শৈলকূপা (ঝিনাইদহ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬ ১১:০০ এএম
সীমা খাতুনের পরিবারের অভিযোগ, নির্যাতনের কারণে এর আগেও তার গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে যায়। প্রতীকী ছবি
ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের শিকার হয়ে সীমা খাতুন (১৮) নামে এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হাসপাতালে নেওয়ার পথে বুধবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
নিহত সীমা খাতুন প্রায় পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। তিনি উপজেলার ফারুক হোসেনের মেয়ে।
স্থানীয় কয়জন জানান, প্রায় দেড় বছর আগে কুষ্টিয়ার কুমারখালি উপজেলার নয়ন মন্ডলের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী বিভিন্ন সময় যৌতুকের দাবিতে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন।
সীমা খাতুনের পরিবারের অভিযোগ, নির্যাতনের কারণে এর আগেও তার গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে যায়। তবুও নির্যাতন বন্ধ হয়নি।
তারা জানান, সীমা খাতুন একাধিকবার বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে স্বামীকে দিলেও তার ওপর নির্যাতন চলতেই থাকে।
সর্বশেষ গত ২ এপ্রিল স্বামী ফোনে এক লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে না পারলে বিষপান করতে বলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এর পরই সীমা খাতুন `বিষপান করেন’। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে প্রথমে শৈলকূপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
পরে অবস্থার অবনতি হলে কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের ভাই পলাশ জানান, তার বোনের স্বামীর অন্য একটি মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। এ নিয়ে প্রায়ই তাকে মারধর করা হতো এবং যৌতুকের জন্য চাপ দেওয়া হতো।
নিহতের বাবা ফারুক হোসেন বলেন, তার মেয়ে নম্র-ভদ্র ছিল, কিন্তু জামাই সবসময় টাকার জন্য চাপ দিত। টাকা দিতে না পারায় তাকে বিষপান করতে বলা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে শৈলকূপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির জানান, একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে, তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।