প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ মে ২০২৬ ১৮:২১ পিএম
আপডেট : ২৫ মে ২০২৬ ২০:৫১ পিএম
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহাদী আমিন। ছবি: ভিডিও থেকে
জুলাই সনদকে বাস্তবায়নের জন্য সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহাদী আমিন।
সরকারের ‘১০০ দিন পূর্তি’ উপলক্ষে মঙ্গলবার এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার এস এ এম মাহফুজুর রহমান, উপ প্রেস সচিব-১ জাহিদুল ইসলাম রনিসহ প্রেস টিমের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মাহাদী আমিন বলেন, “যতটুকু সমঝোতার ভিত্তিতে হয়েছিল এবং সেই জুলাই সনদে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ সহ বিএনপি সম্মত হয়ে যেভাবে স্বাক্ষর করেছিল, সেই স্বাক্ষরিত জুলাই সনদকে আমরা বাস্তবায়নের জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। দেশের মানুষের কাছে বিএনপি যে অঙ্গীকার করেছে এবং যে প্রতিশ্রুতির আলোকে জনগণ ধানের শীষে ভোট দিয়েছে, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে শুরু করে সবাই তা অক্ষরে-অক্ষরে পালনের জন্য দায়বদ্ধ”।
“একই সঙ্গে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বীরদের আত্মত্যাগকে চিরস্মরণীয় রাখতে এবং তাদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জাতীয় সংসদে ‘জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি আইন’ পাস করা হয়েছে”- যোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, “অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকারের গৃহীত ইতিবাচক পদক্ষেপগুলো ইতোমধ্যেই ফল দিতে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে মূল্যস্ফীতি কমে ৮.৭১ শতাংশে নেমে এসেছে। জ্বালানি ও ভোজ্য তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়েছে”।
উপদেষ্টা বলেন, “দেশের আকাশসীমা, ভূখণ্ড ও সমুদ্রসীমার সার্বিক সার্বভৌমত্ব রক্ষায় গণতান্ত্রিক সরকার দৃঢ়, আপোশহীন ও সাহসী অবস্থান গ্রহণ করেছে। অত্যাধুনিক ‘গ্রাউন্ড মাস্টার-৪০০’ রাডার এখন ঢাকা থেকে ৬৫০ কিলোমিটার এবং বঙ্গোপসাগরে ৮৩৩ কিলোমিটার পর্যন্ত আকাশসীমা অতন্দ্র প্রহরীর মতো দিনরাত নজরদারিতে রাখছে। এর মাধ্যমে গভীর সমুদ্রসীমার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ‘ফ্লাইং ওভার চার্জ’ থেকে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আহরণের সুযোগ তৈরি হয়েছে”।
দেশের সার্বভৌমত্ব সমুন্নত রাখা এবং সীমান্ত সুরক্ষায় ড্রোন, অ্যান্টি-ড্রোন ও মাইন ডিটেক্টর স্থাপনের মতো আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সিদ্ধান্ত গৃহীত হচ্ছে। সীমান্তে বিজিবির শক্ত ও সার্বভৌম অবস্থান ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিরই বাস্তব প্রতিফলন—উল্লেখ করেন মাহদী আমিন।
মাহাদী আমিন বলেন, “দেশের বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি আনতে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত ইকোনমিক করিডোর বাস্তবায়নের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। আগামী ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে উদ্বোধনের লক্ষ্য নিয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের কাজ”।
তিনি বলেন, “বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য ব্যাংক গ্যারান্টি সুবিধা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। বিমানবন্দর ও ট্রেনে হাই-স্পিড ফ্রি ওয়াই-ফাই চালুর মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। তরুণদের ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশে নতুন করে স্পোর্টস ও নতুন কুঁড়ি কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে সরকার দ্রুত ও মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে”।
দেশে হাম পরিস্থিতি প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “হামের টিকা এনে প্রায় শতভাগ শিশুকে টিকাদানের আওতায় আনা হয়েছে”।
মাহাদী আমিন বলেন, “মাতৃত্বকালীন ছুটি উন্নীত করা হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতে পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিতের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে”।
সরকার গঠনের পর এত স্বল্প সময়ে মন্ত্রিসভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর উল্লেখযোগ্য অংশ কার্যকর করতে সক্ষম হওয়া সরকারের দ্রুততা, কার্যকারিতা ও আন্তরিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মন্ত্রিসভা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের মন্ত্রিসভা ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে চলতি মাসের ২৪ মে পর্যন্ত মোট ১০টি কেবিনেট সভা সম্পন্ন করেছে। এসব সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ৬০টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। তারমধ্যে ৩৭টি সিদ্ধান্ত অর্থাৎ প্রায় ৬২ শতাংশ এরই মধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে এবং অবশিষ্ট ২৩টি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় রয়েছে”।
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সরকার বিশেষ ট্রেন সার্ভিস ও বিশেষ নৌ-সার্ভিস চালু করেছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেছেন, “ট্রেনে নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমণ নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আলাদা কম্পার্টমেন্টের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে”।