প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ অক্টোবর ২০২৩ ১৪:০১ পিএম
আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২৩ ১৬:১৭ পিএম
গণআন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পতন ঘটানো হবে বলে মন্তব্য করেছেন ক্লাব মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আব্দুল কাদের। বুধবার (৪ অক্টোবর) সরকারের পদত্যাগসহ আটদফা দাবিতে ব্রিটেনের বার্মিংহামের স্থানীয় একটি হলে বার্মিংহাম ও মিডল্যান্ডস খেলাফত মজলিস আয়োজিত এক গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। খেলাফত মজলিসের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেছেন, ‘আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি আজ এক চরম ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। সেখানে মত প্রকাশের স্বাধীনতা নেই। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নেই। ভোটের অধিকার নেই। দেশের অর্থনীতি আজ ভেঙে পড়েছে। মেগা প্রজেক্টের নামে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা দুর্নীতি করছে। তারা দেশের টাকা পাচার করে বিদেশে বাড়ি কিনছে অথচ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে দেশের সাধারণ মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে হিমশিম খাচ্ছে।’
মিডলেন্ডসের সভাপতি ক্বারী আব্দুল মুকিত আজাদের সভাপতিত্বে সমাবেশে ড. আহমদ আবদুল কাদের আরও বলেন, ‘দেশের আলেম ওলামাসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। অনেকেই এখনও কারাগারে বন্দি। তাদেরকে অনতিবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। জনগণ তাদের ন্যায্য অধিকার চায়। মানুষের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে দেশ বিদেশে আন্দোলনের বিকল্প নেই।’
প্রবাসীদের উদ্দেশ্য তিনি বলেন, ‘আপনারা সবসময় দেশের ক্রান্তিলগ্নে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, এবারও ফ্যাসিবাদ সরাতে বিভিন্ন আন্দোলনে আপনাদের শরীক হতে হবে। সবার ঐক্যমতের ভিত্তিতে এই ফ্যাসিস্ট সরকারকে গণ-আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পতন ঘটানো হবে।’
দলনিরপেক্ষ সরকারের অধীন ছাড়া আগামী জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না উল্লেখ করে ড. কাদের বলেন, ‘একমাত্র আওয়ামী লীগ ও তাদের মিত্ররা ছাড়া দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দল নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের ব্যাপারে আজ ঐক্যবদ্ধ। খেলাফত মজলিস দলনিরপেক্ষ সরকারের দাবিসহ আটদফা দাবি নিয়ে আন্দোলন করছে এবং তা আদায় না হওয়া পর্যন্ত চলবে।’ এ সময় আগামী ১৪ অক্টোবর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে খেলাফত মজলিসের মহা-সমাবেশ সফলের জন্য সবার প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর অধ্যাপক মাওলানা আবদুল কাদির সালেহ বলেন, ‘দেশে একটি পরিবর্তন দরকার। কেন পরিবর্তন দরকার? কারণ দেশে আমাদের কোনো অধিকার নেই। আমাদের অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেই অধিকার আদায়ের জন্য পরিবর্তন দরকার। আমাদের স্বাধীনতাকে খর্ব করা হয়েছে। আমাদের জীবনের নিরাপত্তাকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এই অবস্থা থেকে উত্তোরণের জন্য ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা দরকার।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন প্রতিবাদ ও আন্দোলনের সময়। আমাদের এখন ঘুমিয়ে থাকলে চলবে না। এখন আমাদের দাঁড়িয়ে যেতে হবে। সময় দ্রুত অতিবাহিত হচ্ছে। আমাদের অধিকার আদায় ও সুস্থ এবং সুন্দরভাবে বাচঁতে হলে লড়াই করে টিকে থাকতে হবে। কেউ যদি নিজের অধিকার ও স্বাধীনতা দাবি না করেন তাহলে তাহার অধিকার ও স্বাধীনতা তামাদি হয়ে যাবে। কবার যদি নিজের অধিকার তামাদি হয়ে যায় তাহলে আর অধিকার ও স্বাধীনতা আদায় করা যাবে না।’
অধ্যাপক মাওলানা আবদুল কাদির সালেহ বলেন, ‘এই মাটিতে আমার জন্ম। এই মাটিতেই আমার অধিকার। আমাদের অধিকার আদায়ের জন্য আমাদেরকে সংগ্রাম করতে হবে আমাদের অস্তিত্বের জন্য। আমরা একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন চাই, যেই নির্বাচনে দেশের জনগণ নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে নতুন সরকার গঠন করবে। যেই সরকার গঠন করুক তাতে আমাদের আপত্তি নেই। আমরা চাই মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে, আর এটাই হচ্ছে আমাদের আন্দোলন।’
তিনি আরও বলেন, ‘মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হলে দেশের সব প্রতিষ্ঠান ও দেশের জনগণ এবং দেশের সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নিরাপদ থাকবে।’ এই অধিকার আদায়ের আন্দোলনে শরিক হওয়ার জন্য দেশ ও প্রবাসের সকল বাংলাদেশিদের প্রতি আহবান জানান।
খেলাফত মজলিসের বার্মিংহামের সভাপতি মাওলানা এনামুল হাসান ছাবিরের পরিচালনায় সমাবেশে অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন যুক্তরাজ্য শাখার সভাপতি মাওলানা সাদিকুর রহমান, সহসভাপতি মাওলানা মুফতি তাজুল ইসলাম, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দীয় সহসভাপতি মাওলানা এখলাছুর রহমান, সংগঠনের যুক্তরাজ সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শাহ মিজানুল হক, জমিয়তের বার্মিংহামের সভাপতি মাওলানা আব্দুর রব ফয়জী, খেলাফত মজলিসের বার্মিংহামের উপদেষ্টা আলহাজ ইনামুর রহমান, মিডলেন্ডস সহসভাপতি মাওলানা আনহারুল ইসলাম চৌধুরী, মাওলানা শাহ সুলতান মাহমুদ, মাওলানা আবদুল মতিন, বার্মিংহাম সেক্রেটারী মাওলানা আ ফ ম শুয়াইব, আলহাজ আবদুল গনী, মাওলানা হাবীবুর রহমান, মাওলানা অলিউর রহমান, মিডলেন্ডস সেক্রেটারি সৈয়দ কবির আহমাদ, লন্ডন মহানগরী প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক মাওলানা দিলোয়ার হুসাইন, কমিউনিটি নেতা মুসাদ্দেক হুসেন মানিক, হাজী আবদুল ওয়াদুদ, হাফেজ আহমদ হুসাইন, মাওলানা আনছার উদ্দীন, মাওলানা কুদরত উল্লাহ শরীফ প্রমুখ।