ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০২৬ ২২:১৯ পিএম
জুলাই গণহত্যার আসামী ও শহীদ ওসমান হাদীর খুনিদের ভারত থেকে ফিরিয়ে এনে বিচারের দাবিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ছাত্রশক্তি আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি। একই সঙ্গে তাদের সব কার্যক্রম রুখে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।
শেখ হাসিনাসহ জুলাই গণহত্যার আসামী ও শহীদ ওসমান হাদীর খুনিদের ভারত থেকে ফিরিয়ে এনে বিচারের দাবিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ছাত্রশক্তি আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলে এসব ঘোষণা দেওয়া হয়।
বিক্ষোভে ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের “শিক্ষা-সন্ত্রাস, একসাথে চলে না, ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা, হুশিয়ার সাবধান, মুজিববাদের আস্তানা-ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও, দিল্লির আগ্রাসন-রুখে দাও জনগণ, জাস্টিস জাস্টিস-জাস্টিস ফর হাদী, তুমি কে, আমি কে-হাদী হাদী, লীগ ধর–জেলে ভর, হামলা-মামলা হুলিয়া, দিতে হবে তুলিয়া, লীগ পাবো যেখানে, জেলে দেবো সেখানে” ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।
বিক্ষোভ সমাবেশে ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি জাহিদ আহসান বলেন, “আওয়ামী সন্ত্রাসীরা এখনো ভারতে বসে নানা ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। ভারত যদি প্রকৃতপক্ষে বন্ধু রাষ্ট্রের মতো আচরণ করতো, তাহলে খুনী হাসিনাকে প্রথম দিনই ফেরত দিতো। পুরো দুনিয়া যখন এই রক্তমাখা হাসিনাকে গ্রহণ করতে চায়নি, তখন এই ভারত তাকে গ্রহণ করেছিলো।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দেখেছি বনগ্রাম সীমান্ত থেকে শহিদ ওসমান হাদীর খুনীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই–আপনারা অনতিবিলম্বে হাদীর খুনীকে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করুন। একইসাথে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করুন।’
জাহিদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের রাজনীতিতে গন কেইস। তারা আর কোনদিন এদেশের রাজনীতিতে ফিরতে পারবে না। যারা ছাত্রলীগের নামে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাবে তাদের সবাইকে রুখে দিতে হবে।’
ছাত্রশক্তির ঢাবি শাখার সভাপতি তাহমিদ আল মুদ্দাসসির চৌধুরী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যতবার ছাত্রলীগ মাঠে নেমেছে, ছাত্রশক্তি তাদের রুখে দিয়েছে। এজন্য সফট লীগাররা ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের ইমেজকে কলুষিত করতে উঠেপড়ে লেগেছে।
তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগ কর্মীকে গ্রেফতারের ঘটনায় আমরা ছাত্রদলের মায়াকান্না দেখতে পেয়েছি। ছাত্রদল যদি এই ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগকে পুনর্বাসনের চিন্তা করে, তাহলে তাদেরও একই পরিণতি ভোগ করতে হবে।’
ছাত্রশক্তির এই নেতা বলেন, ‘আমাদের মাঝেমধ্যে মনে হয়–আমরা থেমে যাই। ছাত্রলীগ আবার ফেরত এসে আপনাদের যেভাবে পিটিয়েছে যেভাবে পিটাক। কিন্তু আমরা আমাদের নৈতিকতার জন্য তা পারি না।
যদি আওয়ামী লীগ ফেরত আসে আপনারা কেউই রাজনীতি করতে পারবেন না। ক্যাম্পাসগুলো সন্ত্রাসের আখড়া হবে, দেশের নানা প্রান্তে গডফাদারদের উত্থান হবে।’
ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদারের সঞ্চালনায় বিক্ষোভ সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনটির ঢাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক আল-আমিন সরকার, মিতু আক্তার প্রমুখ।