× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

এনসিপির ছায়া বাজেট প্রকাশ: ৭১টি নীতিগত প্রস্তাব উপস্থাপন

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ৬ ঘণ্টা আগে

আপডেট : ৬ ঘণ্টা আগে

ছায়া বাজেট প্রকাশ করল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

ছায়া বাজেট প্রকাশ করল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ছায়া বাজেট প্রকাশ করেছে। 

ঢাকায় বাংলামোটরে দলের কার্যালয়ে শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ছায়া বাজেট কমিটির উদ্যোগে এই প্রস্তাবগুলো গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরা হয়। 

‘বাংলাদেশ ২.০: সংস্কার, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের মাধ্যমে টেকসই প্রবৃদ্ধি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এই বাজেট ১২ টি প্রধান খাতে বিভক্ত করে মোট ৭১ টি সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবায়নযোগ্য নীতির প্রস্তাব করেছে সংগঠনটি। 

এসময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং ছায়া বাজেট কমিটির প্রধান ও সংসদ সদস্য ড. আতিক মুজাহিদ, ছায়া বাজেট কমিটির উপ-প্রধান আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল, এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব আলাউদ্দিন মোহাম্মদ এবং জাতীয় শ্রমিক শক্তির যুগ্ম আহবায়ক সজিব ওয়াহিদ। 

অনুষ্ঠানের শুরুতে হাসনাত আব্দুল্লাহ বক্তব্য দেন। পরে আতিক মুজাহিদ এবং আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল ৭১ টি প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। প্রস্তাবে তারা রাজস্ব ও সামষ্টিক অর্থনীতি, রাজস্ব কাঠামো ও করজাল সম্প্রসারণ, কর ন্যায়বিচার ও সংস্কার, শিক্ষা ও কর্মসংস্থান, ‘স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা, পরিষ্কার জ্বালানি ও পরিবেশ, নারী, যুব ও অন্তর্ভুক্তি, সরকারি কর্মচারী ও শাসন সংস্কার, ব্যাংকিং, মূলধন বাজার ও অর্থায়ন, প্রতিরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তা এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা’ খাতে প্রস্তাবগুলো তুলে ধরেন। 

রাজস্ব ও সামষ্টিক অর্থনীতি খাতে অন্তর্ভুক্ত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে ১. সামাজিক খাতে ব্যয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়িয়েও সামষ্টিক অর্থনীতির ভারসাম্য রক্ষা করা। এনসিপির প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতি জিডিপির মাত্র ৩.০৯ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখার প্রস্তাব করেছে। 

২. মোট বাজেটের আকার হতো ৮ লাখ ৫২ হাজার ১৫৭ কোটি টাকা। এনসিপি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তুলনায় মোট ব্যয় ৬২, হাজার ১৫৭ কোটি টাকা (৭.৮৭%) বৃদ্ধির প্রস্তাব করছে। ৩. ১৩% নমিনাল প্রবৃদ্ধিতে জিডিপি প্রক্ষেপণ ৬৮ লাখ ৭০ হাজার ২৬০ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। 

দলটি ক্ষমতায় থাকলে ৯.২% মূল্যস্ফীতিকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৮%-এ নামিয়ে আনার প্রস্তাব করেছে। একইসাথে শক্তিশালী কৃষি উৎপাদন, কার্যকর সরবরাহ ব্যবস্থা, বাজার সিন্ডিকেট ভাঙা এবং একটি দায়িত্বশীল মুদ্রানীতির সমন্বয়ের মাধ্যমে ২০২৭-২৮ অর্থবছরে তা ৬%-এ স্থিতিশীল করার রূপরেখা বাস্তবায়ন করার অঙ্গীকার করছে দলটি। 

এছাড়াও, ৪. বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ব ৩২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা, ৫. রাজস্ব জিডিপির অনুপাত ৯.৩২ শতাংশে উন্নীতকরণ, ৬. সুদ ব্যয় বাজেটের ১৫.৪% থেকে ১৩% নামিয়ে আনা এবং ৭. ব্যাংকিং খাতে সরকারি ঋণ ১৪,০০০ কোটি টাকায় নামিয়ে আনার প্রস্তাব করেছে দলটি। 

রাজস্ব কাঠামো ও করজাল সম্প্রসারণ খাতের অন্তর্ভুক্ত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে ৮. ছয়টি রাজস্ব লিভারে ৭৬,০০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত আয়, ৯. রাজস্ব বাড়াতে প্রতি মাসে ৭৫ ইউনিটের বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী প্রতিটি গ্রাহকের জন্য আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা, ১০. টিআইএন-এনআইডি-এমএফএস সংযোগ করে প্রথম বছরেই ১৫,০০০ কোটি টাকা বাড়তি রাজস্ব আয়, 

