প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ মে ২০২৩ ১৩:৫৩ পিএম
আপডেট : ১৭ মে ২০২৩ ১৪:৪৪ পিএম
সংবাদ সম্মেলনে গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা। প্রবা ফটো
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ সরকার যে তার রাজনৈতিক মিত্রদের নিয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের ইঙ্গিত দিয়েছে, তা কেবল বর্তমান কর্তৃত্ববাদী নিপীড়নমূলক সরকারেরই সম্প্রসারণ বলে মন্তব্য করেছেন গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা। বুধবার (১৭ মে) সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন মন্তব্য করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন গণতন্ত্র মঞ্চের সমন্বয়ক ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। উপস্থিত ছিলেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ূম, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ্ কায়সার, ভাসানী অনুসারী পরিষদের সদস্য সচিব হাবিবুর রহমান রিজু, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য বহ্নিশিখা জামালী ও আকবর খান।
লিখিত বক্তব্যে সাইফুল হক বলেন, ১৫ মে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তার নেতৃত্বে সংসদে থাকা তার রাজনৈতিক মিত্রদের নিয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের যে ইঙ্গিত দিয়েছেন তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের সরকার বর্তমান কর্তৃত্ববাদী নিপীড়নমূলক সরকারেরই সম্প্রসারণ।
তিনি বলেন, গণআন্দোলন যত জোরদার হচ্ছে সরকার তত বেসামাল হয়ে পড়ছে। প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্য বিবৃতিতেও তা পরিষ্কার বেরিয়ে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী ও তার সরকার যে চরম হতাশা ও অস্থিরতায় ভুগছেন সাম্প্রতিক কিছু ঘটনাবলী এবং সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ থেকেও তা স্পষ্ট।
বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া এবং দেশ থেকে কোনো কিছু না কেনার সিদ্ধান্ত হটকারী ও আত্মঘাতী হয়ে দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন সাইফুল হক। তিনি বলেন, পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে তারাও যদি বাংলাদেশ থেকে কোনো কিছু না কেনার সিদ্ধান্ত নেয় তার সম্ভাব্য ফলাফল কী হবে? সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও তার রপ্তানি বাণিজ্য যে বড় ঝুঁকিতে পড়বে সেই আশঙ্কা নিশ্চয়ই অমূলক নয়।
সাইফুল হক বলেন, ‘তিন দেশে প্রধানমন্ত্রীর ১৫ দিনের সফরে দেশ ও সরকারের জন্য তেমন কিছু অর্জিত হয়নি। অর্থাৎ, ক্ষমতায় থেকে আগামী নির্বাচনের ব্যপারে কথিত এইসব উন্নয়ন অংশীদারদেরকে তিনি ম্যানেজ করতে পারেননি। গত ১৫ মে প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন, বিবিসিকে দেওয়া তার সাক্ষাৎকার এবং সরকারের পদক্ষেপেই তার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। এসব তৎপরতায় সরকারের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটছে।
এদিন সরকার ও শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্যে ১৪ দফার ভিত্তিতে গণতন্ত্র মঞ্চ তাদের ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
আগামী ২৩ মে ঢাকা মহানগর দক্ষিণে পদযাত্রা করবে গণতন্ত্র মঞ্চ। ওই দিন সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে পদযাত্রা শুরু হবে। শেষ হবে পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কে। ২৮ মে ঢাকা মহানগর উত্তরের পদযাত্রা শুরু হবে সকাল সাড়ে ১০টায়। মালিবাগ রেলগেট থেকে শুরু হয়ে এই পদযাত্রা শেষ হবে বাড্ডায়। ৪ থেকে ৬ জুনের মধ্যে ঢাকা থেকে দিনাজপুর অভিমুখে রোডমার্চ করবে গণতন্ত্র মঞ্চ।