× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

জাতীয় সংসদ নির্বাচন

বিরোধী দল নিয়ে ধোঁয়াশা

কাজী হাফিজ ও দীপক দেব

প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০২৪ ১০:৪১ এএম

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২৪ ১১:১৪ এএম

বিরোধী দল নিয়ে ধোঁয়াশা

টানা চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করতে চলেছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৮টির ফলাফলে ২২২টিতেই জয়ী হয়ে একক নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে এ দল। এর ফলে সংসদে সরকারি দলের অবস্থানের সুরাহা হলেও বিরোধী দল কোনটি হবে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে সবখানে। 

প্রসঙ্গত, এবারের নির্বাচনে আসন লাভের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। মোট ৬২ আসনে জয়ী হয়েছেন তারা। অন্যদিকে একাদশ সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি পেয়েছে মাত্র ১১টি আসন। বিশেষজ্ঞ অনেকের মতে, নির্দলীয় প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সরাসরি বিরোধী দল হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। স্বতন্ত্র এমপিরা ঐক্যবদ্ধভাবে যদি কোনো রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করেন, তাহলেই কেবল বিরোধী দলের আসনে বসতে পারবেন তারা। আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা ইঙ্গিত দিচ্ছেন, এ অবস্থায় জাতীয় পার্টিই ফের বিরোধী দলের আসনে অবতীর্ণ হতে পারে।

এবারের সংসদ নির্বাচনে ২৮টি দলের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও বিজয়ী হয়েছেন পাঁচটি দলের এক বা একাধিক প্রার্থী। আওয়ামী লীগের বিজয়ী প্রার্থীর সংখ্যা ২২২ আর জাতীয় পার্টির ১১। এছাড়া বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ও জাসদের রেজাউল করিম তানসেন বিজয়ী হয়েছেন জোটের প্রতীক নৌকা নিয়ে। কল্যাণ পার্টির মেজর জেনারেল সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম নির্বাচিত হয়েছেন হাতঘড়ি প্রতীক নিয়ে। দলীয় প্রার্থীদের বাইরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছেন ৬২টি আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তবে তাদের প্রায় সবাই আবার আওয়ামী লীগের নেতা। এ পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, কোন দলটি দ্বাদশ জাতীয় সংসদের বিরোধী দল হিসেবে পরিগণিত হবে।

সংবিধান ও সংসদ বিশেষজ্ঞদের অভিমত

জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী ২(১)(ট) বিধিতে বলা হয়েছে, ‘বিরোধী দলের নেতা অর্থ স্পিকারের বিবেচনা মতে যে সংসদ সদস্য সংসদে সরকারি দলের বিরোধিতাকারী সর্বোচ্চ সংখ্যক সদস্য লইয়া গঠিত ক্ষেত্রমত দল বা অধিসংঘের নেতা।’ সংবিধান-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই হিসাবে বিরোধী দলের স্বীকৃতি প্রদানের বিষয়টি স্পিকারের একক এখতিয়ারের বিষয়।

এ বিষয়ে জাতীয় সংসদের সাবেক চিপ হুইপ আব্দুস শহীদ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘যেসব সংসদ সদস্য সরকারি দলের বাইরে রয়েছেন, তারাই সংসদে বিরোধী দল হিসেবে বিবেচ্য। স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে কেউ বিরোধী দলের নেতা হতে চাইলে তাদেরকে জোট গঠন করতে হবে। জাতীয় পার্টির সঙ্গে অন্যান্য দলের সংসদ সদস্যদের এ বিষয়ে সমঝোতা হতে পারে। তবে এতে একই সঙ্গে স্পিকার এবং সংসদ নেতারও সম্মতির প্রয়োজন হবে। এই সমঝোতা ও সম্মতির মাধ্যমে স্বতন্ত্রদের মধ্য থেকে কেউ বিরোধীদলীয় নেতা হতে পারেন। উপনেতা হতে পারেন জাতীয় পার্টি থেকে।’