১১. ‘জাতীয় ডিজিটাল সম্পদ নিবন্ধন’ চালুর মাধ্যমে প্রথম বছরেই ২০,০০০ কোটি টাকা নতুন রাজস্ব আদায়, ১২. বন্দর ডিজিটাইজেশনের মাধ্যমে দুর্নীতি নির্মূল, ১৩. অপ্রয়োজনীয় কর অব্যাহতি বাতিল, এবং ১৪. রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান (SOE) পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তিকরণ। 

কর ন্যায়বিচার ও সংস্কার খাতের অধীনে ১৫. সাধারণ করমুক্ত সীমা ৪.৫ লাখ টাকায় উন্নীতকরণ, ১৬. নারী ও প্রবীণ নাগরিকদের উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়কে স্বীকৃতি দিয়ে তাদের করমুক্ত সীমা ৪,৭৫,০০০ টাকা এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ৫,০০,০০০ টাকায় উন্নীত করা, ১৭. যাকাতকে আয়কর রিবেট হিসেবে অন্তর্ভুক্তি, 

১৮. প্রগতিশীল উত্তরাধিকার কর চালু, ১৯. কর্পোরেট কর ২৫%-এ হ্রাস, ২০. তাইওয়ানের অনুপ্রেরণায় ভ্যাট লটারি স্কিম চালু, ২১. ৮ টি নিত্যপ্রয়োজণীয় পণ্য পাঁচ বছর ভ্যাটমুক্ত করার আইনি গ্যারান্টি: ২২. মোবাইল ইন্টারনেট কর ৩০%-এ হ্রাস, ২৩. ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ ও স্টার্টআপের জন্য কর রেয়াত এবং ২৪. লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের জন্য ১০ বছরের ট্যাক্স হলিডে করার প্রস্তাব করেছে দলটি। শিক্ষা ও কর্মসংস্থান খাতের অধীনে 

২৫. শিক্ষায় ১ লাখ ২৪ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া, ২৬. শতভাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কার্যক্রম চালু, ২৭. ৫,০০০ কোটি টাকার ‘শিক্ষক গুণমান তহবিল’ গঠন, ২৮. বেসরকারি স্কুল জাতীয়করণ, ২৯. কারিগরি শিক্ষা নথিভুক্তি ৩০%-এ উন্নীতকরণ, 

৩০. ৫০০ কোটি টাকার সরকার-সমর্থিত স্টার্টআপ গ্যারান্টি তহবিল গঠন, ৩১. পাঁচ বছরে ১ কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ৩২. তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বৈষম্যমূলক শর্ত বাতিল করার প্রস্তাব করা হয়েছে। 

স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে ৩৩. স্বাস্থ্য বাজেট ২৫% বৃদ্ধি ও জাতীয় স্বাস্থ্য বিমা চালু, ৩৪. নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি, ডায়ালাইসিস, অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি ও বাইপাস সার্জারিতে ৭০% পর্যন্ত সরাসরি ভর্তুকি নিশ্চিত করতে বিশেষ তহবিল গঠন, 

৩৫. দুটি আন্তর্জাতিক মানের সুপার-স্পেশালিটি হাসপাতাল নির্মাণ, ৩৬. দেশব্যাপী ৫০০ নতুন জিপিএস-ট্র্যাকড অ্যাম্বুলেন্স ও প্রশিক্ষিত প্যারামেডিকসহ একটি আধুনিক প্রি-হাসপাতাল জরুরি ব্যবস্থা গড়া, ৩৭. টিসিবি স্মার্ট কার্ডের আধুনিকায়ন, ৩৮. প্রতিবন্ধী ভাতা প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি, ৩৯. জুলাই ২০২৪ অত্যুত্থানের বীরদের জন্য বিশেষ রাষ্ট্রীয় ভাতা, ৪০. চলমান ১৪০টির বেশি ছড়ানো-ছিটানো সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি একীভূতকরণের প্রস্তাব করা হয়েছে। 

কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা খাতে ৪১. আধুনিক শস্য বিক্রয় কেন্দ্র ও মধ্যস্বত্বভোগীদের অবসান, ৪২. কৃষকদের আয় বৃদ্ধি ও সংরক্ষণ, ৪৩. সরাসরি কৃষকের অ্যাকাউন্টে সার ভর্তুকি, ৪৪. খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচি অক্ষুণ্ণ রাখা, ৪৫. ৫০০ কোটি টাকার ব্লু ইকোনমি কর্মসূচির প্রস্তাব করা হয়েছে।  

