প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৪ জুন ২০২৪ ১০:২৩ এএম
আপডেট : ১৪ জুন ২০২৪ ১০:৪৯ এএম
ছবি : সংগৃহীত
সৌদি আরবের মক্কা নগরীতে পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে আজ। হজ পালন করতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইতোমধ্যে সৌদি আরবের মিনায় পৌঁছে গেছে। বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যার পর থেকে রাতভর কেউ হেঁটে, কেউ বাহনে চড়ে সেখানে জড়ো হয়েছে। ‘লাব্বাইক, আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে আজ মুখরিত হবে তাঁবুর শহর খ্যাত মিনার প্রান্তর।
আরবি বর্ষপঞ্জিকার শেষ মাস জিলহজের ৮ তারিখ শুরু হয় হজ। এরপর ৯ জিলহজে হয় আরাফাতের দিন। আর ১০ জিলহজে পশু কোরবানি করে হাজিরা। হিজরি সন ১৪৪৫-এর জিলহজ মাসের ৮ তারিখ (সৌদি আরবের তারিখ অনুযায়ী) আজ। ১০ জিলহজ কোরবানি শেষে আরও দুই দিন থাকে হজের বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা। অর্থাৎ হজ সম্পন্ন করতে সব মিলিয়ে লাগে পাঁচ দিন।
বিশ্বের প্রায় ২০ লাখ মানুষ এবার হজে অংশ নিয়েছে। বাংলাদেশ থেকে হজে গেছে ৮২ হাজার ৭৭২ জন। হজের প্রথম দিন পুরুষ হাজিরা সেলাই ছাড়া ইহরাম বা সাদা কাপড় পরে। নারী হাজিরা ঢিলেঢালা পোশাক পরে। এদিন আরও কিছু নিয়মনীতি মানতে হয়। যেমন কারও সঙ্গে রাগারাগি না করা এবং যৌনসম্পর্কে লিপ্ত না হওয়া।
ইহরাম বাঁধার পর দলে দলে হাজিরা মিনায় যায়। বেশিরভাগ মানুষ বাসে ও গাড়িতে গেলেও কেউ কেউ হেঁটেও মিনায় যায়। এটি ৮ কিলোমিটারের একটি পথ। হজের অংশ হিসেবে ৮ জিলহজ মিনায় সারা দিন থাকবে হাজিরা। ৯ জিলহজ আরাফাতের ময়দানে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করবে। সন্ধ্যার পর মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হবে। সেখানে রাতযাপন ও পাথর সংগ্রহ করবে।
১০ জিলহজ ফজরের নামাজ আদায় করে মুজদালিফা থেকে আবার মিনায় ফিরে আসবে। এরপর বড় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ, কোরবানি ও মাথা মুণ্ডন বা চুল ছেঁটে স্বাভাবিক পোশাকে মক্কায় কাবা শরিফ তাওয়াফ করবে। তাওয়াফ, সাই শেষে মিনায় ফিরে গিয়ে ১১ ও ১২ জিলহজ অবস্থান এবং প্রতিদিন তিনটি শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করবে। শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের সময় যাতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে সেজন্য সৌদি হজ কর্তৃপক্ষ প্রতিবারের মতো বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
গতবারের মতো এবারও প্রচণ্ড গরমের ভোগান্তি সঙ্গী হচ্ছে হজযাত্রীদের। হজের সময় তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসেও পৌঁছাতে পারে বলে হজযাত্রীদের সতর্ক করেছে মক্কার আবহাওয়া দপ্তর। বলা হয়েছে, এ বছর হজযাত্রীরা কয়েকটি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে। এর মধ্যে তাপমাত্রার উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি অন্যতম।