মধ্যাঞ্চলীয় অফিস
প্রকাশ : ১৩ মে ২০২৬ ২১:১২ পিএম
গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার লিটন। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
কিশোরগঞ্জের নিকলীতে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় স্থানীয় বিএনপির এক কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নিকলী বাজার এলাকা থেকে বুধবার শুরুর সময়ে জাহিদ হাসান লিটনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
লিটনের বাড়ি নিকলী সদর ইউনিয়নের কামারহাটি এলাকায়, যিনি উপজেলা বিএনপির সক্রিয় কর্মী বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। আসামি নিকলী বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হেলিম তালুকদারের ফুফাতো ভাইয়ের ছেলে বলেও জানিয়েছেন তারা।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি বুধবার বিকেলে নিশ্চিত করেন নিকলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবুর রহমান।
তার ভাষ্য, থানায় গৃহবধূর অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়। রাতেই গ্রেপ্তার করা হয় অভিযুক্ত লিটনকে।
যা আছে মামলার এজাহারে
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ধর্ষণের মামলার বাদী ও আসামি একই এলাকার বাসিন্দা। কাজের প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে থাকেন বাদীর স্বামী। সংসারের অভাবের কারণে ওই নারী ছোটখাটো কাজ খুঁজতেন। এর সুযোগ নিয়ে বাদীকে কাজের আশ্বাস ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন আসামি।
এজাহারে বলা হয়, মঙ্গলবার কারপাশা ইউনিয়নে আসামি তার ফুফাত বোনের বাড়ির বসতঘরে গৃহবধূকে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনায় গৃহবধূ একই দিনে নিকলী থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ সেটিকে নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড করে। বুধবার শুরুর সময়ে অভিযান চালিয়ে লিটনকে গ্রেপ্তার করে বাহিনীটি।
স্থানীয় বিএনপি ও পুলিশের ভাষ্য
লিটনকে গ্রেপ্তারের সময় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হেলিম তালুকদার ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করছেন কেউ কেউ। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, তবে গ্রেপ্তারকালে উপস্থিত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে হেলিম দাবি করেন, লিটন তার দূরসম্পর্কের আত্মীয়।
নিকলীর রাজনীতিতে লিটনের অবস্থান নিয়ে জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির সভাপতি বদরুল মোমেন মিঠু বলেন, “জাহিদ হাসান লিটন উপজেলা বা ওয়ার্ড কমিটির কোনো সদস্য নয়, তবে কর্মী হিসেবে দলীয় কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন”।
যে ভিডিওকে লিটন গ্রেপ্তারের সময় হেলিমের উপস্থিত থাকার প্রমাণ হিসেবে অনেকে দাবি করেছেন, সেটি দেখেছেন বলেও জানান মিঠু।