পরিষ্কার জ্বালানি ও পরিবেশ খাতে ৪৬. ‘সোলার এনার্জি সভাবেন্টি অ্যাক্ট’ প্রণয়ন করা হতো, যার অধীনে প্রতিটি সৌর পণ্য-প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারি, পাম্প ও স্ট্রিট লাইটে আগামী পাঁচ বছর ০% মোট কর নিশ্চিত করা হতো। এই আইন দুই-তৃতীয়াংশ সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছাড়া কোনো সরকার বাতিল করতে পারত না। 

৪৭. ৬,০০০ কোটি টাকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি কর্মসূচি গ্রহণ, ৪৮. শক্তি-সাশ্রয়ী টিভি, ফ্রিজ, এসি, ওভেন, এয়ার ফ্রায়ার, ব্লেন্ডার, ইনডাকশন কুকার, ওয়াটার হিটার, লাইট ও ফ্যান উৎপাদনে কর হ্রাসসহ উৎসাহ দেওয়া যেখানে ৩০% কম বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী পণ্যকে এনার্জি এফিসিয়েন্ট হিসেবে গণ্য করা হবে, ৪৯. পরিবেশবান্ধব ইভি (EV) কর কাঠামো, 

৫০. ২০ লাখ ই-রিকশা লিথিয়াম ব্যাটারিতে রূপান্তর, ৫১. অচল সোলার স্ট্রিট লাইট পুনরুজ্জীবিতকরণ এবং ৫২. ওয়াশ বাজেট ৩৭.৬% বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে দলটি।  নারী, যুব ও অন্তর্ভুক্তি খাতে 

৫৩. বৈতনিক মাতৃত্বকালীন ও পিতৃত্বকালীন ছুটি নিশ্চিতকরণ, ৫৪. ৫,০০০ কোটি টাকার নারী উদ্যোক্তা তহবিল গঠন, যার অধীনে নারীরা ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সম্পূর্ণ জামানতমুক্ত ঋণ পেতেন, ৫৫. স্যানিটারি ন্যাপকিনে সকল ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক মওকুফ এবং ৫৬. ‘অবেঞ্জ বন্ড’ চালুকরণ, ৫৭. ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও পুরোহিতদের সামাজিক অবদানকে স্বীকৃতি দিয়ে জাতীয় বেতন স্কেলের গ্রেড ১৬-তে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। (কুষ্টিয়া, আমলা): সরকারি কর্মচারী ও শাসন সংস্কার খাতে ৫৮. সরকারি বেতন সংশোধন,

৫৯. তিন বছর পরপর স্বয়ংক্রিয় বেতন স্কেল পর্যালোচনা আইন, ৬০. স্বাধীন পদোন্নতি কমিশন গঠন এবং ৬১. মেধাভিত্তিক নিয়োগ ও এআই-চালিত দক্ষতা ব্যবহারের কথা বলছে এনসিপি। 

ব্যাংকিং, মূলধন বাজার ও অর্থায়ন খাতে প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে ৬২. কঠোর ‘স্বেচ্ছাকৃত খেলাপি আইন’ প্রণয়ন করা, যার অধীনে ৫০ লাখ টাকার বেশি ঋণখেলাপিদের একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেইসে রাখা হতো যারা কোনো কোম্পানির পরিচালক হতে পারতেন না, নির্বাচনে দাঁড়াতে পারতেন না, তাদের পাসপোর্ট নবায়ন হতো না এবং তারা সকল সরকারি চুক্তি ও ভর্তুকি থেকে আজীবন বঞ্চিত হতেন,

৬৩. রাষ্ট্রীয় 'ব্যাড ব্যাংক' (সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি) গঠন: ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণের সংকট দূর করতে ৫,০০০ কোটি টাকার প্রাথমিক মূলধনে একটি রাষ্ট্রীয় ‘ব্যাড ব্যাংক’ গঠন করা হতো, যা ব্যাংকগুলোর খারাপ অনাদায়ী ঋণ ছাড়কৃত বাজারমূল্যে নিয়ে ব্যাংকিং খাতকে সচল করত, ৬৪. ব্যাংকের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা  প্রকাশ, ৬৫. মূলধন বাজার-জিডিপি লক্ষ্যমাত্রা ৪০% এবং লেনদেন খরচ মওকুফ এবং ৬৬. সার্বভৌম ওয়াকফ সুকুক ও গ্রিন বন্ড চালু। 

