্নতে মোয়াক্কাদা কিফায়া অর্থাৎ মহল্লার অন্তত একজন এটি আদায় করলে সবাই দায়মুক্ত হবে, অন্যথায় সবাই গুনাহগার হবে। ইতিকাফের জন্য ২০ রমজান সূর্যাস্তের আগে মসজিদে প্রবেশ করতে হয়। সূর্যাস্তের পর বা মাগরিবের পর প্রবেশ করলে সুন্নত ইতিকাফ হবে না, তা নফল হিসেবে গণ্য হবে। এই ইতিকাফ শেষ হবে ঈদের চাঁদ দেখার দিন সূর্যাস্তের পর।
ইতিকাফ তিন প্রকার। সুন্নত (রমজানের শেষ ১০ দিন), ওয়াজিব (মানত পূরণের জন্য) এবং নফল (যেকোনো সময়)। ইতিকাফ শুদ্ধ হওয়ার জন্য নিয়ত করা, পুরুষদের ক্ষেত্রে জামাত হয় এমন মসজিদে অবস্থান করা এবং শরীর পবিত্র রাখা আবশ্যক। এ ছাড়া সুন্নত ও ওয়াজিব ইতিকাফের জন্য রোজা রাখা শর্ত। ইতিকাফকারী বিশেষ প্রয়োজনে মসজিদ থেকে বের হতে পারবেন। এর মধ্যে রয়েছেÑ প্রাকৃতিক প্রয়োজন (প্রস্রাব-পায়খানা ও ফরজ গোসল), শরয়ি প্রয়োজন (জুমার নামাজ আদায়ের জন্য অন্য মসজিদে যাওয়া) এবং আজান দেওয়া। এ ছাড়া খাবার পৌঁছে দেওয়ার মতো কেউ না থাকলে খাবার আনতে বাইরে যাওয়া যাবে।
তবে নির্দিষ্ট কিছু কারণে ইতিকাফ ভেঙে যায়। সেগুলো হলোÑ অপ্রয়োজনীয় প্রস্থান অর্থাৎ কারণ ছাড়া মসজিদ থেকে বের হওয়া বা প্রয়োজনে বের হয়ে দেরি করা। শরীর ঠান্ডা করতে সাধারণ গোসলের জন্য বের হওয়া (তবে ভেজা গামছা দিয়ে শরীর মোছা যাবে)। ইতিকাফ অবস্থায় জানাজায় অংশ নিতে ও রোগী দেখতে মসজিদ থেকে বের হওয়া যাবে না। সেই সঙ্গে কোনো ব্যবসায়িক লেনদেন বা দুনিয়াবি উদ্দেশ্যে মসজিদ ত্যাগ করা চলবে না। ইতিকাফ অবস্থায় রাতেও স্ত্রী-সহবাস নিষিদ্ধ। টাকার বিনিময়ে কাউকে ইতিকাফে বসানো সম্পূর্ণ নাজায়েজ।
নারীদের জন্য নিজ ঘরের নির্দিষ্ট কোনো কক্ষে ইতিকাফ করা উত্তম। তবে মসজিদে পর্দা ও প্রয়োজনীয় সুব্যবস্থা থাকলে সেখানেও ইতিকাফ করা বৈধ। নারীদের ক্ষেত্রে স্বামীর অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক এবং ঋতুস্রাব শুরু হলে ইতিকাফ ছেড়ে দিতে হবে। ইতিকাফে যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় বিছানাপত্র, পোশাক, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সামগ্রী এবং ধর্মীয় বই ও তাসবিহ গুছিয়ে নেওয়া উচিত। অপ্রয়োজনীয় কথা ও মোবাইল ব্যবহার বর্জন করে কুরআন তেলাওয়াত, জিকির ও নফল ইবাদতে সময় কাটানোই ইতিকাফের মূল লক্ষ্য।
তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, নবী কারিম (সা.)-এর জীবনে সবচেয়ে গুরুত্ব পাওয়া এই আমলটি আজ আমাদের সমাজে সবচেয়ে বেশি অবহেলিত। যে আমল নবী কারিম (সা.) জীবনে কখনও ছাড়েননি, আমরা অনেকেই তা জীবনে একবারও পালন করি না। এর চেয়ে দুর্ভাগ্যের আর কী হতে পারে! ব্যক্তি ও সমাজজীবনে এই পবিত্র সুন্নতকে পুনর্জীবিত করা সবার ঈমানি দায়িত্ব। প্রত্যেক মুমিনের উচিত এই আমলের প্রতি যত্নবান হওয়া এবং নিজের জীবনে অন্তত একবার হলেও এই মহান ইবাদতের স্বাদ গ্রহণের চেষ্টা করা।