প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ মে ২০২৪ ১৭:২৬ পিএম
আপডেট : ১৬ মে ২০২৪ ১৮:৪৬ পিএম
বৃহস্পতিবার ফারাক্কা দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন মির্জা ফখরুল। প্রবা ফটো
সরকার পরিবর্তনে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন ছাড়া কোনো বিকল্প পথ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (১৬ মে) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ফারাক্কা দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব এ মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের সামনে আর কেনো বিকল্প পথ নেই। বাংলাদেশকে যদি আমরা রক্ষা করতে চাই, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব যদি আমরা ফিরিয়ে আনতে চাই, বাংলাদেশের জনগণকে যদি আমরা রক্ষা করতে চাই, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণ করবার আকাঙ্ক্ষা রক্ষা করতে চাইলে দলমত নির্বিশেষে সমস্ত ভেদাভেদ ভুলে একসঙ্গে লড়াই করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আজকে আমাদের স্বার্থে আমাদের লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের কেউ করে দিয়ে যাবে না, আমাদের নিজেদের সেটা করতে হবে।’
ভারত সব সময় বাংলাদেশটাকে একটা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্যে তাদের সব কার্যক্রম পরিচালনা করেছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘শুধু ফারাক্কা বাঁধ নয়, গঙ্গার পানি নয়, বাংলাদেশের ১৫৪টি অভিন্ন নদীর পানি বণ্টনের ক্ষেত্রে তারা (ভারত) সব সময়ই গড়িমসি করেছে এবং তারা এ সমস্যার সমাধান করেনি, করছে না। আপনারা সবাই জানেন, দীর্ঘকাল ধরে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন নিয়ে এ চুক্তি করছি, এই হয়ে যাবে, এখন ভালো অবস্থায় আছে এ করে করে এ সরকার সময় পার করেছে। এই যে ব্যর্থতা এর মূল কারণ হচ্ছে যে, সরকার এখন আছে সেই সরকার পুরোপুরিভাবে একটা নতজানু সরকার। তারা সব সময় জনগণেরর স্বার্থে স্ট্যান্ড নিতে ব্যর্থ হচ্ছে। ব্যর্থ হচ্ছে কারণ তারা ভারতের কাছে অত্যন্ত দুর্বল।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সেজন্য আমি বাংলাদেশের মানুষকে আমি বলতে চাই, অধিকার আদায়ের জন্য নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। আমরা আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকারকে হারিয়ে ফেলেছি, সেই গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য আমরা সব রাজনৈতিক দল সংগ্রাম করছি, লড়াই করছি। সংগ্রামে আমাদের অনেকে প্রাণ দিয়েছেন, অনেককে আবার নিপীড়ন-নির্যাতন সহ্য করতে হচ্ছে।’
তিনি বলেন, আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়াসহ ৬০ লাখ মানুষের নামে মামলা দেওয়া হয়েছে। যার সবই মিথ্যা। এই ৭ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে তিন দিনে ২৭ হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখনও নিপীড়ন-নির্যাতন-গ্রেপ্তার চলছে। আমাদের নেতাকর্মীদের সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। সরকার দখলদারিত্ব নিয়ে ক্ষমতায় বসে আছে, তাদের একমাত্র কাজ হচ্ছে তাদের স্বার্থ এবং প্রভুদের স্বার্থ রক্ষা করা। এজন্য তারা জনগণের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে।’
এ সময় নাগরিক ঐক্যে সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘আজ হোক কাল হোক এ সরকার বদলাবেই। কেউ কেউ মনে করেন, শেখ হাসিনাকে পাঁচ বছর কেউ কিছু করতে পারবে না, আবার কেউ বলেন, যতদিন জীবিত আছেন তাকে নড়াতে পারবেন না। কিন্তু আমি দেখি সরকার এমনিই নড়ছে। কারণ রিজার্ভ নাই।’
তিনি বলেন, ‘সরকার ভয়াবহ রকমের একটা অর্থনৈতিক সংকটে আছে। সব মিলে পরিস্থিতি এখানকার বস্তুগত পরিস্থিতি, বাস্তবতা অবস্থা পরিবর্তনের পক্ষে।’
বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক সীমান্ত হত্যার প্রসঙ্গে টেনে বলেন, ‘প্রতিদিন আমরা বলছি, ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক এখন সর্বোচ্চ শিখরে। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের রক্তের সম্পর্ক, রক্তের বাঁধন। এই রক্তের বাঁধনের জন্য প্রতিদিন সীমান্তে বাংলাদেশিদের হত্যা করে, জীবন দিয়ে, রক্ত দিয়ে এ অসম সম্পর্কের দায় শোধ করতে হচ্ছে। খুবই লজ্জার খুবই অপমানের। নিজেদের স্বদেশি হত্যা হচ্ছে তার উপযুক্ত প্রতিবাদ পর্যন্ত হয় না। আমার এখানে লাশ ফেরত পাব কি না এটার জন্য পতাকা বৈঠক হয়, এটা খুব লজ্জার, দুঃখের এবং অপমানের।’
জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে ভাসানী অনুসারী পরিষদের উদ্যোগে ‘ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ফারাক্কা লংমার্চের দিবসটি উপলক্ষে এ আলোচনা সভা হয়।
১৯৭৬ সালের এ দিনে ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের প্রতিবাদে মওলানা ভাসানী রাজশাহী থেকে ফারাক্কা বাঁধ অভিমুখে লংমার্চ করেন।
ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলুর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আবু ইউসুফ সেলিমের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের হাসনাত কাইয়ুম জেএসডির তানিয়া রব, ভাসানী অনুসারী পরিষদের বাবুল বিশ্বাস এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুল বক্তব্য রাখেন।