প্রসঙ্গত, সংবিধানে সংসদে কোনো দলের নেতাকে বিরোধী দলের নেতা হতে হলে তার দলের কয়টি আসন থাকতে হবে তার উল্লেখ নেই। তবে প্রথা বা রেওয়াজ হচ্ছেÑ সরকারি দলের পর যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠ, সেই দলই বিরোধী দল হবে এবং সেই দলের নেতা বিরোধী দলের নেতা হবেন। সেখানে তাদের কতটি আসন থাকতে হবে, এরকম কোনো বিষয় নেই। তবে ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ একাই পেয়েছিল ২৯৩টি আসন। আর বিরোধী ছোট ছোট কয়েকটি দল মিলে পেয়েছিল বাকি সাতটি আসন। সে সময় এসব দল যৌথভাবে বাংলাদেশ জাতীয় লীগের আতাউর রহমান খানকে তাদের নেতা উল্লেখ করে বিরোধী দলের নেতার মর্যাদা দেওয়ার জন্য স্পিকারের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন। তৎকালীন সংসদ নেতা এতে আপত্তি জানিয়ে বলেছিলেন, বিরোধী দল হিসেবে স্বীকৃতি পেতে হলে একটি রাজনৈতিক দলের অবশ্যই কমপক্ষে ২৫টি আসন থাকতে হবে। না হলে তাদেরকে পার্লামেন্টারি গ্রুপ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে, কিন্তু বিরোধী দল নয়। এ কারণে প্রথম জাতীয় সংসদে কোনো বিরোধীদলীয় নেতা ছিলেন না। দ্বিতীয় জাতীয় সংসদে এসে প্রথম বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচন করা হয় এবং সংসদের প্রথম বিরোধীদলীয় নেতা ছিলেন আসাদুজ্জামান খান। বিরোধীদলীয় নেতার পদটি সরকারের মন্ত্রিপরিষদের একজন পূর্ণ মন্ত্রীর সমান পদমর্যাদার অধিকারী।

বিজয়ী দল আওয়ামী লীগ নেতাদের অভিমত

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গতকাল সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘নির্বাচনের রেজাল্ট অফিসিয়ালি ঘোষণা হওয়ার পর দেখা যাচ্ছে, অলরেডি বিরোধী দল জাতীয় পার্টির তো অনেকেই জিতেছেন। চৌদ্দ দলেরও দুজনের মতো জিতেছেন। এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় তো দূরে নয়। যিনি লিডার অব দ্য হাউস হবেন, তিনি এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন। নতুন প্রধানমন্ত্রী, নতুন লিডার অব দ্য হাউস পরিস্থিতি ও বাস্তবতা বিবেচনায় করণীয় বিষয়ে অবশ্যই সিদ্ধান্ত নেবেন।’

গতকাল সোমবার দুপুরে তেজগাঁওয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘পদ্ধতিটা আমি কেন বলব? নতুন সরকার বসুক। সংশ্লিষ্ট যারা আছেন, তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বৈঠক করবেন। বাস্তবতার নিরিখে সিদ্ধান্ত নেবেন।’ স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জনগণের প্রতিনিধি। নির্বাচিত সদস্য হিসেবেই তারা সংসদে বসবেন। তাদের ভূমিকা পালন করবেন। এছাড়া অন্য কিছু এই মুহূর্তে ভাববার অবকাশ নেই।’ 

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সেলিম মাহমুদ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী বিরোধী দল গঠন হবে।’ স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সরাসরি বিরোধী দলে বসার সুযোগ নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যেহেতু তারা কোনো দল থেকে নির্বাচনে অংশ নেননি, তাই তাদের কোনো-না কোনো দলকে সমর্থন দিতে হবে। এক্ষেত্রে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের পরে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জাতীয় পার্টি। তাদের সঙ্গে বসে ঐক্যবদ্ধভাবে একটা বিরোধী দল গঠন করতে পারবেÑ তাদের সেই সুযোগ রয়েছে।’ 

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য অ্যাডভোকেট রিয়াজুল কবির কাওসার বলেন, ‘জাতীয় পার্টি প্রধান বিরোধী দল হবে। এটাই স্বাভাবিক। কারণ রাজনৈতিক দল হিসেবে তারা দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জোট করতে পারেন। কিন্তু যেহেতু তারা রাজনৈতিক দলের নয়, সেহেতু বিরোধী দল হওয়ার সুযোগ নেই।’ 

এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংসদের আইন শাখার এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আসনের সংখ্যায় দৃশ্যত আবারও সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসতে যাচ্ছে জাতীয় পার্টি। তবে সংখ্যায় তাদের পাঁচগুণ বেশি স্বতন্ত্র প্রার্থীদের উপস্থিতি সম্ভাব্য ওই তকমাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা