ইউএনবি
প্রকাশ : ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৫:৪৩ পিএম
ছবি : ইউএনবি
আজ ২৫ ডিসেম্বর, ‘শুভ বড়দিন’। খ্রিষ্টধর্মের প্রবর্তক যিশু খ্রিষ্টের জন্মদিন উপলক্ষে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, আনন্দ-উৎসব ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপিত হচ্ছে।
বড়দিন উপলক্ষে আজ সোমবার সারাদেশে সরকারি ছুটি। খ্রিষ্টান ধর্মানুসারীরা সকাল থেকেই গির্জায় বিশেষ প্রার্থনায় অংশ নিচ্ছেন এবং পরিবার ও প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করছেন। এ উপলক্ষে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের গির্জাগুলো আলোকসজ্জা, ফুল, ব্যানার ও ধর্মীয় প্রতীকে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যা থেকেই অনেক গির্জা ও স্থাপনায় আলোর ঝলকানি বড়দিনের আনন্দকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।
খ্রিষ্টান পরিবারগুলোতেও বড়দিনকে ঘিরে রয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি। ঘরে ঘরে তৈরি হচ্ছে কেক ও ঐতিহ্যবাহী খাবার। পরিবারের সদস্যদের একত্রে সময় কাটানো, খাওয়াদাওয়া ও আনন্দ উপভোগ বড়দিনের অন্যতম অনুষঙ্গ। অনেক এলাকায় ধর্মীয় সংগীত ও প্রার্থনাসভা আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে অংশ নিচ্ছেন খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষ।
ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে বড়দিনের আমেজ চোখে পড়ছে। ক্রিসমাস ট্রি, শান্তা ক্লজ ও আলোকসজ্জায় সেজেছে বিভিন্ন ভবন ও স্থাপনা। সোমবার সকালে বিভিন্ন গির্জায় বড়দিনের প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেখানে শান্তি, সৌহার্দ্য ও মানবকল্যাণ কামনা করা হয়।
খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, যিশু খ্রিষ্ট মানবজাতিকে সত্য ও ন্যায়ের পথে পরিচালিত করতে এবং শান্তি স্থাপনে পৃথিবীতে এসেছিলেন। তাঁর শিক্ষা—মানবপ্রেম, ক্ষমা ও সহনশীলতা আজও প্রাসঙ্গিক।
বড়দিন উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস পৃথক বাণী দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, ‘বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ, যেখানে সকল ধর্মের মানুষ স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করে। তিনি এই সৌহার্দ্য আরও দৃঢ় করে দেশ গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।’
প্রধান উপদেষ্টা তার বাণীতে যিশুখ্রিষ্টকে মানবজাতির মুক্তির দূত ও আলোর দিশারি হিসেবে অবহিত করে বলেন, ‘যিশু শান্তি, সত্য ও ন্যায়ের বাণী প্রচার করে গেছেন। তিনি খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীদের দেশপ্রেম ও মানবতার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।’
আর্চবিশপ বিজয় এন ডি’ক্রুজ যিশু খ্রিষ্টকে একজন সর্বজনীন ব্যক্তিত্ব হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ‘ক্ষমা ও মানবতার সেবায় খ্রিষ্টের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের লাখো মানুষ আনন্দ ও উৎসাহের সঙ্গে বড়দিন উদযাপন করছে।’