প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ মার্চ ২০২৬ ২৩:৪৮ পিএম
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরিকল্পিতভাবে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। শনিবার পুরানা পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের নিয়মিত বৈঠকে বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেন তিনি।
মামুনুল হক বলেন, যেসব অভিযোগ ও তথ্য সামনে আসছেÑ তা প্রমাণ করে এই নির্বাচন ছিল ইঞ্জিনিয়ারিং করা একটি নির্বাচন। নির্বাচন-পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ইসলামী দলগুলোকে ইঙ্গিত করে গণমাধ্যমে স্বীকার করেছেন যে, তারা এ ধরনের কোনো দলকে মূলধারায় আসতে দেননি। এই বক্তব্য কার্যত নির্বাচনকে প্রভাবিত করার একটি সিদ্ধান্তের স্বীকারোক্তি।
মাওলানা মামুনুল হকের দাবি, রিজওয়ানা হাসানের বক্তব্যে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত, অন্তর্বর্তী সরকারের অভ্যন্তরে বসেই নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করা হয়েছে এবং জনগণের রায়কে পাল্টে দেওয়ার ষড়যন্ত্র হয়েছে। সুতরাং নির্বাচনী ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সঙ্গে জড়িত সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানসহ সংশ্লিষ্ট সব ব্যক্তিকে আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ এবং বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করতে হবে।
তিনি বলেন, নির্বাচন-পরবর্তীতে সরকার গণভোটের মাধ্যমে জনগণের যে রায় পেয়েছে, তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও দৃশ্যত অনীহা দেখাচ্ছে। জনগণ যখন গণভোটে একটি নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তের পক্ষে মত দিয়েছে, তখন তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার পরিবর্তে আদালতের দিকে দায় ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
এমনকি গণভোট বাতিলের লক্ষ্যে হাইকোর্টে রিট দায়েরের ঘটনাও জনমতের প্রতি অবজ্ঞা এবং চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থী। জনগণের রায়কে সম্মান না করে আইনি জটিলতার আড়ালে তা বিলম্বিত বা বাতিল করার চেষ্টা গোটা জাতিকে রাজপথে নেমে আসতে বাধ্য করবে।
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি তুলে ধরে ২৪ এপ্রিল ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একটি গণসমাবেশ আয়োজন করবে খেলাফত মজলিস।