খুলনা অফিস
প্রকাশ : ২৭ মার্চ ২০২৬ ১৬:৩৭ পিএম
খুলনা নগরীর আল ফারুক সোসাইটি মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামীর খুলনা অঞ্চলের উপজেলা ও থানা আমীর-সেক্রেটারিদের নিয়ে আয়োজিত শিক্ষা শিবিরে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
জুলাই সনদ কী সাধারণ মানুষও বোঝে, কিন্তু বিএনপি বুঝতে চায় না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে।
খুলনা নগরীর আল ফারুক সোসাইটি মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামীর খুলনা অঞ্চলের উপজেলা ও থানা আমীর-সেক্রেটারিদের নিয়ে আয়োজিত শিক্ষা শিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “নতুন করে কোনো রাজনৈতিক সংকট তৈরি না করে জনগণের অভিপ্রায় বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিতে হবে”। গত ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করুন, আমরা বিরোধী দল হিসেবে পাশে থাকব”।
তিনি মনে করেন, জাতীয় সংসদে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পথ তৈরি করা সম্ভব। অন্যথায় জনগণকে আবারও রাজপথে নামতে বাধ্য করা হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সংবিধানের মূল চেতনায় জনগণের ইচ্ছাই সর্বোচ্চ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “দেশের অধিকাংশ মানুষ জুলাই সনদ এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাই এটি উপেক্ষা করা হলে তা জনগণের মতামতের পরিপন্থি হবে”।
বিএনপির সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, “দলটি আওয়ামী লীগের মতোই জনরায়কে ভয় পায়”। স্থানীয় সরকার নির্বাচন না দিয়ে দলীয় লোকজনকে বসানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে এবং জনরায়কে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তবে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলার স্বার্থে তাদের দল ফলাফল মেনে নিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, “নির্বাচনে অস্বাভাবিক প্রভাব খাটানো হয়েছে এবং বিষয়টি আল্লাহর ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে”। পাশাপাশি অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অবস্থান অব্যাহত থাকবে বলে জানান।
অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, অধ্যক্ষ মাওলানা মশিউর রহমান খান ও মাস্টার শফিকুল আলম। দারসুল কুরআন পেশ করেন মুহাদ্দিস রবিউল বাশার।