প্রতিরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তা খাতের প্রস্তাবগুলোর মধ্যে ৬৭. প্রতিরক্ষা বাজেট ৫,৭৭৫ কোটি টাকা বৃদ্ধি: ৬৮. দেশীয় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি ইকোসিস্টেম তৈরির কথা বলেছে দলটি। সর্বশেষ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা খাতে ৬৯. ‘হিসাব দাও পোর্টাল’ চালুকরণ, ৭০. গোপন সম্পদ কর (অলিগার্কদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা) চালু, ৭১. সম্পূর্ণ স্বাধীন বাজেট অফিস প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করেছে দলটি। 

প্রস্তাবগুলো তুলে ধরার আগে বক্তব্যে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, বর্তমান সরকার উত্তরাধিকারসূত্রে আওয়ামী লীগের রেখে যাওয়া একটি সংকটাপন্ন অর্থনীতি সরকার হাতে পেয়েছে। যেখানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৩০ শতাংশের বেশি। প্রতিবছর ১২ বিলিয়ন ডলারের বেশি জ্বালানি আমদানি করতে হয়, যা দেড় লক্ষ কোটি টাকারও বেশি। 

অপব্যবহারমূলক ক্যাপাসিটি চার্জের বোঝা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে বহন করতে হয়। আওয়ামীলীগের সময়ে পরিসংখ্যানকে বিকৃত করে জনগণের কাছে অর্থনীতির প্রকৃত চিত্র লুকানো হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকার কিছু পদক্ষেপ নিয়েছিল। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি প্রচলন করেছিল, ডলারের দাম নিয়ন্ত্রণের জন্য বাজারভিত্তিক বিনিময় হার চালু করেছিল এবং অ্যাসেট কোয়ালিটি রিভিউ চালু করেছিল। 

ব্যাংকগুলতে জবাবদিহিতা নিশ্চিতে ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ ২০২৫ করা হয়েছিল, যা বিএনপি সরকার ডিস্টর্ট করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে অবকাঠামোগত উন্নয়নের তুলনায় মানবসম্পদ উন্নয়নকে প্রধান নিয়ামক ধরে চেষ্টা করা হয়। 

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার অর্থনৈতিক প্রশস্তির একটি স্বরূপ জনগণের সামনে উপস্থাপন করেছে, বিএনপি সরকার তা থেকে দূরে সরে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর যেভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তাতে যারা অর্থনীতি নিয়ে খোঁজ রাখেন, তাদের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। 

সাম্প্রতিক ইসলামী ব্যাংকের যে বিষয়গুলো আমাদের নজরে পড়ছে, সেটিও অর্থনীতির জন্য স্বস্তিদায়ক নয়। আমাদের কর-জিডিপি অনুপাত এখনো এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিম্নতম পর্যায়ে; মাত্র ৬.৭%। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামো ২০১৫ সালের পর আর পুনর্বিবেচনা করা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, ১ কোটি ৪০ লাখ স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডধারীর কথা বলেও এই অর্থসংস্থান কীভাবে হবে? এই টাকা কী অন্য সেফটি নেটের প্রোগ্রাম থেকে কাটা হবে? নাহলে এই কোটি টাকার সংস্থান কীভাবে হবে? এই প্রশ্নগুলো সামনে আসছে। জ্বালানি স্বনির্ভর হওয়ার রূপরেখা আমরা পাব, নাকি আমদানিনির্ভর থাকবে? বাজেটে কর্মসংস্থানের কী ধরনের বিনিয়োগ রয়েছে? শিক্ষা খাতে কি ধরণের বিনিয়োগ রয়েছে? স্বাস্থ্য খাতকে কতটা প্রায়োরিটি দেওয়া হয়েছে? এই প্রশ্নগুলো আসছে।

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, আমরা অঙ্গীকার করছি, একটি সমতাভিত্তিক অর্থনীতি আমরা নিশ্চিত করব যেটি হবে বৈষম্যহীন। একইসাথে রাষ্ট্রের সাথে জনগণের যে অঙ্গীকারের সম্পর্ক, তা আমরা নিশ্চিত করব। দায় ও দরদের মাধ্যমে ভোক্তাদের স্বার্থ যেমন আমরা সংরক্ষণের অঙ্গীকার করছি, একইসাথে উৎপাদকের স্বার্থও সংরক্ষণ করার জন্য আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। 

তিনি বলেন, ‘যারা ট্যাক্স দেয়, তাদেরকে আমরা উৎসাহিত করব। অন্যদিকে এই টাকায় রাষ্ট্রের বিভিন্ন পরিষেবা যেন জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে যায়, সেটিও আমরা নজরদারিতে রাখব। আমরা শুধু পরিসংখ্যান নির্ভর নামসর্বস্ব কোনো বাজেট দেখতে চাই না।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা