× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ব্যবসায়ীদের দায়িত্ব ও আমাদের কর্তব্য

মুফতি মাহফুজ আবেদ

প্রকাশ : ০৯ মার্চ ২০২৬ ০৯:৪৬ এএম

গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

গত শনিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় দেশের আলেম-ওলামা এবং এতিমদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘পবিত্র রমজান ত্যাগ ও সংযমের মাস। রহমত ও বরকতের মাস। অথচ অপ্রিয় হলেও সত্য, রমজান এলে আমাদের ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দেন। এই মাসকে লোভ-লাভের মাস বানিয়ে ফেলেন। পবিত্র মাসেও যারা অসাধুপন্থা অবলম্বন করছেন, আপনাদের প্রতি আমার বিনীত আহ্বানÑ অনুগ্রহ করে আপনারা মানুষের কষ্টের কারণ হবেন না।’ পবিত্র রমজানে দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠে করুণ বাস্তবচিত্রই প্রকাশ পেয়েছে।

আমরা জানি, সংযমের এ মাসে বান্দা নির্বিঘ্নে আল্লাহ তায়ালার ইবাদত-বন্দেগির পাশাপাশি দান-সদকা ও জাকাত আদায় করেন। দুস্থ-অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, রমজান এলে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে বান্দার সেসব সেবা ও জনকল্যাণমূলক কাজ অনেকটাই চাপা পড়ে যায়। বিশ্বের অন্য মুসলিম দেশগুলোতে দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা ১১ মাস ব্যবসা করলেও রমজান মাসে মানুষের সেবা করেন; পক্ষান্তরে আমাদের দেশে এর উল্টো চিত্র। 

এ মাসে নিত্যপণ্যের চাহিদা বেড়ে যাওয়ার ফলে একশ্রেণির মজুদদার, মুনাফাখোর, অসাধু ব্যবসায়ী পণ্য মজুদ রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়িয়ে দেয়। সংযমের মাসে তারা হয়ে ওঠে অসংযমী। এজন্যই ইসলাম মানুষের অযাচিত হস্তক্ষেপ থেকে বাজারব্যবস্থাকে রক্ষার জন্য মজুদদারি, অত্যধিক মুনাফাখোরি ও প্রতারণা নিষিদ্ধ করেছে। অধিক মুনাফার আশায় পণ্য মজুদ করাকে ইসলাম অবৈধ ঘোষণা করেছে। 

সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে সম্পদশালী হয়ে গেলেও কোনো লাভ নেই। এ সম্পদে তার কোনো বরকত হবে না। বরং দুনিয়াতেই এ সম্পদ তার জন্য অভিশাপ হবে। নবী কারিম (সা.) বলেছেন, ‘কেউ যদি খাদ্য গুদামজাত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে, আল্লাহ তায়ালা তাকে দুরারোগ্য ব্যাধি ও দারিদ্র্য দ্বারা শাস্তি দেবেন।’ -ইবনে মাজাহ : ২১৫৫

মজুদদারি না করে সৎ নিয়তে ব্যবসা করা ইবাদত। এমন ব্যক্তির উপার্জনে আল্লাহ বরকত দান করেন। তাকে অপ্রত্যাশিত রিজিক দেন। এ কারণে মুসলিম ব্যবসায়ীদের দায়িত্ব ও কর্তব্য রমজানে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা। মানুষ কষ্ট পায়Ñ এমন কাজ থেকে বিরত থাকা।

আরেকটি বিষয়, বাজার স্থিতিশীল রাখার ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি ভোক্তাদেরও দায়িত্ব রয়েছে। সবার উচিত রমজানের কেনাকাটায় মিতব্যয়ী হওয়া, মাত্রাতিরিক্ত দ্রব্যসামগ্রী না কেনা। রমজান ইবাদতের মাস, কেনাকাটার মাস নয়। কেনাকাটা করতে গিয়ে যেন ইবাদতের মহাসুযোগ হাতছাড়া না হয়ে যায়Ñ এদিকে খেয়াল রাখতে হবে। রমজানের শেষ দশকে রয়েছে লাইলাতুল কদরের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাত। রয়েছে এতেকাফের মতো বরকতময় ইবাদত। এসব বাদ দিয়ে মার্কেটে-মার্কেটে ঘুরে বেড়ানো ও কেনাকাটায় সময় ব্যয় কাম্য নয়। 

রমজান যত বাড়তে থাকে আমাদের ইবাদত-বন্দেগির পরিমাণ তত কমতে থাকে। রমজানের প্রথমদিকে মসজিদে যে পরিমাণ মুসল্লি পাওয়া যায়, শেষদিকে তা আর পাওয়া না। এ সময় দেখা যায়, মানুষ নামাজ বাদ দিয়ে কেনাকাটা ও দুনিয়াবি কাজকর্মে মশগুল। অনেকে কেনাকাটা করতে যেয়ে ক্লান্ত হয়ে রোজাও ছেড়ে দেয়, যা কাম্য নয়।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা