তারিকুল ইসলাম
প্রকাশ : ০৪ অক্টোবর ২০২৪ ১৬:৪৩ পিএম
ঢাকার আরমানিটোলায় আবুল খয়রাত সড়কে অবস্থিত তারা মসজিদ। জানা যায়, আঠারো শতকে ঢাকার ‘মহল্লা আলে আবু সাইয়িদ’-এ (পরে যার নাম হয় আরমানিটোলা) আসেন জমিদার মির্জা গোলাম পীর (মির্জা আহমদ জান)। তার নির্মিত মসজিদটি মির্জা সাহেবের মসজিদ হিসেবে বেশ পরিচিতি পায়। পরে ১৯২৬ সালে ঢাকার তৎকালীন ব্যবসায়ী আলী জান বেপারী মসজিদটির সংস্কার করেন। সংস্কারের সময় গম্বুজগুলোয় অসংখ্য তারা ফুটিয়ে তোলা হয়। সেই থেকে লোকমুখে এটি ‘তারা মসজিদ’ হিসেবে পরিচিতি পায়। আঠারো শতকের প্রথম দিকে নির্মিত এ মসজিদের গায়ে নির্মাণ-তারিখ খোদাই ছিল না। মসজিদ নির্মাণে রয়েছে মুঘল স্থাপত্যশৈলীর প্রভাব। মির্জা গোলাম পীরের সময় মসজিদটি ছিল তিন গম্বুজওয়ালা, দৈর্ঘ্যে ৩৩ ফুট আর প্রস্থে ১২ ফুট। আলী জানের সংস্কারের সময় মসজিদের পুবদিকে একটি বারান্দা বাড়ানো হয়। ১৯৮৭ সালে তিন গম্বুজ থেকে পাঁচ গম্বুজ করা হয়। পুরোনো একটি মেহরাব ভেঙে দুটি গম্বুজ আর তিনটি নতুন মেহরাব বানানো হয়। মসজিদের বর্তমান দৈর্ঘ্য ৭০ ফুট, প্রস্থ ২৬ ফুট।
দুর্লভ প্রাচীন টাইলস, রঙবেরঙের কাচের টুকরো, চীনামাটির ফলকসহ হরেকরকমের উপকরণ দিয়ে সুনিপুণভাবে মসজিদটির ভেতর-বাইরের সর্বাঙ্গ অলংকৃত করে তোলা। নকশা করা এ পদ্ধতির নাম ‘চিনি টিকরি’। বিশেষ করে ভেতরে বাতি জ্বালালে দেয়ালে রঙিন কাচের টুকরো কেটে বসানো চিনি টিকরির নকশা এমন বর্ণিল হয়ে ওঠে যে, প্রথম দর্শনে চোখ ধাঁধিয়ে যায়। দূরদূরান্ত থেকে মুসল্লিরা এখানে নামাজ আদায় করতে আসেন। পর্যটকরাও দর্শনীয় স্থান হিসেবে ঢাকার প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী এ মসজিদ দেখতে আসেন।