প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ জুলাই ২০২৩ ২০:৪৯ পিএম
আপডেট : ২০ জুলাই ২০২৩ ২১:১৪ পিএম
গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন কার্যালয়ে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু ও শ্যামা ওবায়েদ। প্রবা ফটো
সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য দলনিরপেক্ষ সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার যে প্রত্যাশা দেশের মানুষের, একই প্রত্যাশা বিশ্বের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোরও বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘বিশ্বের যত গণতন্ত্রকামী দেশ আছে, সংগঠন আছে, সবারই কনসার্ন একটা জায়গায়, তা হলো—বাংলাদেশে একটা অনির্বাচিত সরকার থাকার কারণে মানবাধিকার, আইনের শাসন, জীবনের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে। সুতরাং এর পরিবর্তনের একমাত্র উপায় হচ্ছে একটি নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও অংশীদারমূলক নির্বাচন। এবং সেটা বাংলাদেশের জনগণের যেভাবে প্রত্যাশা, তাদের (গণতান্ত্রিক দেশগুলোর) একই প্রত্যাশা।’
বৃহস্পতিবার (২০ জুলাই) বিকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন
কার্যালয়ে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা
ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বৈঠক শেষে এ কথা বলেন তিনি।
আমীর খসরু বলেন, ‘একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ সংসদ ও সরকার গঠন করবে, এ কনসার্ন সবার আছে। ব্রিটিশ সরকারের সব সময় ছিল। আমরা ওয়েস্টমিনস্টার ডেমোক্রেসি (সংসদীয় গণতন্ত্র) ফলো করি। এ বিষয়গুলো আজকের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশে এক সপ্তাহের প্রেক্ষাপট যদি আমরা দেখি, তাহলে দেখব মানুষের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছে, গ্রেপ্তার হয়েছে, মামলা হয়েছে। ডিসি, পুলিশ পোস্টিং হচ্ছে। এ যে নির্বাচনে চুরি করার প্রকল্প, কিন্তু অব্যাহত আছে। ভোটচুরির প্রকল্প প্রত্যেক দিন কাজ করছে। বিএনপির নেতাকর্মীদের বিচার ত্বরান্বিত করার জন্য যে প্রক্রিয়া চলছে, তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসছে। এটা বিরাট ধরনের কনসার্ন। নির্বাচন ছয় মাস পরে, কিন্তু ভোটচুরির প্রকল্প সক্রিয়ভাবে চলছে। এর কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। এজন্য নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া বাংলাদেশে নির্বাচন সম্ভব নয়। ভোটচুরির প্রকল্প ভাঙার একমাত্র পথ হচ্ছে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন। এ আলোচনা এখন সব জয়গায় চলছে। আমাদের আজকের আলোচনায় এগুলো উঠে এসেছে।’
সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে নির্দলীয় যে সরকারের কথা আপনারা বলছেন তাতে ব্রিটিশ সমর্থন আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সমর্থন তো শুধু গ্রেট ব্রিটেন না, সারা বিশ্বের প্রত্যেকটি গণতান্ত্রিক দেশগুলো দিচ্ছে। বাংলাদেশে কেন আসছে, কেন বার্তা দিচ্ছে, কেন প্রতিনিধিমূলক, অংশীদারত্বমূলক, অংশগ্রহণমূলক গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের কথা বলছে? তারা কি অন্য কোনো দেশে যাচ্ছে? তারা কোথাও যাচ্ছে না।’
আমীর খসরু বলেন, ‘বাংলাদেশে যে নির্বাচন হয় না এটা কি বলার অপেক্ষা রাখে? তারা যেভাবে কথাগুলো বলছে এটার অর্থই হচ্ছে বাংলাদেশে নির্বাচন হচ্ছে না। বাংলাদেশের জনগণ ভোট দিতে পারছে না। জনগণ তাদের সংসদ ও সরকার নির্বাচন করতে পারছে না। এ পরিপ্রেক্ষিতে গণতান্ত্রিক দেশগুলো নির্বাচন নিয়ে কথাগুলো বলছে।’
বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক কমিটির এ চেয়ারম্যান বলেন, ‘বাংলাদেশে যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হতো তাহলে এসব প্রশ্নও উঠত না। আলোচনা হতো না। আর ব্রিটিশ হাইকমিশনারও এখানে এসে এসব আলোচনা করতেন না।’
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠকের তিন ঘণ্টা পর ব্রিটিশ হাইকমিশনারের পতাকাবাহী গাড়ি গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে প্রবেশ করে। ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সঙ্গে ছিলেন হাইকমিশনের পলিটিক্যাল কাউন্সিলর টিমোথি ডকেট।
বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে ছিলেন দলের আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ও সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামা ওবায়েদ।