মাগফিরাতের চতুর্থ দিন আজ
মুফতি মাহফুজ আবেদ
প্রকাশ : ০৪ মার্চ ২০২৬ ১২:২৬ পিএম
পবিত্র রমজান মাসে মানুষকে কল্যাণ ও তাকওয়ার পথে সহায়তার একটি অংশ হলোÑ অভাবিদের প্রতি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া, তাদের আর্থিক অনুদান দেওয়া। ছবি: সংগৃহীত
মানুষ মানুষকে নানাভাবে সহায়তা করতে পারে। পবিত্র রমজান মাসে মানুষকে কল্যাণ ও তাকওয়ার পথে সহায়তার একটি অংশ হলোÑ অভাবিদের প্রতি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া, তাদের আর্থিক অনুদান দেওয়া। এ অনুদান মানুষকে শ্রমসাধ্য ও ভারী কাজ কমিয়ে আনতে সহায়তা করে। ফলে মানুষ সহজে রোজা রাখতে পারে। রাতের তারাবি অনায়াসে আদায় করতে পারে। আর্থিক সহায়তাপ্রাপ্ত মানুষটি নিবিষ্ট মনে আল্লাহর দিকে মনোনিবেশ করতে পারে।
নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন দানের বেলায় উপমাহীন। তিনি মানুষকে দান করতেন দারিদ্র্যের ভয় না করে। একবার একজনকে দান করেছিলেন মাঠভর্তি ছাগল। এত বড় অনুদান পেয়ে লোকটি নিজ গোত্রের কাছে ফিরে বলেছিলেন, তোমরা মুহাম্মদের দ্বীনের ওপর ঈমান আনো। তিনি এমনভাবে দান করেন, যেন দারিদ্র্যকে ভয় পান না। -সহিহ মুসলিম : ২৩১২
তিনি দানকে মনে করতেন স্থায়ী সম্পদ। একদিন ঘরে বকরি জবাই হলো। নবী কারিম (সা.) জিজ্ঞেস করলেন, কতটুকু বাকি আছে? ঘর থেকে বলা হল, কাঁধের অংশটাই শুধু আছে। বাকিটা দান করা হয়ে গেছে। নবী কারিম (সা.) বললেন, না বরং কাঁধের অংশ ছাড়া বাকিটা রয়ে গেছে। -জামে তিরমিজি : ২৪৭০
এমনই ছিল নবী কারিম (সা.)-এর দানের হাত। রমজান মাসে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দানের সীমা-পরিসীমা থাকত না। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) ওই দানের বিবরণ দিতে গিয়ে বলেন, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দানশীল। তিনি রমজান মাসে সবচেয়ে বেশি দান করতেন যখন হজরত জিবরাইল (আ.)-এর সঙ্গে দেখা হতো। হজরত জিবরাইল (আ.)-এর সঙ্গে দেখা হলে তিনি হয়ে উঠতেন মুক্ত বাতাসের চেয়েও দানশীল। -সহিহ বোখারি : ৬
ইমাম আহমাদ (রহ.) মুসনাদে আহমাদে বর্ণনা করেন, কেউ চাইলে তিনি না করতেন না। ইবনে উমর (রা.) বলেছেন, আমি হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মতো বড় দানশীল ও সম্ভ্রান্ত কাউকে দেখিনি।
এমন ছিল আমাদের নবীজির দানশীলতা। এভাবেই তিনি দান করতেন রমজান মাসে। ইবনে রজব হাম্বলি (রহ.) রমজান মাসে দানের অনেক ফায়দা লিখেছেন। তার মধ্যে একটি হলো, “রোজা রাখতে গিয়ে আমাদের কোনো না কোনো ত্রুটিবিচ্যুতি হয়েই যায়। রোজার মাধ্যমে গোনাহ মাফ হতে হলে রোজাও সেসব ভুলত্রুটি থেকে মুক্ত হতে হবে, যা থেকে মুক্ত হওয়া দরকার। দান-সদকা সেসব ত্রুটিবিচ্যুতির ক্ষতিপূরণ করে। এজন্যই রোজার শেষে ফিতরা ওয়াজিব করা হয়েছেÑ রোজাদারকে অহেতুক ও অশ্লীল কাজের গোনাহ থেকে মুক্ত করার জন্য।” -লাতাইফুল মাআরিফ : ২৩২
আমাদের সমাজের অনেক মানুষ কষ্টসাধ্য কাজের কারণে রোজা রাখতে পারে না। আমাদের একটু উদারহস্তের দ্বারা এ মানুষগুলো বরকতময় মাসের বরকত লাভ করতে পারে। খোদার নাফরমানি থেকে বেঁচে যেতে পারে। অনেক মানুষই অর্থের অভাবে সেহরি-ইফতারে ভালো খাবারের ব্যবস্থা করতে পারে না। আমার মনোযোগ তাদের সেহরি-ইফতার সহজ ও স্বাস্থ্যকর করে তুলতে পারে। এভাবে আমরা খেয়াল করলে রমজানের বরকত সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে ছুঁয়ে যাবে। সহমর্মিতার মাসে সত্যিকার অর্থে সহমর্মী সমাজ গড়ে উঠবে।
রমজানের মতো মহিমাময় মাসে, রমজানের স্নিগ্ধ দিনগুলোতে, প্রশান্ত রাতগুলোতে আমরা যেন আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের আরও কাছাকাছি যেতে পারি। দান-সদকা ও মানবসেবার মাধ্যমে আশপাশের মানুষের রমজানগুলোকে যেন আরও সুন্দর করে তুলতে পারি। আল্লাহতায়ালা আমাদের তওফিক দান করুন।
মুফতি মাহফুজ আবেদ