× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সিটি-পৌরসভা নির্বাচনেও নৌকা দেবে না আওয়ামী লীগ

দীপক দেব

প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৪ ০০:৫১ এএম

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২৪ ০৯:১১ এএম

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পাশাপাশি সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা নির্বাচনেও দলীয় প্রতীক নৌকা দেবে না ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের এসব নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও উৎসবমুখর করার পাশাপাশি ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে দলটির পক্ষ থেকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দলীয় কোন্দল নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে। এ ছাড়া দলীয় মনোনয়ন দিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের পর এবার মনোনয়নবিহীন নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দুই পদক্ষেপের মধ্যে দলগতভাবেও এক ধরনের তুলনামূলক মূল্যায়ন করতে চায় দলটির হাই কমান্ড। আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল নেতার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। 

ক্ষমতাসীন দলের এই সিদ্ধান্তের ফলে বিরোধী দল, বিশেষ করে নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্তে থাকা বিএনপিও আগ্রহী হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। নির্বাচনে যাওয়ার ব্যাপারে বিএনপির তৃণমূল থেকে কেন্দ্রের ওপর চাপও রয়েছে। 

তারা জানান, গত সোমবার গণভবনে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের জরুরি সভায় আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেকেই বক্তব্য দেন। প্রায় সবাই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না দেওয়ার বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন। কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে কেউ কেউ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও বিএনপি ও তাদের মিত্র দলগুলো বর্জন করতে পারে এমন কথা তুলে ধরেন। এ অবস্থায় জাতীয় সংসদের মতো কৌশল অবলম্বন করার বিষয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরলেও এক্ষেত্রে নৌকা না দিয়ে সবার জন্য মাঠ উন্মুক্ত করে দেওয়ার প্রস্তাব করেন তারা। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো নৌকা রেখে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য সুযোগ করে দেওয়া হলে তৃণমূলের রাজনীতিতে সংঘাত ও বিভক্তি বাড়বে বলেও যুক্তি তুলে ধরেন কেউ কেউ। এসব বিষয় মাথায় রেখে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না দিয়ে উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 

সূত্রে জানা গেছে, ওই দিন বৈঠকে নেতারা দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি উপজেলা নির্বাচন নিয়ে আলোচনা শুরু করে নিজেদের মতামত দিলে তাতে সম্মতি জানান দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা। উপজেলা নিয়ে সিদ্ধান্ত জানানোর এক পর্যায়ে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এমনটা জানতে চাওয়া হলে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা একই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এমনটা জানিয়ে দেন। দলটির অনেকেই মনে করছেন, এমন সিদ্ধান্তের কারণে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতার সামনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ উন্মোচন হলো। আওয়ামী লীগ এবার নৌকার মনোনয়ন না দিয়ে সবগুলো নির্বাচনই সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 

এদিকে গতকাল বুধবার কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের উপনির্বাচন, ময়মনসিংহ সিটির সাধারণ নির্বাচন, নয়টি পৌরসভাসহ কয়েকটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড মিলে ২৩৩টি স্থানীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এসব নির্বাচনের ভোটগ্রহণ ৯ মার্চ। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিব জাহাংগীর আলম রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সংবাদ সম্মেলনে তফসিল ঘোষণা করেন।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচন ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচন, এমনকি পৌরসভা নির্বাচনেও দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করবে না আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাসী দল, গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখতে সব নির্বাচনে অংশ নেবে, তবে স্থানীয় সরকারে সরাসরি নৌকা প্রতীক দেওয়া হবে না। 

আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল একটি সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার রাতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের ওই সভায় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দিয়ে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে মত দিয়েছিলেন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতা। তারা প্রত্যেকে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে এমন দূরদর্শী সিদ্ধান্তের জন্য ধন্যবাদও জানান। তবে একই আসনে নৌকা ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে ভোটের লড়াইয়ে দলের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি হয়েছে। এসব বিষয় আলাপ আলোচনা ও বিচার বিশ্লেষণের পর এবার নৌকার মনোনয়ন না দিয়ে পুরোপুরি উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে দলের মধ্যে সংঘাত ও সংঘর্ষ হবে না বলেও মনে করা হচ্ছে। কোথাও কোনো সমস্যা হলে তা কেন্দ্র থেকে নিয়ন্ত্রণ করার প্রস্তুতিও রাখা হবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘দলীয় প্রতীক থাকবে কি থাকবে না, থাকলে কেমন হয়, না থাকলে কেমন হয়; সে বিষয়ে বিস্তর আলোচনা পর্যালোচনা হয়েছে আওয়ামী লীগের বৈঠকে। সেই আলোচনার পর আমরা দেখেছি দলীয় প্রতীক না থাকলে এই মুহূর্তে সবকিছুর জন্য ভালো হয়। স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো উন্মুক্ত করে দেওয়া হলে দলীয় শৃঙ্খলা ক্ষতিগ্রস্ত হবে কি নাÑ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ একটি সুশৃঙ্খল দল। এখানে চেইন অব কমান্ড রয়েছে। তাই উন্মুক্ত করে দেওয়া হলেও তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে না। 

এদিকে দলীয় প্রতীকের পর এবার নির্বাচন উন্মুক্ত রেখেও আওয়ামী লীগ পুরো প্রক্রিয়ায় এক ধরনের মূল্যায়নও করতে যাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর অন্যতম সদস্য কর্নেল (অব.) ফারুক খান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, যেহেতু আমরা এর আগে দলীয় প্রতীক দিয়েছি, এবার দলীয় প্রতীক না দিয়ে দুইটার মধ্যে এক ধরনের মূল্যায়ন করে দেখব। দলীয় প্রতীক না দেওয়ার পর দলীয় প্রার্থীদের জয়ের হার ও ভোটের উপস্থিতি এসব নিয়ে আমরা কাজ করে দেখব দলের জন্য কোনটা ভালো হবে। সেই মূল্যায়নের জায়গা থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে দলীয় প্রতীক না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা