প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০২৪ ১৬:২৫ পিএম
আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২৪ ১৬:৩৮ পিএম
দেশের ইমাম, খতিব, মোয়াজ্জিন এবং খাদেমরাই সবচেয়ে বেশি বৈষম্যের শিকার। কথায় কথায় মসজিদ কমিটি তাদের হুমকি ও চাকরিচ্যুত করে থাকে। এসব বন্ধ করতে হবে। তা ছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সমর্থন ও তাদের জন্য দোয়া করায় যাদেরকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে তাদেরকে পুনর্বহাল করতে হবে।
মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) সকালে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে শানে সাহাবা জাতীয় খতিব ফাউন্ডেশনের এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়।
এ সময় সংগঠনের চেয়ারম্যান মুফতি শামীম মজুমদার, মহাসচিব মুফতি শরিফুল্লাহ তারেকী, মাওলানা আতিকুল্লাহ বিন রফিক, মুফতি রুহুল আমিন, মুফতি অহিদুজ্জামান বদর, মুফতি ইসহাক মাহমুদ রফিকী, মাওলানা ফয়েজ মাহমুদ ও মুফতি রফিকুল ইসলাম সরদার উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য রাখেন মুফতি শামীম মজুমদার। এ সময় তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে ১১ দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহিদদের জন্য দোয়া করায় যেসব ইমাম ও খতিবদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, তাদেরকে চাকরিতে পুনর্বহাল করতে হবে। ইমাম, খতিব, মোয়াজ্জিন এবং খাদেমদের ন্যায্য বেতনভাতা ও দুই ঈদে বোনাস দিতে হবে। ইমাম নিয়োগে সমাজের প্রভাবশালীদের আধিপত্য থেকে বের হয়ে বিজ্ঞ আলেমদের পরামর্শ ও মুসল্লিদের সমর্থন নিশ্চিত করতে হবে। তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে হঠাৎ করে চাকরি থেকে অব্যাহতি, বহিষ্কার কিংবা চাকরিচ্যুত বন্ধ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কমপক্ষে চার মাস আগে জানাতে হবে।
স্বাধীনভাবে কুরআন ও সুন্নাহভিত্তিক খুতবা দেওয়ার অধিকার দিতে হবে উল্লেখ করে মুফতি শামীম বলেন, মসজিদে ইমাম-খতিবকে স্বাধীনভাবে কুরআন ও সুন্নাহভিত্তিক খুতবা ও হক কথা বলতে দিতে হবে। এক্ষেত্রে কমিটির বলপ্রয়োগ, ওজর ও আপত্তি বন্ধ করতে হবে। একইসঙ্গে তাদেরকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা বন্ধ করতে হবে।
তিনি বলেন, চিহ্নিত সন্ত্রাসী, মাদককারবারি, খুনি, ফৌজদারী মামলার আসামি, সুদখোর, ঘুষখোরসহ বেনামাজি ব্যক্তিকে মসজিদ কমিটির দায়িত্বশীল হিসেবে অযোগ্য ও নিষিদ্ধ করতে হবে। দেশের সব মসজিদের আয়-ব্যয়ের হিসাব ও জবাবদিহিতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিশ্চিত করতে হবে। যেসব মসজিদের কমিটি অর্থ আত্মসাৎ করেছে তা উদ্ধার করে মসজিদের উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে। একইসঙ্গে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বাংলাদেশের সুনাম ও সুখ্যাতি রক্ষায় জাতীয় ও সামাজিক পর্যায়ে বার্ষিক ধর্মীয় সম্প্রীতি সভার আয়োজনে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন একটি দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান। তাদের সর্বধর্মীয় সম্প্রীতি সম্মেলেনে উল্লেখযোগ্য মসজিদের ইমাম-খতিবদের অন্তর্ভুক্ত করে না। আমরা চাই এখন থেকে সর্বস্তরের ইমামদের সেখানে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
মুফতি বলেন, খতিবরা জুমার খুতবায় হক কথা বললে তাদেরকে আসরের নামাজে ইমামতি পর্যন্ত করতে দেওয়া হয় না, বরং চাকরিচ্যুত করা হয়। সেই খতিবের স্থলে দালাল আলেম নিয়ে আসা হয়।
খতিবদের বক্তব্য শুধুই আখেরাত কেন্দ্রিক; সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারে তাদের অংশগ্রহণ নেই কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমানে তরুণ খতিবরা সমসাময়িক বিষয়ে খুতবা দিচ্ছেন। তারা এখন শুধু আখেরাত নিয়ে নয় বরং দুনিয়া ও আখেরাত নিয়ে খুতবা দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলেমরা বেশি স্বক্রিয়।
সবশেষ তিনি বলেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নিহত শহিদদের তালিকা করার কার্যক্রমও হাতে নেওয়া হবে।