× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সত্য-মিথ্যার টিকে থাকার লড়াই

মুফতি মাহফুজ আবেদ

প্রকাশ : ০৭ মার্চ ২০২৬ ০৯:২৬ এএম

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০২৬ ১৪:৫৫ পিএম

সত্য-মিথ্যার টিকে থাকার লড়াই

পৃথিবীতে ইসলাম থাকবে কি থাকবে নাÑ এ ফয়সালা হয় বদরের রণাঙ্গনে ঐতিহাসিক এক যুদ্ধের মাধ্যমে। রমজান মাসের ১৭ তারিখে সেই যুদ্ধ অনুষ্ঠিত হয়, যা ইসলামের ইতিহাসে প্রথম সম্মুখসমর হিসেবে স্বীকৃত। এজন্যই মানবসভ্যতার ইতিহাসে এই দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে বদর দিবসকে ‘ইয়াওমুল ফুরকান’ তথা সত্য-মিথ্যার প্রভেদকারী দিবস হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। 

ইতিহাস সাক্ষী, নবী কারিম (সা.) যুদ্ধপ্রবণ মানুষ ছিলেন না। কিন্তু তৎকালীন অমুসলিম শক্তির নানামুখী ষড়যন্ত্র, নির্যাতন আর ইসলামকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করে দেওয়ার অপপ্রয়াসের মোকাবিলায় রাসুলে কারিম (সা.)-এর হাতে যুদ্ধ ব্যতীত আর কোনো বিকল্প ছিল না। 

৬২২ খ্রিস্টাব্দে নবী কারিম (সা.) মদিনায় হিজরত করেন। হিজরতের ১ বছর ৬ মাস ২৭ দিনের মাথায় মদিনা থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৮০ মাইল দূরত্বে অনুষ্ঠিত হয় বদরের যুদ্ধ; দিনটি ছিল দ্বিতীয় হিজরির ১৭ রমজান শুক্রবার। পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণে দেখা যায়, মুসলিম বাহিনীর চেয়ে অমুসলিম বাহিনীর সৈন্য সংখ্যা ছিল প্রায় তিনগুণ; অমুসলিমদের অন্যান্য রসদ ও উপকরণ ছিল আরও বেশি। অমুসলিম সৈন্য সংখ্যা ছিল এক হাজারেরও অধিক, সঙ্গে ছিল ১০০ ঘোড়া, শতাধিক উট, ছয় শতাধিক লৌহবর্মসহ অন্যান্য যুদ্ধাস্ত্র। পক্ষান্তরে মুসলিম বাহিনীর সংখ্যা ছিল মাত্র ৩১৩ জন, সঙ্গে যুক্ত ছিল ৭০টি উট ও মাত্র দুটি ঘোড়া; কিন্তু মুসলমানদের ছিল বিশ্বমানবতার সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও রাসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নেতৃত্ব এবং মহান আল্লাহর সাহায্য। এই অসম যুদ্ধে কল্পনাতীত পরাজয় বরণ করে মহাসত্য অস্বীকারকারী কুফর প্রতিপক্ষ এবং অবিশ্বাস্য বিজয় লাভ করেন একাত্মবাদের পতাকাবাহী আল্লাহপাকের অনুগত মজলুম বান্দারা।

নবী কারিম (সা.) ও মহান আল্লাহর জন্য জীবন উৎসর্গকারী কিছু মানুষের বিশ্বাস, কর্তব্যনিষ্ঠা ও প্রতিশ্রুতির বিস্ময়কর মঞ্চায়ন ঘটেছিল বদরের যুদ্ধে। বদর যুদ্ধের পর শুধু মক্কা-মদিনায় নয় বরং সমগ্র আরব উপদ্বীপে ইসলাম এক নতুন শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটে এবং মুসলমানদের ভাবমূর্তিও উজ্জ্বলতর হয়, যা থেকে পরবর্তীতে তারা অধিকতর উদ্দীপনা ও অনুপ্রেরণামূলক অফুরান শক্তি লাভ করেন। মহান আল্লাহ ভবিষ্যতের জন্য তাওহিদবাদীদের এ যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে সূরা আলে ইমরানে সুসংবাদ দেন যে, ‘বরং তোমরা যদি সবর এখতিয়ার কর, মহান আল্লাহকে ভয় করার নীতি অবলম্বন করে চলো, তবে বিপক্ষ শক্তি তোমাদের ওপর দ্রুত হামলা করলেও আল্লাহতায়ালা তোমাদের ৫ হাজার ফেরেশতার এক সুবিন্যস্ত বাহিনী দ্বারা সহযোগিতা করবেন।’

যুদ্ধ শেষে বিজয়ীর বেশে মুসলিম বাহিনী তিন দিনের মাথায় মদিনায় প্রত্যাবর্তন করেন। যুদ্ধবন্দিদের সঙ্গে নবী কারিম (সা.) যে সদ্ব্যবহার ও সুন্দর আচরণ করেছিলেন তা মানবেতিহাসের এক অনবদ্য নজির হয়ে আছে। 

স্বল্পসংখ্যক প্রত্যয়ী, বিশ্বাসী ও আত্মনিবেদিত মানুষ যে বিশাল শত্রুপক্ষের মোকাবিলায় বিজয় লাভে সক্ষম হতে পারে, ঐতিহাসিক বদরের যুদ্ধ তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ইসলাম বদরের সিঁড়ি বেয়ে এভাবেই মহান আল্লাহর রহমত ও মদদে অত্যন্ত দ্রুতবেগে সম্মুখপানে এগিয়ে চলেছিল এবং পরিণত হয়েছিল জগতের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল এক জীবনবিধানরূপে। 

এ প্রসঙ্গে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আল্লাহর সাহায্য ও তোমাদের বিজয় অত্যাসন্ন, অতি নিকটে।’ ইতিহাস সাক্ষী, স্বল্পকালের ব্যবধানেই মহান রবের এ ঘোষণার পরিপূর্ণ সফল বাস্তবায়ন জগদ্বাসী প্রত্যক্ষ করেছিল, যা ইতিহাসের পাতায় লেখা রয়েছে স্বর্ণাক্ষরে। 

এই যুদ্ধ মুসলিম সম্প্রদায়ের আত্মবিশ্বাস ও ঐক্যকে শক্তিশালী করে। এটি ইসলামের প্রসার ও মদিনার মুসলিম রাষ্ট্রের ভিত্তি মজবুত করে। বদর যুদ্ধ শুধু একটি যুদ্ধ নয়, এটি ছিল ইতিহাসের এক বাঁক বদলকারী ঘটনা, যা বিশ্ব ইতিহাসে ইসলামের অবস্থানকে চিরস্থায়ী করে দিয়েছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা