মুফতি মাহফুজ আবেদ
প্রকাশ : ০৬ মার্চ ২০২৬ ০৯:২২ এএম
পবিত্র রোজা পালনের সুবিধা হলোÑ রোজাদার বৈধ অনেক কিছু বর্জনের অভ্যাসে যখন অভ্যস্ত হন, তখন হারাম কাজ ও অভ্যাস বর্জন তার জন্য অনেক সহজ হয়ে যায়। রোজাদার যেহেতু দিনে উপবাস থাকেন, তাই রমজান হচ্ছেÑ মন্দ অভ্যাস চিরতরে দূর করার উপযুক্ত সময়। রমজানের সময় ধূমপান ও চিনিযুক্ত খাবার ভোজনের মতো মন্দ অভ্যাসগুলোকে প্রশ্রয় দেওয়া উচিত নয় এবং এসব থেকে বিরত থাকলে মানুষের শরীর ধীরে ধীরে এদের অনুপস্থিতি মেনে নিতে সক্ষম হবে ও একসময় এসবের আসক্তি চিরতরে দূর হয়ে যাবে।
রমজান মাস শুধু মন্দ অভ্যাস দূর করার সময় নয়, ভালো অভ্যাস আয়ত্ত করারও মৌসুম। রোজার মাসে তো বটেই, বছরজুড়ে এই অভ্যাসগুলো থাকা ভালো। ওইসব অভ্যাস হতে পারেÑ প্রতিদিন কুরআন মাজিদ তেলাওয়াত করা, জিকির-আজকার করা, নফল ইবাদতে অভ্যস্ত হওয়া। আলেমরা বলেন, রমজান মাসজুড়ে অল্প অল্প করে কুরআন তেলাওয়াত করতে হবে। যদি নিয়ত থাকে খতম দেওয়ার, তাহলে প্রতি ওয়াক্তে পাঁচ পৃষ্ঠা করে পড়া যায়। তাহলে প্রতিদিন ২৫ পৃষ্ঠা এবং মাস শেষ হওয়ার আগেই একটি খতম হয়ে যাবে।
এ মাসে সুন্নত ও নফল নামাজের প্রতি যত্নবান হওয়া কর্তব্য। প্রতি ওয়াক্ত ফরজ নামাজের আগে বা পরের বেশ কিছু সুন্নত নামাজ রয়েছে। সারা বছর বিভিন্ন ব্যস্ততা বা অলসতার কারণে নিয়মিত এগুলো করা হয় না। সেগুলো আদায়ের অভ্যাস করা।
ইবাদতের মৌসুম এই রমজানে নামাজ শেষে জিকির-আজকার করা। ফরজ নামাজ শেষে কিছু দোয়া ও জিকির আছে। জিন শয়তান থেকে নিরাপত্তা, কাজে ও কর্মে, রিজিকে বরকত লাভ ইত্যাদি ক্ষেত্রে এই আমলগুলো বেশ কার্যকর। প্রতি ওয়াক্তে সর্বোচ্চ ১০ মিনিট লাগে এগুলো করতে। এগুলো নিয়মিত করা যেতে পারে। সেই সঙ্গে সকাল-সন্ধ্যার জিকিরগুলো করা। আল্লাহর রাসুল (সা.) সকাল-সন্ধ্যার কিছু জিকির শিখিয়ে গেছেন, যেগুলো অনেক ফজিলতপূর্ণ। রোজার মাসে এগুলো অভ্যাসে পরিণত করা যায়।
মনে রাখতে হবে, আখিরাত ও বিচার দিবসের প্রতি সুনিশ্চিত বিশ্বাস মানুষকে সদাসচেতন এবং সব ধরনের পাপাচার থেকে দূরে রাখার জন্য যথেষ্ট। পবিত্র কুরআনে বার বার এই দিনটির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন মহান আল্লাহ। আর আল্লাহর স্মরণ মানুষকে যাবতীয় অন্যায়-অনাচার থেকে দূরে রাখে। আল্লাহকে ভালোভাবে চিনলে ও জানলে মানুষ আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করবে। আর আল্লাহকে চেনা ও জানার ভালো উপায় হলো, নিজেকে আমলের মাঝে ডুবিয়ে রাখা।
সূরা আনফালের দ্বিতীয় আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা ঈমানদার, তারা এমন যে, যখন আল্লাহর নাম নেওয়া হয় তখন ভীত হয়ে পড়ে তাদের অন্তর। আর যখন তাদের সামনে পাঠ করা হয় কালাম, তখন তাদের ঈমান বেড়ে যায় এবং তারা নিজ পরওয়ারদেগারের প্রতি ভরসা পোষণ করে।’ এই আয়াতের আলোকে ভেবে দেখা উচিত, সারা দিনে আল্লাহর নাম আমরা যতবার শুনি ততবার বা একবারও কি আমাদের মন কেঁপে ওঠে? আসলে আল্লাহকে ভালোভাবে চিনি না ও জানি না বলেই আমাদের এই অবস্থা!
মহান আল্লাহ যেন আমাদেরকে সব সময় তার প্রতি সচেতন হওয়ার তথা মুত্তাকি হওয়ার তওফিক দান করেন। আমিন।