প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০২ অক্টোবর ২০২২ ১৮:২১ পিএম
আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২২ ২০:৫৩ পিএম
রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে রবিবার কল্যাণ পার্টির সঙ্গে বিএনপির বৈঠক। ছবি : প্রবা
সরকার-বিরোধী আন্দোলনে চমক আসছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহিম।
রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে রবিবার (২ অক্টোবর) বিএনপির সঙ্গে সংলাপ শেষে তিনি এই ঘোষণা দেন। এর আগে গত ২ জুন কল্যাণ পার্টির সঙ্গে প্রথম দফা সংলাপ করেছিল বিএনপি।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বিএনপি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ করছে। সরকারবিরোধী আন্দোলনের নীতি নির্ধারণের চেষ্টা চলছে সংলাপে। সরকার পতনের আন্দোলন গড়ে তোলা তাদের লক্ষ্য।
সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহিম বলেন, ‘আলোচনায় আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যুগপৎ আন্দোলন হবে। তবে আমরা সকলেই একমত হয়েছি আন্দোলন শুরুর তারিখ প্রকাশ না করার জন্য। বলতে পারি চমক আছে। আপনারা তার জন্য প্রস্তুত থাকতে পারেন।’
তিনি বলেন, ‘আমি একজন রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা। আমি মনে করি, এই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম আরেকটি মুক্তিযুদ্ধ। আমরা সবাই মিলে এই যুদ্ধে লড়ব এবং জয়ী হব। এখানে জয় ব্যতীত বিকল্প নাই।’
ধর্মী বিষয় সামনে আনার বিষয়টি এসেছে তার বক্তব্যে।
তিনি বলেন, ‘যেসব আলেম-ওলামাকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে নেওয়া হয়েছে তাদের মুক্তি আজকের আলোচনায় স্থান পেয়েছে। আমরা ধর্মীয় অঙ্গনের আলেমদের অত্যাচার-নির্যাতনকে অবহেলা করছি না। আমরা সেটাকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছি।’
দ্বিতীয় দফার প্রথম দিনের এই সংলাপে প্রধান দাবিগুলো নিয়ে কল্যাণ পার্টির সঙ্গে ঐকমত্যে পৌঁছেছে বিএনপি।
সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও।
তিনি বলেন, ‘আমরা এ অনির্বাচিত মানবাধিকার হরণকারী অবৈধ সরকারকে সরিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে যে আন্দোলন গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চালাচ্ছি এবং একটি জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার প্রক্রিয়া চালাচ্ছি, তার অংশ হিসেবে দ্বিতীয় দফায় অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছি। তার প্রথম বৈঠকটিতে আজ কল্যাণ পার্টির সঙ্গে বসেছিলাম।’
কিছু বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে জানিয়ে ফখরুল বলেন, বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার লক্ষ্যে যে প্রধান দাবিগুলো নিয়ে তারা আন্দোলন শুরু করবেন, সেগুলো নিয়ে তারা একমত হয়েছেন। নির্বাচনকালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে তারা একমত হয়েছেন। বর্তমান সরকারের পদত্যাগের ব্যাপারে একমত হয়েছেন। সংসদ বিলুপ্তির ব্যাপারে একমত হয়েছেন। সেই সঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করে তার মাধ্যমে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে একমত হয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং তার সঙ্গে সকল রাজনৈতিক নেতাকর্মী, যাদের নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে, তাদের মামলাগুলো প্রত্যাহারের ব্যাপারে একমত হয়েছি প্রথম দিনের সংলাপে। সেই সঙ্গে আমাদের আন্দোলনের সঙ্গে যারা রয়েছেন তাদের নামে যেন কোনো মিথ্যা রাজনৈতিক মামলা দেওয়া না হয় সেই ব্যাপারেও আমরা একমত হয়েছি।’
দ্বিতীয় দফা সংলাপের প্রয়োজন সম্পর্কে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রয়োজন এ জন্য যে, প্রথম দফার সংলাপে আমরা জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলেছি যুগপৎ আন্দোলনের ব্যাপারে। এখন কোন দাবিতে, কোন ইস্যুতে আমরা আন্দোলন করব, তাতে একমত হতে দ্বিতীয় দফার সংলাপ।’
ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের রূপরেখা দ্বিতীয় দফা সংলাপের পরই প্রকাশ করা হবে বলে জানান তিনি।
বিএনপির পক্ষে বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
কল্যাণ পার্টির পক্ষে বৈঠকে আরও ছিলেন পার্টির মহাসচিব আবদুল আউয়াল মামুন, পার্টির নেতা নূরুল কবির ভূঁইয়া পিন্টু, মোহাম্মদ নূরুল আফসার, আল আমিন ভূঁইয়া রিপন প্রমুখ।
প্রবা/টিকে/টিই