× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ফের বেপরোয়া ছাত্রলীগ, বিব্রত আওয়ামী লীগ

দীপক দেব

প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০২২ ১৩:২৪ পিএম

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২২ ১৫:১৮ পিএম

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

ফের বেপরোয়া হয়ে উঠছে ছাত্রলীগ। গত কয়েক মাসে বিতর্কিত নানা কর্মকাণ্ডের জন্য আবারও সমালোচনার মুখে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনটি। কেন্দ্র থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায়ের নেতারাও নেতিবাচক ঘটনার জন্ম দিচ্ছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইডেন কলেজে ছাত্রলীগ নেতাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে বইছে বিতর্কের ঝড়। 

এ ব্যাপারে মন্তব্য জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কয়েকজন নেতা জানান, ছাত্রলীগের এসব কর্মকাণ্ড নিয়ে কথা বলতে বিব্রতবোধ করেন তারা। কয়েকজন নেতা বললেন, ছাত্রলীগের অধিকাংশ বিতর্কিত কাজের পেছনে রয়েছে স্বার্থের দ্বন্দ্ব এবং অনুপ্রবেশকারীরা। এর ফলে ছাত্রলীগের ভাবমূর্তিই শুধু ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, বিব্রত হচ্ছে সরকার এবং আওয়ামী লীগও। তবে হঠাৎ সারা দেশে নেতিবাচক ঘটনায় বারবার ছাত্রলীগের নাম উঠে আসার পেছনে কোনো পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার বলেও মনে করেন কেউ কেউ। 

ছাত্রলীগের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয় সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কয়েকজন নেতার সঙ্গে। প্রতিদিনের বাংলাদেশকে তারা বলেন, আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডের পক্ষ থেকে সম্মেলন করার নির্দেশ আসার পর থেকেই ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একটি অংশ বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তাদের প্রশ্রয়ে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করছেন তাদের অনুগত নেতাকর্মীরাও। এ ছাড়া বিভিন্ন ইউনিটে পদপ্রত্যাশীরাও নিজেদের বলয় ও আধিপত্যের জানান দিতে নানা তৎপরতা চালাচ্ছেন। কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আওয়াজ উঠতেই তড়িঘড়ি করে জেলায় জেলায় সম্মেলনের আয়োজন করা হলেও প্রেস রিলিজের মাধ্যমে কমিটি ঘোষণা করা হচ্ছে। নানা প্রক্রিয়ায় এসব কমিটিতে বিতর্কিত ও অনুপ্রবেশকারীরা স্থান পাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। সবকিছুই চলছে ছাত্রলীগের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের প্রশ্রয়ে। 

গত শুক্রবার ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভার একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ওই অডিওতে রিভাকে অকথ্য ভাষায় সাধারণ ছাত্রীদের গালাগাল করতে শোনা গেছে। 

অডিও ভাইরাল হওয়ার পর ওই ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন রিভা। কিন্তু তার এমন আচরণ নিয়ে শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নয়, সমালোচনা শুরু হয়েছে ছাত্রলীগ এমনকি আওয়ামী লীগের মধ্যেও। ছাত্রলীগের একজন কেন্দ্রীয় সহসভাপতি জানান, ছাত্রলীগের একজন শীর্ষ নেতার আস্কারা পেয়ে বহুদিন ধরেই এমন বেপরোয়া আচরণ করে চলেছেন রিভা। এর আগে নানা ঘটনার জন্য কোনো শাস্তি না হওয়ায় তার দাপট আরও বেড়েছে। 

এর আগে বরগুনায় শোক দিবসের অনুষ্ঠান ঘিরে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের লাঠিপেটার ঘটনা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগকে। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেদিনের সংঘর্ষের প্রধান কারণ ছাত্রলীগের সদ্য ঘোষিত জেলা কমিটি নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ। স্বার্থের দ্বন্দ্বে সংঘর্ষে জড়িয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাই নিজেদের সংগঠনকে সমালোচনার মুখে ফেলেছেন। 

জেলা কমিটির নেতারাও বলছেন, সেদিনের ওই ঘটনা পরিকল্পিত। কারণ জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে পদবঞ্চিত নেতাকর্মী--যারা জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ দুই নেতার অনুসারী, তারা সম্মেলনের পর থেকেই নতুন কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছেন। তারাই পরিকল্পিতভাবে সেদিন হামলা চালিয়েছে। 

