প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০২৬ ১৮:৪৩ পিএম
ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতা, সাহিত্যিক ও পেশাদার অ্যাকাউন্ট্যান্ট আবু তাহের। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
সমাজসেবা ও দাতব্য কার্যক্রমে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ব্রিটিশ রাজকীয় সম্মাননা ‘এমবিই’ পাচ্ছেন বিশিষ্ট ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতা, সাহিত্যিক ও পেশাদার অ্যাকাউন্ট্যান্ট আবু তাহের। আগামী ১৩ মে সোমবার উইন্ডসর ক্যাসেলে এক রাজকীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রাজা তৃতীয় চার্লস তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পদক প্রদান করবেন। ইতিমধ্যে রাজার পক্ষ থেকে তার নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
আবু তাহেরের পৈতৃক বাড়ি সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলার চন্দরপুর গ্রামে। তিনি মরহুম মক্তার আলী ও মরহুমা মাছুমা খাতুনের সন্তান। ১৯৮৭ সালে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমানোর পর তিনি একজন সফল পেশাদার অ্যাকাউন্ট্যান্ট হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ১৯৯৯ সালে পূর্ব লন্ডনে তিনি ‘মাহি অ্যান্ড কোং সার্টিফাইড প্র্যাকটিসিং অ্যাকাউন্ট্যান্টস’ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ইনস্টিটিউট অব সার্টিফাইড প্র্যাকটিসিং অ্যাকাউন্ট্যান্টস-এর একজন ফেলো সদস্য। পেশাগত সাফল্যের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও ব্যবসায়িক সংগঠনকে নিয়মিত আর্থিক ও আইনি পরামর্শ দিয়ে আসছেন।
ছাত্রজীবন থেকেই সাহিত্যের প্রতি অনুরাগী আবু তাহেরের সৃজনশীলতায় প্রবাস জীবন, মানবতা ও সমাজ সচেতনতা ফুটে ওঠে। ছড়া, কবিতা, প্রবন্ধ ও নাটক মিলিয়ে তার প্রকাশিত গ্রন্থ ও নাটকের সংখ্যা ১০টিরও বেশি। বিলেতে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যচর্চাকে বেগবান করতে ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘সংহতি সাহিত্য পরিষদ’-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা তিনি। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সভাপতির দায়িত্ব পালন করা আবু তাহের নতুন প্রজন্মের ব্রিটিশ-বাংলাদেশিদের মাঝে বাংলা সাহিত্য পৌঁছে দিতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।
দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে আবু তাহের বহুমুখী মানবিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তিনি ‘ভিশন কেয়ার ফাউন্ডেশন’-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, যার মাধ্যমে বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে বিনামূল্যে চক্ষুসেবা প্রদান করা হয়। ‘মাছুমা মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’-এর মাধ্যমে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সহায়তা এবং ‘টি-ফাইভ টেইলরিং ট্রেনিং সেন্টার’-এর মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত নারীদের স্বাবলম্বী করার পেছনেও রয়েছে তার অগ্রণী ভূমিকা।
শিক্ষা ক্ষেত্রে তার অবদানের তালিকায় রয়েছে সিলেটের আল ইমদাদ ডিগ্রি কলেজের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং ইংরেজি মাধ্যমের ‘ব্রিজ অ্যাকাডেমি’র প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালকের ভূমিকা। এ ছাড়া বাংলাদেশে বৃদ্ধ ও অসহায় মানুষের জন্য ‘হ্যাভেন কেয়ার হোম’ নামে একটি সুরক্ষিত আশ্রয়কেন্দ্র গড়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
এই সম্মাননা প্রাপ্তি প্রসঙ্গে আবু তাহের বলেন, “সবসময়ই আমার কাজের মূল লক্ষ্য ছিল - মানুষের কল্যাণ, সংস্কৃতির বিকাশ এবং প্রজন্মের মধ্যে মূল্যবোধের সেতুবন্ধন তৈরি করা। আমি বিশ্বাস করি, সফলতা শুধু ব্যক্তিগত অর্জনে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা সমাজের কল্যাণে কাজে লাগানোই প্রকৃত সার্থকতা”।
ব্যক্তিগত জীবনে আবু তাহেরের স্ত্রী মিতা তাহের বিলেতের সুপরিচিত কণ্ঠশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক। দুই পুত্র ও এক কন্যাসন্তানসহ তারা বর্তমানে লন্ডনে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন।