মুফতি মাহফুজ আবেদ
প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:৪৪ এএম
আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:১৫ এএম
নতুন সরকারের যাত্রার দ্বিতীয় দিনে শুরু হলো খোদায়ি রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের অশেষ বারিধারায় অবগাহনের পবিত্র রমজান মাস। আত্মশুদ্ধি ও ত্যাগ-তিতিক্ষার মহিমায় ভাস্বর এ মাসে মুমিন-মুসলমানরা আল্লাহর বিশেষ মেহমান। নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘রমজান মাসের প্রথম রাতে শয়তান ও দুষ্ট জিনদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করা হয় এবং (পুরো রমজান) এর একটি দরজাও আর খোলা হয় না, জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং (রমজানে) এর একটি দরজাও আর বন্ধ করা হয় না। (এ মাসে) একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা দিতে থাকেন, হে কল্যাণ অন্বেষী! অগ্রসর হও। হে অকল্যাণ অন্বেষী! নিবৃত্ত হও, নিয়ন্ত্রিত হও। আর বহু লোককে আল্লাহতায়ালার পক্ষ হতে এ মাসে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করে দেওয়া হয়। প্রত্যেক রাতেই এরূপ হতে থাকে।’ -জামে তিরমিজি : ৬৮২
রমজান মাসের ফজিলত প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, এ মাস আল্লাহর মাস। এ মাস
বরকত, রহমত (অনুগ্রহ) ও ক্ষমার মাস। এ মাস আল্লাহর কাছে শ্রেষ্ঠ মাস। এ মাসের দিনগুলো
সবচেয়ে সেরা দিন, এর রাতগুলো শ্রেষ্ঠ রাত এবং এর ঘণ্টাগুলো শ্রেষ্ঠ ঘণ্টা। এ মাস এমন
এক মাস, যে মাসে মুমিন-মুসলমানরা আমন্ত্রিত হয়েছেন আল্লাহর মেহমান হতে তথা রোজা রাখতে
ও প্রার্থনা করতে।
আমাদের উচিত, এ মাসে ইবাদত-বন্দেগি বেশি বেশি করা। সৎকাজ এবং প্রার্থনার
পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া। মহান আল্লাহর কাছে আন্তরিক হৃদয়ে ও যাবতীয় পাপ আর কলুষতা হতে
মুক্ত, পবিত্র চিত্তে প্রার্থনা করা, সেই সঙ্গে আল্লাহর কাছে রোজা রাখার এবং পবিত্র
কুরআন তেলাওয়াতের তওফিক কামনা করা। নিঃসন্দেহে ওই ব্যক্তি প্রকৃত দুর্ভাগা, যে রমজান
মাস পেয়েও মহান আল্লাহর ক্ষমা থেকে বঞ্চিত হয়।
ইসলামী চিন্তাবিদরা বলেন, রমজান মাসের প্রতিটি মুহূর্ত ভালো ও নেকের
কাজে কাটানো উত্তম। এ মাসে রাস্তাঘাটে বয়স্ক ও বৃদ্ধদের সম্মান করা, শিশু ও ছোটদের
আদর করা, রক্তের সম্পর্কের আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সম্পর্ক ও যোগাযোগ রক্ষা করা, জিহ্বাকে
যাবতীয় অন্যায্য কথা বলা থেকে সংযত রাখা, নিষিদ্ধ দৃশ্য দেখা থেকে চোখকে আবৃত রাখা,
যেসব কথা শোনা ঠিক নয় সেসব শোনা থেকে কানকে নিবৃত্ত রাখা, এতিমদের দয়া করা, গোনাহের
জন্যে অনুতপ্ত হয়ে বেশি বেশি তওবা করা।
রমজানের রমজ শব্দটির অর্থ হলো দহন। মানবজীবনে অনিয়ন্ত্রিত যৌনাচার,
বদমেজাজ, পেটুকতা, হিংসা, লোভ, কার্পণ্য ও অলসতার মতো কুপ্রবৃত্তিগুলোর বিনাশ বা দহন
জরুরি। আর রোজা বা সওমের অর্থ হলো যাবতীয় কদাচার থেকে বিরত থাকার সংযম সাধনা।
পবিত্র কুরআনে সূরা বাকারার ১৮৩ নম্বর আয়াতে রোজা সম্পর্কে বলা হয়েছে,
‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী
লোকদের ওপর, যেন তোমরা খোদাভীতি বা তাকওয়া অর্জন করতে পার।’
সেই কাঙ্ক্ষিত রমজান মাস শুরু হয়েছে। খোদায়ি নুরের দরিয়ায় সিনান করার
এ মাস পেয়ে আল্লাহর দরবারে জানাই অশেষ শুকরিয়া ও বিশ্বের সব মুসলমানের প্রতি আন্তরিক
মোবারকবাদ। সবাইকে রমজানের শুভেচ্ছা, আল্লাহতায়ালা সবার রোজা ও ইবাদতগুলোকে কবুল করুন।
আমিন।