প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ ২১:৪৮ পিএম
আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ ২০:২১ পিএম
জাতীয় জাদুঘরের সামনে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সমাবেশ
সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অভিযোগ তুলে বিএনপির নিবন্ধন বাতিলের দাবিতে নির্বাচন কমিশনকে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে।
বিএনপি-জামায়াতের শাসনামলে মানবাধিকার লঙ্ঘন, খুন, গুম, ধর্ষণ, বোমা হামলা ও নির্যাতনের বিচার দাবিতে গতকাল রবিবার বিকাল ৪টায় শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে প্রতিবাদী সমাবেশের আয়োজন করে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। ‘মায়ের কান্না’ শিরোনামে তথ্যচিত্র প্রদর্শনীও করে তারা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের আগুন-সন্ত্রাস ও সম্প্রতি রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র করায় বিএনপির নিবন্ধন বাতিল করতে হবে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিবন্ধন বাতিল না করলে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে নিয়ে নির্বাচন কমিশন কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা করবেন তারা।
বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক আল মামুনের সঞ্চালনায় সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। বক্তব্য রাখেন সম্প্রীতি বাংলাদেশের সদস্য সচিব অধ্যাপক মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শাসনামলে নির্যাতনের শিকার পূর্ণিমা রানী শীল, ১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমানের হাতে নির্যাতিত সেনাপরিবারের সদস্য আশরাফুল ইসলাম, সংগঠনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন মজুমদার, আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনালের অন্যতম সাক্ষী বীর মুক্তিযোদ্ধা জহির উদ্দিন বিচ্ছু জালাল, ভাস্কর রাশাসহ অনেকে।
আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘বিগত ২০১৪ ও ২০১৮ সালে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি বিএনপি-জামায়াত সমগ্র দেশে আগুন সন্ত্রাস চালিয়ে নিরীহ মানুষকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করে বাংলাদেশকে ব্যর্থ ও অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা করেছিল। তাদের বিশেষ ট্রাইবুনালে বিচার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।’
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন বলেন, ‘বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল সম্প্রতি খালেদা ও তারেককে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আখ্যা দিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চরমভাবে অবমাননা করেছেন। মির্জা ফখরুলসহ বিএনপির নেতারা মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।’
মির্জা ফখরুলকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিএনপি থেকে মির্জা ফখরুলকে বহিষ্কার না করে বিএনপি প্রমাণ করেছে যে, তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে না।’
অধ্যাপক মামুন বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে অস্বীকার করা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে অস্বীকার করার শামিল। যেসব দল বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা হিসেবে মানবে না তারা প্রকৃতপক্ষে দেশ ও জাতির শত্রু। এরা একাত্তরের পরাজিত অপশক্তি পাকিস্তানের প্রেতাত্মা ও রাজাকার-আলবদরদের দোসর। বাংলাদেশে এদের রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই।’
জহির আহমেদ জালাল বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচনে পরাজিত হওয়ায় ২০১৪ ও ২০১৮ সালে আগুন সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছিল। বিএনপি এখন স্বাধীনতাবিরোধীদের দলে পরিণত হয়েছে। রাজাকারপুত্র মির্জা ফখরুলের বক্তব্যে তা প্রমাণিত হয়েছে। পাকিস্তানের আইএসআই গুপ্তচর জিয়া কখনোই বাংলাদেশের পক্ষে ছিলেন না। হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধা হত্যাকারী খুনি জিয়ার তৈরি বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস করার জন্য গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।’
পূর্ণিমা রানী শীল বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত জোটের শাসনামলে আমার ওপর কী ভয়াবহ নির্যাতন হয়েছিল তা পুরো দেশবাসী সে সময় দেখেছে। সে সময় আমি কোনো ন্যায়বিচার পাইনি। সেদিন আমার কান্নায় বাতাস ভারী হয়ে গিয়েছিল। মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি বিএনপি প্রতিষ্ঠিত করেছিল। এদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে।’
ভাস্কর রাশা বলেন, ‘প্রশ্ন হচ্ছে মানুষ কেন বিএনপিকে ভোট দেবে। বিএনপি কি তার কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে জনগণের সেই আস্থা অর্জন করতে পেরেছে? সাজাপ্রাপ্ত ও নেতৃত্বশূন্য এই বিএনপিকে মানুষ কেন ভোট দেবে? নির্বাচনে অংশ নিয়ে জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার চেয়ে নির্বাচনকে বিতর্কিত করার দিকেই তারা বেশি তৎপর।’
সমাবেশ থেকে চার দফা দাবি জানানো হয়েছে। দাবিগুলো হচ্ছে--বিএনপি-জামাত জোটের শাসনামলে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সারা দেশে একযোগে বোমা হামলা, অগ্নি-সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ সৃষ্টি, খুন, ধর্ষণ ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের বিশেষ ট্রাইবুনালে বিচার করতে হবে।
১৯৭৫ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধা, সামরিক কর্মকর্তা ও সৈনিককে হত্যার বিচার করতে হবে।
মানবাধিকার লঙ্ঘন করে আন্দোলনের নামে সমগ্র দেশে আগুন দিয়ে হাজার হাজার মানুষ পুড়িয়ে হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগ ওঠায় বিএনপির রাজনীতি স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধসহ তাদের নিবন্ধন বাতিল করতে হবে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে আদালতের রায় কার্যকর করতে হবে।
/এসআর