ওই ঘটনা তদন্তে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ একটি কমিটিও গঠন করেছে। সেই কমিটির সদস্য ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন বিদ্যুৎ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমরা সংগঠনের প্রত্যেক নেতাকর্মীকে সব সময় বিতর্কিত কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশ ও পরামর্শ দেই। তারপরও কিছু কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটছে। এ নিয়ে আমরা সতর্ক আছি। যারাই বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’ 

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আওয়াজ ওঠার পর সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বিভিন্ন ইউনিটে নতুন কমিটি গঠন নিয়ে বেশ তৎপর হয়ে উঠেছেন। কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, শেষ সময়ে আর্থিক সুবিধা নিয়ে কিংবা নিজেদের অনুগতদের বসিয়ে যাচাই-বাছাই ছাড়াই একের পর এক কমিটি গঠন করছেন শীর্ষ দুই নেতা। অযোগ্যদের পদায়ন করতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রে যোগ্যদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। এ নিয়ে ইউনিটে ইউনিটে জটিলতা বাড়ছে। 

বরগুনার মতো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি হয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) কমিটি নিয়েও। পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর পদবঞ্চিতদের বিক্ষোভের কারণে চবির পরীক্ষাসহ সব কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। এর ফলে পুরো ক্যাম্পাসে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে। 

এদিকে কমিটি গঠনের ছুঁতো দেখিয়ে জয়-লেখক আরও কিছুদিন পদে বহাল থাকার পাঁয়তারা চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। গত ১০ মে আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সভা শেষে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ছাত্রলীগ এবং সহযোগী কয়েকটি সংগঠনকে কেন্দ্রীয় সম্মেলন করার প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর কাদেরের সঙ্গে দেখা করেন জয় ও লেখক। বেশ কয়েকটি গুরত্বপূর্ণ ইউনিটে সম্মেলন ও কমিটি গঠন বাকি রয়েছে জানিয়ে কেন্দ্রীয় সম্মেলনের জন্য আরও কিছুদিন সময় চান তারা। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের মাধ্যমে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এ অনুরোধ জানান জয়-লেখক। 

ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক ইন্দ্রনীল দেব শর্মা রনি জানান, সারা দেশের ১১৮টি ইউনিটের মধ্যে ৫১টির সম্মেলন হয়েছে। আরও ১৭-১৮টি ইউনিটে সম্মেলনের প্রস্তুতি চলছে। শোকের মাস আগস্ট শেষ হলেই কাজ শুরু হবে।

শোকের মাস শুরুর আগে ওবায়দুল কাদের দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক করে বলেন, ১৫ আগস্ট ঘিরে কারও বিরুদ্ধে যেন চাঁদাবাজির কোনো অভিযোগ না পাওয়া যায়। এমন নির্দেশনার পরও শোকের মাসেই গত শুক্রবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মতিহার হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ভাস্কর সাহার বিরুদ্ধে উঠেছে চাঁদাবাজির অভিযোগ। এরই মধ্যে ঘটনা তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। 

এদিকে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতার বিচার দাবিতে গতকাল রবিবার রাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। 

২০১৯ সালে চাঁদাবাজির অভিযোগে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল ছাত্রলীগের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে। তাদের সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল জয়-লেখককে। 

ওই সময় ছাত্রলীগের দেখাশোনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ছাত্রলীগের সাবেক দুই শীর্ষ নেতা বর্তমানে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আবদুর রহমানকে। 

সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে মতামত জানতে চাইলে আবদুর রহমান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘ছাত্রলীগের এসব কর্মকাণ্ড নিয়ে ভালোভাবে খোঁজখবর না নিয়ে কোনো ধরনের মন্তব্য করতে পারব না। এই বিষয়ে কোনো কথা বলতে চাই না।’

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির আরেকজন নেতা বলেন, একটি বিশেষ মহল যখন দেশকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা করছে এবং যেকোনো ছুতায় আন্দোলনের সুযোগ খুঁজছে তখন ছাত্রলীগের এসব কর্মকাণ্ড আওয়ামী লীগ ও সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে ফেলছে। একটি মহল ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, সেই জায়গায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল আচরণ করা দরকার। এমন পরিস্থিতিতে কেন একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে ছাত্রলীগের নাম আসছে, তা খতিয়ে দেখা দরকার।

প্রবা/এনএস /এসআর

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা