× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

১১টি আসন চাওয়া প্রসঙ্গে সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম

আওয়ামী লীগের সঙ্গে ‘টুকটাক’ কথা হয়েছে

এস এম রানা, চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ২৬ নভেম্বর ২০২৩ ১৩:২২ পিএম

সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম।

সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম।

সরকারবিরোধী আন্দোলনরত জোটের সঙ্গে থাকা বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি হঠাৎ নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোচনা চলছে। এই আলোচনায় নতুন করে ঘি ঢেলেছে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আসন ভাগাভাগির একটি তালিকা। দলটির চেয়ারম্যানের সই করা তালিকায় দেখা গেছে, দলীয় প্রতীক হাতঘড়ি মার্কায় ১১ জন প্রার্থী নির্বাচন করতে চান। অর্থাৎ আওয়ামী লীগের কাছে ১১টি আসন চেয়েছে কল্যাণ পার্টি। জোট গঠনের আগে তালিকা দেওয়ার বিষয়টি কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যানের কথায় স্পষ্ট হলেও কেন তিনি নিজে একাধিক আসন চেয়েছেন সেই বিষয়টি স্পষ্ট করেননি।

প্রার্থীদের তালিকা প্রসঙ্গে কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘জোট গঠনের আগে সরকারি দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে আসন বণ্টন নিয়ে টুকটাক কথা হয়েছে।’

যে তালিকা পাওয়া গেছে, সেই তালিকার শিরোনামে ‘অত্যন্ত গোপনীয়’ লেখা হয়েছে। কম্পিউটার কম্পোজ করা তালিকার শেষ ভাগে হাতে ‘ইবরাহিম’ লেখা সই রয়েছে। সময় উল্লেখ করা হয়েছে ৪টা ১৫ মিনিট আর তারিখ উল্লেখ রয়েছে ১৯ নভেম্বর ২০২৩। অর্থাৎ যুক্তফ্রন্ট ঘোষণার তিন দিন আগেই তালিকাটি সরকারি দলের ঊর্ধ্বতন নেতাদের কাছে পৌঁছানো হয়েছে। এই ফ্রন্টে বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল) এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (মতিন) রয়েছে।

ওই তালিকায় দলের নাম, প্রতীক, প্রার্থী এবং আসনের নাম উল্লেখ থাকলেও নেতাদের পদবি উল্লেখ করা হয়নি। ফলে যাদের জন্য আসনগুলো চাওয়া হয়েছে- তারা কি বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির নেতা নাকি যুক্তফ্রন্টভুক্ত অপর দুই দলের নেতা সেটাও  পরিষ্কার হয়নি। আবার যুক্তফ্রন্টভুক্ত অপর দুই দলের প্রার্থীর নাম থাকলেও তারা কি হাতঘড়ি মার্কা প্রতীকে নির্বাচন করবেন নাকি মুসলিম লীগ ও জাতীয় পার্টি (মতিন) আলাদা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন- সেই বিষয়গুলোও স্পষ্ট হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে তালিকাভুক্ত ১১ জনই কল্যাণ পার্টির নেতা এবং তারা দলীয় প্রতীক দেয়ালঘড়ি নিয়েই নির্বাচন করতে চান। 

তালিকা অনুযায়ী মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক তার নিজের এলাকা চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী), কক্সবাজার-১ (চকরিয়া) এবং ঢাকা-১৭ (ক্যান্টনমেন্ট-গুলশান) তিন আসনের যেকোনো একটি চেয়েছেন। 

এ ছাড়া আবদুল আউয়াল মামুন কক্সবাজার-১ অথবা ঢাকা-৪, আবদুল্লাহ আল হাসান সাকিব ঢাকা-৪ অথবা ঢাকা-৫, মো. ফরহাদ লক্ষ্মীপুর-২, ওবায়দুল হক সিরাজী (ফেনী-১), বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইলিয়াছ (চট্টগ্রাম-৯), জাহিদুর রহমান (মুন্সীগঞ্জ-১), শাহানা সুলতানা শীলা (রাজশাহী-৬), সাহিদুর রহমান তামান্না (কুমিল্লা-৬), নজরুল ইসলাম (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪) এবং মফিজউদ্দিন (কুমিল্লা-৮) আসন চেয়েছেন। 

প্রস্তাবিত ১১টি আসন পাওয়া গেছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘এই বিষয়ে ৩০ নভেম্বরের আগে কিছুই বলতে পারব না।’ আপনার নিজের আসন চট্টগ্রাম-৫। কিন্তু আপনি তিনটি আসনে মনোনয়ন চেয়েছেন। আপনাকে চট্টগ্রাম-৫ আসনের প্রার্থী হিসেবে হাটহাজারীবাসী পাবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এই বিষয়েও ৩০ নভেম্বরের আগে মন্তব্য করতে পারব না।’ 

গেল ২২ নভেম্বর যুক্তফ্রন্ট ঘোষণার সময় সংবাদ সম্মেলনে কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বলেছিলেন, ‘নির্বাচনে ১০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে যুক্তফ্রন্টের।’ 

কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান যে তিনটি আসন চেয়েছেন তার একটি চট্টগ্রাম-৫। এই আসনে ৪৮ বছর ধরে আওয়ামী লীগের দলীয় সংসদ সদস্য নেই। আবার জোটগত কারণে আসনটিতে এখন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ সংসদ সদস্য। জাতীয় পার্টি ৩০০ আসনে প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা ইতোমধ্যেই দিয়েছে। কিন্তু সরকারের সঙ্গে সমঝোতা হলে আওয়ামী লীগ আসনটি জাতীয় পার্টি নাকি কল্যাণ পার্টি- কোন দলকে ছাড়বে সেই বিষয়ে ক্ষমতাসীন দলের তরফ থেকে বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। কারণ আওয়ামী লীগের আজ রোববার ৩০০ আসনে প্রার্থী ঘোষণার কথা রয়েছে। তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত হলে হয়তো কিছুটা আভাস পাওয়া যেতে পারে। 

এ ছাড়া কক্সবাজার-১ তথা চকরিয়া আসনটি চাওয়া হয়েছে সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম এবং আবদুল আউয়াল মামুনের জন্য। দুজনই একই আসন দুই দফায় চাওয়ায় বোঝা যাচ্ছে এই আসনটির দিকে কল্যাণ পার্টির বাড়তি নজর রয়েছে। ওই আসনে বর্তমান এমপি আওয়ামী লীগের জাফর আলম। বিএনপি যদি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে না আসে এবং সরকার যদি নির্বাচনে বহুপক্ষীয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চায়, সে ক্ষেত্রে আসনটি জাফর আলম বা নৌকার প্রার্থীর কাছে থাকবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। 

কল্যাণ পার্টির তালিকাভুক্ত ১১টি আসনেই আওয়ামী লীগ বা শরিক দলের প্রার্থী রয়েছে। তাই দলীয় বা শরিকের কাছ থেকে নিয়ে কল্যাণ পার্টিকে আওয়ামী লীগ কয়টি আসন দিয়ে নির্বাচনের সঙ্গে শেষ পর্যক্ত যুক্ত রাখবে- সেটাই এখন দেখার বিষয়। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা