রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাসডুবির পর সেখানে ভিড় জমান উৎসুক জনতা ও যাত্রীরা। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া সাত নম্বর ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফের পদ্মায় বাসডুবির ঘটনা ঘটেছে।
তবে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনায় আগে থেকেই বাসের সব যাত্রীকে নামিয়ে দেয়ায় বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে।
এ সময় বাসে থাকা চালক ও হেলপার ডুবে যায়। তবে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী একটি বাস দৌলতদিয়া ৭নং ফেরিঘাট পন্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মায় পড়ে যায়।
তবে তার ধারণা বাসের যাত্রীদের আগেই নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
এ বিষয়ে একই কথা বলেন বাসটির এক নারী যাত্রী।
তিনি বলেন, আমি কুষ্টিয়া থেকে বাসে উঠেছি। গাড়ি ভরা যাত্রী ছিল, তবে ফেরীতে ওঠার আগেই বাস থেকে সব যাত্রীকে নামিয়ে দেয়া হয়।
আমিই সবার শেষে বাস থেকে নেমেছি। বাসে শুধু হেলপার আর ড্রাইভার ছিল বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে কথা হয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে।
তারা বলেন, বাসটি ৭ নম্বর ঘাটে থাকা ‘কবরী’ নামের ফেরির কনভেনশন পকেট দিয়ে প্রবেশ করছিল।
এ সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসের ধাক্কায় ফেরির বিপরীত পাশের র্যাম্প ভেঙে যায় এবং বাসটি সরাসরি নদীতে পড়ে ডুবে যায় বলেও জানান তারা।
তারা আরও জানান, দুর্ঘটনার পরপরই ডুবে যাওয়া বাসটি উদ্ধারে কাজ শুরু করেছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ডুবুরিরা।
বাসটি নদী থেকে টেনে তুলতে এরই মধ্যে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে বলেও জানান তারা।
পুরো উদ্ধার কার্যক্রম সরাসরি তদারকি করছেন বিআইডব্লিউটিএ-এর মেম্বার (ইঞ্জিনিয়ারিং), যিনি বর্তমানে দৌলতদিয়ায় অবস্থান করছেন।
এর আগে ২৫ মার্চ দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ৩ নম্বর পল্টুন থেকে কুষ্টিয়ার কুমারখালি থেকে ঢাকাগামী যাত্রীবাহী ‘সৌহার্দ্য পরিবহনে’র একটি বাস ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়।
ওই ঘটনায় মোট ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।