প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ৩০ মে ২০২৬ ২৩:৪৮ পিএম
আপডেট : ৩০ মে ২০২৬ ২৩:৫৬ পিএম
কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়া ও কুমিল্লা–৪ আসনের (দেবীদ্বার) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। কোলাজ: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়া দাবি করেছেন, জেলা পরিষদের রাজস্ব খাত থেকে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ১৫ কোটি টাকা এবং এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা–৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ১০ কোটি টাকা নিয়েছেন।
কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমি প্রাঙ্গণে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার বিকালে আয়োজিত মিলাদ ও আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন।
গণমাধ্যমে এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে হাসনাত আবদুল্লাহ নিজ ফেইসবুক পেইজে পোস্ট করে তার প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি দাবি করেন, তথ্য বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা পুরোপুরি সত্য নয় এবং এটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য।
হাসনাত তার পোস্টে লিখেন, ‘কুমিল্লার প্রশাসক বিএনপির একটি দলীয় অনুষ্ঠানে গিয়ে বললেন, হাসনাত-আসিফ জেলা পরিষদের নিজস্ব রাজস্ব খাত থেকে ২৫ কোটি টাকা নিয়ে গেছে। এর মধ্যে আমি নাকি ১০ কোটি টাকা নিয়েছি। বক্তব্যটি শুনলে মনে হবে, টাকাটা আমরা নিজেরা পকেটস্থ করেছি’।
ঘটনার পর প্রশাসক মোস্তাকের সঙ্গে হাসনাতের
ফোনালাপ হয়, যার কল রেকর্ড ফেসবুকে পোস্ট করেন তিনি।
পোস্টে লিখেন, ‘বক্তব্য পরিবর্তন করে প্রশাসক মোস্তাক বললেন, ব্যক্তি নয় এলাকার উন্নয়নে টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মিডিয়ায় হয়তো পুরো বক্তব্য আসে নাই’।
পোস্টে হাসনাত এ ঘটনাকে মিথ্যাচার উল্লেখ করে লিখেন, ‘তার
( প্রশাসক মোস্তাক) বক্তব্যে অন্তত দুটি অসত্য তথ্য রয়েছে।
এই বরাদ্দ জেলা পরিষদের রাজস্ব খাত থেকে দেওয়া হয়নি। অন্যান্য উপজেলার মতো দেবিদ্বারেও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগের এডিপি প্রকল্পের মাধ্যমে, যা জেলা পরিষদের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে। দেবিদ্বারের জন্য বরাদ্দ ছিল ৫ কোটি টাকা। জেলা পরিষদের রাজস্ব খাতের সঙ্গে এর কোনো সম্পৃক্ততাই নেই। সুতরাং এটিকে রাজস্ব খাতের অর্থ বলে দাবি করা স্পষ্ট মিথ্যাচার।’
তিনি আরও লিখেন, ‘তিনি বলেছেন টাকা আমরা নিয়েছি। অথচ এই অর্থ মোট ৪২টি প্রকল্পে ব্যয় করা হয়েছে। ব্যক্তি হিসেবে আমাদের সঙ্গে এই অর্থের কোনো সম্পর্কই নেই। জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বিভিন্ন খাতে এই অর্থ ব্যয় করা হয়েছে’।
ফেসবুক পোস্টে ফোনালাপের রেকর্ড সংযুক্ত
করে
হাসনাত
লিখেন,
‘বিষয়টি নিয়ে তাকে ফোন করে জানতে চাইলে প্রশাসক জানান, অর্থটি উন্নয়ন কাজের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, হয়তো সাংবাদিক তার বক্তব্য পুরোপুরি প্রকাশ করেননি।
‘রাজস্ব বরাদ্দ ও এডিপি বরাদ্দের পার্থক্য না বুঝে একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য দিলেন। আর এ দেশে মিথ্যাকে প্রতিষ্ঠিত করা খুবই সহজ’।
এতে আরও বলা হয়, ‘জেলা পরিষদ থেকে উপজেলার জন্য বরাদ্দ দেওয়া কোনো অস্বাভাবিক বিষয় নয়। প্রতি বছরই বাজেটের আওতায় এ ধরনের বরাদ্দ দেওয়া হয়। দেবিদ্বার উপজেলার জন্য দেওয়া বরাদ্দও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ব্যয় হয়েছে। সেই ব্যয়ের প্রতিটি টাকার হিসাব সরকারি নথিতে সংরক্ষিত রয়েছে’।