ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ১১:২০ এএম
ভোট দিতে না পারার আক্ষেপে ‘১৭ বছর পর ভাত খেলেন’ ইনু মিয়া। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার রামদী ইউনিয়নের জগতচর গ্রামের বাসিন্দা ইনু মিয়া (৭৯) বিএনপি ক্ষমতায় না আসা পর্যন্ত ভাত না খাওয়ার প্রতিজ্ঞা করে ১৭ বছর পার করেছেন।পরিবার ও আত্মীয়স্বজন বহুবার চেষ্টা করেও তাকে ভাত খাওয়াতে পারেননি।
স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বললে তারা জানায়, তিনি একজন দিনমজুর ছিলেন এবং তার সংসার অত্যন্ত কষ্টে চলত। তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে গিয়ে তিনি হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ রয়েছে। সে সময় তাকে কেন্দ্র থেকে টেনে বের করে মারধর করা হয় বলে জানান স্থানীয় বিএনপি নেতারা।
ঘটনার পর তিনি প্রতিজ্ঞা করেন, বিএনপি ক্ষমতায় না আসা পর্যন্ত তিনি ভাত খাবেন না। এরপর দীর্ঘ ১৭ বছর তিনি শুধু পুরি, সিঙারা, ফলমূলসহ অন্যান্য খাবার খেয়ে জীবনযাপন করেন।
এলাকার মানুষের দাবি, তিনি প্রতিজ্ঞায় ছিলেন অনড় এবং কোনোভাবেই ভাত গ্রহণ করেননি।
উৎসবমুখর পরিবেশে ভাত খেলেন ইনু মিয়া
অবশেষে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ভৈরব-কুলিয়ারচর আসনের সংসদ সদস্য ও পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম তার সামনে বসিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ভাত খাওয়ান ইনু মিয়াকে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং পরিবার ও এলাকাবাসী আনন্দ প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে রামদী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আক্রাম খান বলেন, এটি একটি বিরল ঘটনা, যেখানে একজন মানুষ একটি দলকে ভালোবেসে ১৭ বছর ভাত না খেয়ে ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনে ইনু মিয়া ও তারা ভোট দিতে গেলে তাকে মারধর করে আহত করা হয়েছিল। তারপর থেকেই তিনি এই প্রতিজ্ঞা করেন বলে জানান তিনি।
ইনু মিয়ার মেয়ে মার্জিয়া বেগম বলেন, তার বাবা বিএনপির সমর্থক হওয়ায় ১৭ বছর আগে মারধরের শিকার হন। এরপর বহুবার চেষ্টা করেও তার বাবাকে ভাত খাওয়াতে পারেননি, শুধু প্রতিজ্ঞার কথাই বলতেন।
তিনি আরও বলেন, এখন বাবা ভাত খাওয়ায় পরিবার খুব খুশি।
প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম বলেন, নির্বাচনের আগে তিনি ইনু মিয়াকে ভাত খাওয়ানোর চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তিনি রাজি হননি। বিএনপি ক্ষমতায় এলে এবং তিনি (শরীফুল আলম) নির্বাচিত হলে তবেই ভাত খাবেন বলে জানিয়েছিলেন।
তিনি আরও বলেন, এখন সেই প্রতিজ্ঞা পূরণ হয়েছে এবং তিনি তাকে ভাত খাওয়াতে পেরে আনন্দিত।
তিনি ইনু মিয়ার মতো মানুষদের বিএনপির শক্তি ও সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।